হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলা: অবশিষ্ট যুক্তি উপস্থাপন ৩১ জানুয়ারি

ঢাকা, রোববার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৫ ১৪২৭,   ১৫ রজব ১৪৪২

হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলা: অবশিষ্ট যুক্তি উপস্থাপন ৩১ জানুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৬ ২৪ জানুয়ারি ২০২১  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ- ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ- ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার অবশিষ্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ৩১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। 

রোববার ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাকসুদা পারভীনের আদালত নতুন এ দিন ধার্য করেন।

এদিন কারাগারে আটক আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। এরপর আদালত অবশিষ্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ৩১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।

এর আগে ১৮ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি সাইফুল ইসলাম হেলাল আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে কারাগারে আটক দুই আসামি পক্ষে তার আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। এ সময় তাদের আইনজীবী আসামিদের নির্দোষ দাবি করে খালাস দাবি করেন। তবে আদালত অবশিষ্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ২৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একুশে গ্রন্থমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে হামলার শিকার হয়ে মারাত্মক আহত হন ড. হুমায়ুন আজাদ। হামলার সময় তাকে চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ওই হামলার পর হুমায়ুন আজাদ ২২ দিন সিএমএইচে এবং ৪৮ দিন ব্যাংককে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে জার্মানির মিউনিখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ১২ আগস্ট তিনি মারা যান।

ওই ঘটনায় পরদিন তার ছোট ভাই মঞ্জুর কবির বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে তা হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়। এছাড়া একই ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনেও অপর একটি মামলা হয়।

পরে ২০০৭ সালের ১১ নভেম্বর মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই অভিযোগপত্রে আবুল আব্বাস ভূঁইয়া ও গোলাম মোস্তফা নামের দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদের অব্যহতি দেওয়া হয়।

আসামিরা হলো- জেএমবির সুরা সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শাউন, আনোয়ার আলম, হাফিজ মাহমুদ, সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন ও নূর মোহাম্মদ ওরফে সাবু।

২০০৯ সালের ৬ অক্টোবর এই মামলার বাদী মো. মঞ্জুর কবির মামলাটির বর্ধিত তদন্তের আবেদন করলে ওই বছরের ২০ অক্টোবর আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। বিভিন্ন সময় মামলাটি তদন্ত করেছেন রমনা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান, সিআইডির পুলিশ ইন্সপেক্টর কাজী আব্দুল মালেক, মোস্তাফিজুর রহমান ও লুৎফর রহমান।

২০১০ সালের ১৮ অক্টোবর আসামি আনোয়ার আলম ওরফে ভাগনে শহিদ আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। এ মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ৫ দফায় বিভিন্ন মেয়াদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তবে শেষ পর্যন্ত এ মামলার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল ওই মামলার তদন্ত শেষে সিআইডির পরিদর্শক লুৎফর রহমান পাঁচ আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর ওই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ