২ হাজার কোটি টাকা পাচার: ফরিদপুরের দুই ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে 

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৩ ১৪২৭,   ১২ রজব ১৪৪২

২ হাজার কোটি টাকা পাচার: ফরিদপুরের দুই ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩৫ ১৯ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৭:০৮ ১৯ জানুয়ারি ২০২১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় ফরিদপুরের দুই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন- কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলায়েত ফকির ও  ইসান গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মজনু।

সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) তাপস কুমার পাল ডেইলি বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

এর আগে এ মামলায় জামিনে থাকা দুই আসামি বেলায়েত ফকির ও শহিদুল ইসলাম মজনু আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

আদালত সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে বেলায়েত ফকির ও  শহিদুল ইসলাম মজনুর জড়িত থাকার বিষয়টা উঠে আসে। এরপর তারা হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। 

গত বছরের ২৬ জুন ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলকে প্রধান আসামি করে অবৈধ উপায়ে দুই হাজার কোটি টাকা আয় ও পাচারের অভিযোগে ঢাকার কাফরুল থানায় মামলাটি দায়ের করে সিআইডি। ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধনী–২০১৫–এর ৪ (২) ধারায় এ মামলা করা হয়। 

এ মামলায় আদালতের মাধ্যমে রুবেল ও বরকতকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। ওই সময় এর সঙ্গে জড়িত অনেকের নাম প্রকাশ করেন তারা। রুবেল-বরকতের স্বীকারোক্তি ও তথ্যানুযায়ী, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহামুদ শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে এ মামলায় শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী ও জেলা শ্রমিক লীগের অর্থ সম্পাদক বেল্লাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য রয়েছে। এ গত ৮ অক্টোবর এ মামলায় সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ পাঁচ জনের ৮৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেন আদালত। 

ব্যাংক হিসাব জব্দ হওয়া অন্য তিনজন হলেন- বরকতের স্ত্রী আফরোজ আক্তার পারভীন, রুবেলের স্ত্রী সোহেলী ইমরোজ পুনম ও আব্দুস সাদেক মুকুল। এর আগে সিআইডি তদন্তের স্বার্থে তাদের প্রত্যকের ব্যাংক হিসাব জব্দের জন্য আদালতে আবেদন করেন। পরে আদালত সিআইডির আবেদন মঞ্জুর করে ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেন। 

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ফরিদপুরের এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি বিভাগের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন সাজ্জাদ ও ইমতিয়াজ। এছাড়া মাদক ব্যবসা, ভূমি দখল করে অবৈধ সম্পদ করেছেন তারা। এসি, নন–এসিসহ ২৩টি বাস, ড্রাম ট্রাক, বোল্ডার, পাজেরো গাড়ির মালিক হয়েছেন।

টাকার উল্লেখযোগ্য অংশ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেন তারা। প্রথম জীবনে এই দুই ভাই রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে এক বিএনপি নেতার ফাইফরমাশ খাটতেন। তখন তাদের সম্পদ বলতে তেমন কিছুই ছিল না। 
এজাহারে আরো বলা হয়, গত বছরের ১৮ জুন তিনি (এস এম মিরাজ) এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়ে তদন্ত শুরু করেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই দুই ভাই অন্তত দুই হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পদ অবৈধ উপায়ে উপার্জন করেছেন। গত ১৬ মে রাতে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটে। সুবল সাহার বাড়ি শহরের গোয়ালচামট মহল্লার মোল্লা বাড়ি সড়কে। এ ঘটনায় গত ১৮ মে সুবল সাহা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।

এ বছরের ৭ জুন রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলার মামলার আসামি হিসেবে শহরের বদরপুরসহ বিভিন্ন মহল্লায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ সাজ্জাদ হোসেন, তার ভাই ইমতিয়াজ হাসানসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/টিআরএইচ