ব্লগার দীপন হত্যা: আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চায় রাষ্ট্

ঢাকা, রোববার   ০৭ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২২ ১৪২৭,   ২২ রজব ১৪৪২

ব্লগার দীপন হত্যা: আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চায় রাষ্ট্রপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৩৮ ১৭ জানুয়ারি ২০২১  

ব্লগার দীপন। ফাইল ছবি

ব্লগার দীপন। ফাইল ছবি

জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী প্রকাশক ও ব্লগার ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। 

রোববার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমানের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার জাকির এ দাবি করেন। 

এদিন রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আসামি আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাবের পক্ষে তার আইনজীবী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এ সময় তাকে নির্দোষ দাবি করে খালাস দাবি করেন। এ সময় আদালত অপর আসামিদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামীকাল সোমবার দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি আত্মপক্ষ সমর্থনে কারাগারে আটক ছয় আসামি আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।

এদিন আসামি খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে জিসানের পক্ষে সাফাইসাক্ষীর জন্য আবেদন করা হয়। এরপর আদালত আবেদন মঞ্জুর করে ১১ জানুয়ারি সাফাইসাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেন। এদিন মামলার আসামি খাইরুল ইসলাম নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষী দেন। 

এ মামলায় মোট ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে দীপন কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।  

ওই দিনই তার স্ত্রী ডা. রাজিয়া রহমান শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। গত বছরের ১৩ অক্টোবর মামলাটির অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। 

এর আগে মামলাটি তদন্ত করে ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর ঢাকা সিএমএম আদালতে ডিবির সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফজলুর রহমান ৮ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। 

অভিযুক্ত আসামিরা হলেন- নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সামরিক শাখার প্রধান ও বরখাস্তকৃত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়া মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান, আবদুর সবুর সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে স্বাদ, খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে জিসান, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, শেখ আব্দুল্লাহ ওরফে জুবায়ের ওরফে জায়েদ ওরফে জাবেদ ওরফে আবু ওমায়ের ও আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আব্দুল্লাহ। 

এ মামলার মোট ৮ আসামির মধ্যে ছয় কারাগারে আটক রয়েছে। কারাগারে আটক প্রত্যেক আসামি আদালতে কার্যবিধি ১৬৪ ধারা অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া অন্য দুই আসামি পলাতক রয়েছে। 

গত বছর ৮ জানুয়ারি মামলাটি বিচারের জন্য সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এরপর গত বছরের ১৯ মার্চ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত পলাতক দুই  আসামি মেজর জিয়া ও আকরামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, দীপনকে হত্যার নির্দেশদাতা, মূল পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে ছিলেন পলাতক সৈয়দ জিয়াউল হক। আসামি খাইরুল, আবদুস সবুর ও মইনুলকে তিনি হত্যাকান্ডের আগে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর