রক্ত আনতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার নারী: তদন্ত প্রতিবেদন ১ ফেব্রুয়ারি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ১৭ ১৪২৭,   ১৭ রজব ১৪৪২

রক্ত আনতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার নারী: তদন্ত প্রতিবেদন ১ ফেব্রুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৩ ১৭ জানুয়ারি ২০২১  

সজীব ও শিল্পী। ফাইল ছবি

সজীব ও শিল্পী। ফাইল ছবি

মুমূর্ষু স্বামীর জন্য রক্ত আনতে গিয়ে এক নারী ধর্ষণের মামলায় আসামি মনোয়ার হোসেন ওরফে সজীব ও মাশনু আরা বেগম ওরফে শিল্পীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পিছিয়েছে।

রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসীর আদালত আগামী ১ ফেব্রুয়ারি নতুন এ দিন ধার্য করেছেন।

এদিন এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় নতুন এ দিন ধার্য করেন।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে রাজধানীর মিরপুরে মনিপুরীপাড়ায় শিফা ভিলা নামের একটি ফ্ল্যাট থেকে তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এরপর গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। এ সময় আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

পরে দুদিনের রিমান্ড শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। 

এ সময় আসামি পক্ষের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে দুই আসামি কারাগারে আটক রয়েছে। 

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে ভুক্তভোগী নারী অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগের ভর্তি করান। দায়িত্বরত চিকিৎসক স্বামীর জন্য রক্ত প্রয়োজন এবং জরুরিভাবে রক্তের ব্যবস্থা করার পরার্মশ দেন। ভুক্তভোগী ওই নারী হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ব্লাড ব্যাংকের সামনে গিয়ে তিন-চারজন পুরুষকে বসা দেখতে পেয়ে রক্তের বিষয়ে জানতে চাইলে মনোয়ার হোসেন ওরফে সজীব রক্তের ব্যবস্থা করে দেবেন বলে জানান।  

পরে গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টার দিকে কৌশলে রক্তের ব্যবস্থা করে দেয়ার নাম করে মিরপুরে শিল্পীর বাসায় নিয়ে যান। বাসায় নিয়ে শিল্পীর সহযোগিতায় তাকে ধর্ষণ করে মনোয়ার। এ সময় বিষয়টি যেন কাউকে না বলে, এজন্য হুমকি দেন। পরে ভুক্তভোগী নারী লোকলজ্জার ভয়ে ও স্বামীর অসুস্থতার কারণে ধর্ষণের বিষয়টি গোপন রাখেন। 

ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার স্বামীর মোবাইলে কল করে তারা বলে রক্তের ব্যবস্থা হয়েছে- আপনার স্ত্রীকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় পাঠিয়ে দেন। তখন ওই নারী পুনরায় ধর্ষিত হওয়ার ভয়ে তার স্বামীকে বিষয়টি খুলে বলেন। 

এ ঘটনায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর ধর্ষণের শিকার নারী বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর