কাকরাইলে মা-ছেলে হত্যা মামলার রায় ১৭ জানুয়ারি

ঢাকা, শনিবার   ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৭,   ১৪ রজব ১৪৪২

কাকরাইলে মা-ছেলে হত্যা মামলার রায় ১৭ জানুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১১ ১০ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৫:২০ ১০ জানুয়ারি ২০২১

কাকরাইলে নিহত মা ও ছেলে- ফাইল ছবি

কাকরাইলে নিহত মা ও ছেলে- ফাইল ছবি

রাজধানীর কাকরাইলে আলোচিত মা ও ছেলে হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ১৭ জানুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলমের আদালত এ দিন ধার্য করেন।

আজ কারাগারে আটক তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামি আব্দুল করিমের পক্ষে তার আইনজীবী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় আসামিকে নির্দোষ দাবি করে খালাস প্রত্যাশা করেন তার আইনজীবী। এরপর আদালত রায়ের জন্য ১৭ জানুয়ারি ধার্য করেন।

এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর আসামি করিমের পক্ষে আংশিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এ সময় আদালত অবশিষ্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ৩ জানুয়ারি ধার্য করেন। 

এদিন আসামি আব্দুল করিমের আইনজীবী অসুস্থ থাকায় যুক্তি উপস্থাপনের জন্য সময়ের আবেদন করেন। এরপর আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ৭ জানুয়ারি নতুন দিন ধার্য করেন।

গত বছরের ৯ ডিসেম্বর দুই আসামি শারমিন আক্তার মুক্তা ও মুক্তার ভাই আল-আমিন ওরফে জনির পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে নির্দোষ দাবি করে তাদের খালাস চেয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিন আসামির সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। গত বছরের ১২ নভেম্বর তিন আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন।

এ মামলায় ২০১৮ সালের ১৬ জুলাই ওই তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. আলী হোসেন। অভিযোগপত্রে তিনজনকে আসামি করা হয়। এই তিন আসামিই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি তিন আসামির অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দিয়ে আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন । একই সঙ্গে আদালত ৭ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন। এরপর গত বছরের ১ নভেম্বর মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখিত মোট ২২ সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১ নভেম্বর কাকরাইলের পাইওনিয়র গলির ৭৯/১ নম্বর বাসায় আবদুল করিমের প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহার করিম (৪৬) ও তার ছেলে শাওনকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পরদিন রাতে নিহত শামসুন্নাহারের ভাই আশরাফ আলী বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় নিহতের স্বামী আব্দুল করিম, করিমের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন মুক্তা ও মুক্তার ভাই জনিসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়। নিহতের স্বামী আবদুল করিম পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী। তিনি আঁদা-রসুন-পেঁয়াজ আমদানিকারক। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা শামসুন্নাহার করিমের স্বামী আবদুল করিম ও করিমের দ্বিতীয় স্ত্রী মডেল শারমিন মুক্তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর ওই বছরের ৩ নভেম্বর দিবাগত রাত ৩টায় গোপালগঞ্জ থেকে মামলার মূল আসামি জনিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৩। তারপর ৫ নভেম্বর জনির ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ/জেডআর