বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিক হত্যা মামলায় সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৫ ১৪২৭,   ০৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিক হত্যা মামলায় সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২০ ২ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৩:৩৩ ২ ডিসেম্বর ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঢাকার কেরাণীগঞ্জের কোন্ডা ইউপির চেয়ারম্যান ও তৎকালীন আওয়ামী লীগের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিক উল্ল্যাহ চৌধুরী হত্যা মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আর এ মামলায় খালাস পেয়েছেন একজন।

বুধবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- গুলজার হোসেন, আশিক, শিহাব আহম্মেদ ওরফে শিবু, আহসানুল কবির ইমন, তাজুল ইসলাম তানু, জাহাঙ্গীর খাঁ ওরফে জাহাঙ্গীর এবং রফিকুল ইসলাম ওরফে আমিন ওরফে টুন্ডা আমিন। আর বেকসুর খালাস পেয়েছেন মামলার অন্য আসামি শম্পা।

এছাড়া আরেকটি ধারায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাত বছর কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের জেল দেয়া হয়েছে।

এর আগে সকাল ৮ টার দিকে কারাগারে আটক তিন আসামি শম্পা, জাহাঙ্গীর ও আহসানুল কবীর আদালত হাজির করা হয়। এ সময় তাদের কারাগারের গারদে রাখা হয়।

এরপর রায় ঘোষণার আগে বেলা পৌনে ১২ টায় তাদের এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১২ টা ৫২ মিনিটে বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। রায় পড়া শেষে বেলা ১ টা ৮ মিনিটে রায় ঘোষণা করেন।

এদিকে জামিনে গিয়ে অপর পাঁচ আসামি পলাতক থাকায় আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন-গুলজার হোসেন, আসিফ, শিহাব আহম্মেদ ওরফে শিবু, তাজুল ইসলাম তানু ও রফিকুল ইসলাম ওরফে আমিন ওরফে টুন্ডা আমিন। এ মামলায় আসামি আসিফ ও শম্পা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

উল্লেখ্য ২০১৩ সালের ১০ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন মুক্তিযোদ্ধা ও ইউপি চেয়ারম্যান আতিক উল্ল্যাহ চৌধুরী। পরদিন ১১ ডিসেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর এলাকার একটি হাসপাতালের পাশ থেকে তার পোড়া বিকৃত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আসামিরা তাকে হত্যা করে এবং মৃতদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে আতিক উল্ল্যাহ চৌধুরীকে পুড়িয়ে ফেলে রাখে। পরে তার সঙ্গে থাকা কাগজ ও এটিএম কার্ড দেখে লাশ শনাক্ত করেন নিহতের ছেলে সাইদুর রহমান ফারুক চৌধুরী।

ঘটনায় নিহতের ছেলে সাইদুর রহমান ফারুক চৌধুরী (বর্তমান কোন্ডা ইউপির চেয়ারম্যান) বাদী হয়ে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। এরপর একই বছরের ২ জুলাই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

এরপর গত ১০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এ মামলা চলাকালীন বিভিন্ন সময় মোট ২১ সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ