‘আবরারের হাতে-পায়ে-পিঠে থেঁতলানো দাগ দেখতে পাই’

ঢাকা, সোমবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৪ ১৪২৭,   ০৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আদালতে চাচার সাক্ষ্য

‘আবরারের হাতে-পায়ে-পিঠে থেঁতলানো দাগ দেখতে পাই’

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:২৯ ২৬ নভেম্বর ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় আবরারের চাচা মোমিরুল ইসলামসহ আরো তিনজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। 

গতকাল বুধবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালতে তারা এ সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য দেয়া অপর দুজন হলেন, বুয়েট মেডিক্যাল সেন্টারের গাড়িচালক আবুল কালাম ও পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. রকিবুল হাসান। এনিয়ে মামলার মোট ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৫ জনের সাক্ষ্য শেষ হলো। 

জবানবন্দিতে মোমিরুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ৭ অক্টোবর ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে আমার বড় ভাই বরকত উল্লাহ আমাকে ফোন দেন। তারপর তিনি জানান, আবরারকে কে বা কারা মেরে ফেলেছে। তাড়াতাড়ি আমি যেন ঢাকায় রওনা দিই। খবর পেয়ে আমি বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হই। ওই দিন রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে আবরারের হাতে, পায়ে ও পিঠে থেঁতলানো দাগ দেখতে পাই। সেদিন রাত ৯ টার দিকে শেরে বাংলা হলে যাই। সেখানে রাসেল, জহুরুল ও রাকিবকে দেখতে পাই। এ সময় হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তখন ২০১১ ও ২০০৫ নম্বর কক্ষ র‍্যাব-পুলিশ ঘিরে রেখেছিল। আর ২০১০ নম্বর কক্ষ থেকে পুলিশ ক্রিকেট স্ট্যাম্প ও চাপাতি উদ্ধার করেছিল।

গতকাল সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার আগে কারাগারে আটক ২২ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাদের উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর তিনজন সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ হলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন।

গত ৫ অক্টোবর এ মামলার বাদী ও আবরারের বাবা বরকতুল্লাহর আদালতে সাক্ষ্য দেন। এর মধ্য দিয়ে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর এ মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত। গত ১৩ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। 

অভিযোগপত্রে ২৫ আসামিকে অভিযুক্ত করেন। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় আবরার ফাহাদকে উদ্ধার করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পরের দিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ হত্যা মামলা করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ