যমজ নবজাতকের মৃত্যু: শুনানিতে চার অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৮ ১৪২৭,   ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

যমজ নবজাতকের মৃত্যু: শুনানিতে চার অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪৭ ২৫ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:০৮ ২৫ নভেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

তিন হাসপাতালে ঘুরে যমজ নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় জারি করা রুল শুনানিতে চিকিৎসা ও আইন বিষয়ে বিশেষ বিশেষজ্ঞের মতামত নেবেন হাইকোর্ট। এজন্য চার অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের আইনি সহায়তাকারী) নিয়োগ দিয়েছেন আদালত।

চার অ্যামিকাস কিউরি হলেন- অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, আইনজীবী শাহদীন মালিক, মনজিল মোরসেদ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের একজন সিনিয়র শিশু বিশেষজ্ঞ।

বুধবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালকুদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

মুগদার ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সুপারিনটেন্ডেন্টের পক্ষে আইনজীবী আব্দুল খালেক, শিশু হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর সৈয়দ শফি আহমেদের পক্ষে আইনজীবী মাহবুব শফিক এবং বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের উপ-পরিচালকের পক্ষে আইনজীবী কাজী এরশাদুল আলম এসব প্রতিবেদন জমা দেন।

গত ২ নভেম্বর অসুস্থ যমজ নবজাতককে কেন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি তার ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বিএসএমএমইউ হাসপাতাল ও ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালককে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

এর আগে, তিন হাসপাতাল ঘুরে যমজ নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা শিশু হাসপাতাল এবং মুগদার ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। একই সঙ্গে অসুস্থ যমজ নবজাতককে হাসপাতালে ভর্তি করতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে আদালত।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক জানিয়েছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের কর্মচারী আবুল কালামের স্ত্রী ২ নভেম্বর সকালে অসুস্থ বোধ করলে হাসপাতালে নেয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। রাস্তায় সিএনজিতে যমজ সন্তান প্রসব করেন আবুল কালামের স্ত্রী সায়েরা খাতুন। পরে মুগদা ইসলামিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভর্তি করেন। এক পর্যায়ে মুগদা হাসপাতাল তাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় ঢাকা শিশু হাসপাতালে রেফার করেন। শিশু হাসপতালে নিয়ে যাওয়া হলে তারা ভর্তি নেয়নি। এরপর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নবজাতক শিশুদের নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও ভর্তি নেয়া হয়নি। অবশেষে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই মারা যায় জমজ নবজাতক। এরপর দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে ন্যায় বিচার চাইতে হাইকোর্টে আসেন তাদের বাবা আবুল কালাম। বিষয়টি হাইকোর্ট নজরে নিয়ে এ আদেশ দেন।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ