শিক্ষার্থী সাওদা হত্যা: রাসেলের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন

ঢাকা, রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৩ ১৪২৭,   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

শিক্ষার্থী সাওদা হত্যা: রাসেলের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৬ ২৩ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৬:১৯ ২৩ নভেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র রাসেল মিয়ার সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাওদা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রাসেলের বিরুদ্ধে এ রায় দেয়া হয়। 

ডেথ রেফারেন্স ও খালাস চেয়ে করা আসামির আপিল আবেদনের ওপর শুনানি শেষে সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি এএসএম আব্দুল মোবিনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, মোহাম্মদ শিশির মনির। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এম. মাসুদ রানা, মো. আসাদ উদ্দিন ও মোহাম্মদ নোয়াব আলী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান।

পরে শিশির মনির জানান, ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নামঞ্জুর করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র রাসেলের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন।

২০১৫ সালের ১ জুন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সাওদা হত্যা মামলায় রাসেলকে মৃত্যুদণ্ড দেয় বরিশালের আদালত। রাসেল মিয়া ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে এ হত্যাকাণ্ডের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন। তার বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটায়। একই উপজেলার আব্দুল রাজ্জাকের মেয়ে সাওদা (২২) বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রেমের সম্পর্ক রাখতে রাজি না হওয়ায় ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাওদাকে কুপিয়ে হত্যা করে রাসেল। এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর রাতে সাওদার মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে বরিশাল কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।  

তৎকালীন শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি ও বর্তমান শিক্ষক সমিতির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আরিফ হোসেন বলেন, রাসেল ও সাওদা আমাদের শিক্ষার্থী। এটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। সাওদাকে বাঁচানোর জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে উন্নত চিকিৎসারর জন্য দ্রুত ঢাকায় পাঠিয়েছি। কিন্তু সাওদা আমাদের মাঝে ফেরেনি। হাইকোর্ট যেহেতু রায় দিয়েছে তাই এই রায়ের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। সাওদার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব)  অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুহসিন উদ্দিন জানান, হাইকোর্টের রায়ের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। তবে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে বেশি খুশি হতাম। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ববির সাবেক শিক্ষার্থী ও রাসেলের এক সহপাঠী বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আদালতের যেকোনো রায়ের বিরোধিতা করার সুযোগ নেই। তবে রাসেলের সহপাঠী হিসেবে আমি এ রায়ে অনেক খুশি এবং আনন্দিত। রাসেল খুনি, মানছি। কিন্তু আমার চোখের সামনে দিয়ে দেখেছি একটি মেয়ে কিভাবে রাসেলকে খুনি রাসেল বানিয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/জেডএম