যৌন হয়রানি বন্ধে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে তিন মন্ত্রণালয়

ঢাকা, শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৭,   ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

যৌন হয়রানি বন্ধে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে তিন মন্ত্রণালয়

আহমেদ তানভীর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪২ ৩০ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২০:০১ ৩০ অক্টোবর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানি বন্ধে উচ্চ আদালতের রায়ের সাত দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকারের তিন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়গুলো হলো- আইন, শ্রম ও কর্মসংস্থান, মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়।

তিন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে প্রাথমিক খসড়া তৈরি হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আইন মন্ত্রণালয় অন্য দুই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এই খসড়ার উপর আলোচনা করে চূড়ান্ত করার পর মন্ত্রীসভায় উপস্থাপন করা হবে।

হাইকোর্টের ওই রায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানির বিষয়ে অভিযোগ কেন্দ্র গঠন এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্যাতিত ও অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ না করার কথাও বলা হয়।

রায়ে বলা হয়, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে অভিযোগ কেন্দ্র থাকবে। এই অভিযোগ কেন্দ্র পরিচালনার জন্য ন্যূনতম পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি থাকবে; আর কমিটির প্রধান হবেন একজন নারী। এছাড়া কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ নারী সদস্য থাকবেন। কমিটি যৌন হয়রানির কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত ও অনুসন্ধান শেষে পুলিশের কাছে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাঠাবে। এরপর দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধের ধরন ও মাত্রা বুঝে বিচার বিভাগ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

রায়ে আরো উল্লেখ করা হয়, কমিটি নির্যাতন সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং পুলিশের কাছে অপরাধীকে না পাঠানো পর্যন্ত নির্যাতিত ও অভিযুক্ত ব্যক্তির কোনো পরিচয় প্রকাশ করতে পারবে না। রায়ে বলা হয়, যতদিন পর্যন্ত জাতীয় সংসদে যৌন হয়রানি রোধে কোনো আইন প্রণয়ন করা না হয়, ততদিন বাংলাদেশ সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টের দেয়া এ নীতিমালা বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, হাইকোর্ট ওই রায় ঘোষণার পর ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, উচ্চ আদালতের এই আদেশ একেবারেই বাস্তবায়িত হয়নি তা নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হয়নি। এই ধরনের নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের দুই ধরনের নিষ্ক্রিয়তা দেখা যায়। প্রথমত বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের অবহেলা, দ্বিতীয়ত প্রভাবশালীদের ক্ষমতার প্রভাব। আমাদের চিহ্নিত করতে হবে কোন কারণে নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সেটি নির্ধারণ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। 

তিনি বলেন, সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর করা সবার জন্যই বাধ্যতামূলক। এই রায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে যৌন হয়রানি অনেকটাই কমে আসবে।

মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ফাওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, যৌন হয়রানি বন্ধে উচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কয়েক দফা চিঠি দেয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারো তাদের সঙ্গে আলোচনা করে উচ্চ আদালতের আদেশ পুরোপুরি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, যৌন হয়রানি বন্ধে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা চেয়ে ২০০৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। ওই রিট নিষ্পত্তি করে ২০০৯ সালের ১৪ মে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন (বর্তমান প্রধান বিচারপতি) ও বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট যৌন নিপীড়নের সংজ্ঞাসহ যৌন হয়রানি রোধে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়ে মামলাটির রায় ঘোষণা করেন।

যৌন নিপীড়নের সংজ্ঞায়- শারীরিক ও মানসিক যেকোনো ধরনের নির্যাতনই যৌন হয়রানির মধ্যে পড়ে। ই-মেইল, এসএমএস, টেলিফোনে বিড়ম্বনা, পর্নোগ্রাফি, যেকোনো ধরনের চিত্র, অশালীন উক্তিসহ কাউকে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে সুন্দরী বলাও যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। শুধু কর্মস্থল কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এ ধরনের হয়রানি ঘটে না, রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের অশালীন উক্তি, কটূক্তি করা, কারো দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকানো প্রভৃতি যৌন হয়রানি হিসেবে গণ্য করা হবে। 

রায়ে বলা হয়, কোনো নারীকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, যেকোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা, মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক স্থাপন, অশালীন চিত্র দেয়াল লিখন, আপত্তিকর কিছু করাও যৌন হয়রানির মধ্যে পড়ে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ/এমকেএ