সগিরা মোর্শেদ হত্যা: ভাসুরসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ৭ অক্টোবর

ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৩ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সগিরা মোর্শেদ হত্যা: ভাসুরসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ৭ অক্টোবর

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৩ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৫:৫৩ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে ৩০ বছর আগে চাঞ্চল্যকর সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলায় তার ভাসুরসহ চারজনের বিরুদ্ধ অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

সোমবার মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে নতুন এ দিন ধার্য করেন।

এর আগে ৯ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ পিবিআইয়ের দেয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। ১৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে সগিরার ভাসুরসহ চারজনকে আসামি করে এক হাজার ৩০৯ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম।

মামলার আসামিরা হলেন- সগিরা মোর্শেদের ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীন, হাসান আলীর শ্যালক আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান এবং ভাড়াটে খুনি মারুফ রেজা।

জানা গেছে, ঢাকার রাজারবাগ পেট্রোল পাম্পের কাছের ৯৫৫ নম্বর আউটার সার্কুলার রোডের পৈত্রিক বাড়ির দ্বিতীয় তলায় বসবাস করত সগিরা। তৃতীয় তলায় থাকত মাহমুদা শাহীন। উপর থেকে ময়লা ফেলার প্রতিবাদ করায় এবং সগিরার গৃহকর্মী জাহিনুর বেগম একদিন ভুলবশত মাহমুদা শাহীনের দরজার সামনে থু থু ফেললে দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে।

সগিরা মোর্শেদকে শায়েস্তা করার জন্য শাহীনের স্বামী ডা. হাসান আলী তার রোগী তৎকালীন সিদ্বেশ্বরী এলাকার নামকরা সন্ত্রাসী মারুফ রেজাকে বলেন। মারুর রেজা তৎকালীন এরশাদ সরকারের প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসানের আপন ভাগ্নে। ডা. হাসান আলী চৌধুরী সগিরা মোর্শেদকে শায়েস্তা করার জন্য মারুফ রেজাকে ২৫ হাজার টাকা দেয়। এছাড়া তিনি তার শ্যালক আনাস মাহমুদ রেজোয়ানকে মারুফ রেজার সহযোগী হিসেবে কাজ করতে পাঠান।

১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই বিকেলে আনাস মাহমুদ রেজওয়ান ও মারুফ রেজা মোটরসাইকেলযোগে সগিরার পিছু নেয়। রিকশাযোগে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে গেলে মোটরসাইকেল দিয়ে তারা রিকশা অবরোধ করে। মারুফ রেজা সগিরার হাতে থাকা স্বর্ণের বালা ও হাতব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।

আনাস মাহমুদকে সগিরা চিনে ফেলে ধমক দেন। এ সময় মারুফ রেজা সগিরার হাতব্যাগ ছেড়ে দিয়ে সগিরাকে কোমর থেকে রিভলভার বের করে গুলি করে। প্রথম গুলিটি সগিরার হাতে লাগে। দ্বিতীয় গুলিটি বাম বুকে বিদ্ধ হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সগিরার মৃত্যু হয়। মারুফ রেজা আরো দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে মোটরসাইকেলযোগে দু’জনই পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ওইদিনই সগিরার স্বামী আব্দুস সালাম চৌধুরী রমনা থানায় মামলা করেন। পরে মিন্টু ওরফে মন্টু ওরফে মরণের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ।

১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি আসামি মন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক। সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষীতে মারুফ রেজা নামে এক ব্যক্তির নাম আসায় অধিকতর তদন্তের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

ওই বছরের ২৩ মে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন আদালত। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন মামলা (১০৪২/১৯৯১) করেন মারুফ রেজা। যিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়। ১৯৯১ সালের ২ জুলাই ওই তদন্তের আদেশ ও বিচারকাজ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তদন্তের আদেশ কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। ১৯৯২ সালের ২৭ আগস্ট ওই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার বিচারকাজ স্থগিত থাকবে মর্মে আরেকটি আদেশ দেয়া হয়।

২০১৯ সালের ২৬ জুন এ মামলার ওপর ২৮ বছর ধরে থাকা স্থগিতাদেশ তুলে নেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে মামলা ৬০ দিনের মধ্যে পিবিআই অধিকতর তদন্ত শেষ করতে নির্দেশ দেন। একই বছরের ২০ নভেম্বর পিবিআইয়ের হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তদন্তের জন্য তাদের আরো ৬০ দিনের সময় দেন। 

এরপর পিবিআই বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেফতার করে। চারজনই হত্যার দায় স্বীকার করে বিচারিক আদালতে জবানবন্দি দেন।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর