হাত নেই, পা অচল, ঠোঁট দিয়েই সংসার চালান এমদাদুল

ঢাকা, শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১১ ১৪২৭,   ০৮ সফর ১৪৪২

হাত নেই, পা অচল, ঠোঁট দিয়েই সংসার চালান এমদাদুল

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:০৪ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৪:১১ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

হুইলচেয়ারের সঙ্গে বিশেষ কায়দায় আটকানো ক্যানভাসে ছবি আঁকেন এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিম

হুইলচেয়ারের সঙ্গে বিশেষ কায়দায় আটকানো ক্যানভাসে ছবি আঁকেন এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিম

হাত নেই, পা থেকেও অচল। তবু দমে যাননি এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিম। ঠোঁট দিয়ে তুলি চেপে ধরে একের পর এক ছবি এঁকে চলেছেন। আর সেই ছবি বিক্রির টাকায় নিজের চিকিৎসা ও সংসারের খরচ জোগাচ্ছেন তিনি।

এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিম নওগাঁর মান্দা উপজেলার বালুবাজার গ্রামের বাসিন্দা।

জন্ম থেকেই এমন ছিলেন না ইব্রাহিম। হাত-পা সবই ছিল সুস্থ ও স্বাভাবিক। ২০০৫ সালে দিনাজপুরে পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান হিসেবে কাজ করার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি।  দুর্ঘটনার পর দিনাজপুর সদর হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সাভারের সিআরপিতে চিকিৎসা নেন আট বছর। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। কেটে ফেলতে হয় দুই হাত। পা দুটি অচল হয়ে পড়ে। এরপরও হাল ছাড়েননি। হুইলচেয়ারের সঙ্গে বিশেষ কায়দায় লাগানো ক্যানভাসে এঁকে চলেছেন নানা ছবি।

ঠোঁটে তুলি চেপে ধরে ছবি আঁকছেন এমদাদুল

ইব্রাহিম জানান, দুর্ঘটনার পর সিআরপিতে থাকা অবস্থায় সবার কাছে শুনেছেন, লাভলি নামের একজন মুখ দিয়ে ছবি আঁকেন। লাভলির গল্প শুনে তিনি অনুপ্রাণিত হন। চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলে ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (পিডিএফ) নামে একটি সংগঠনের সহযোগিতায় শুরু করেন মুখ দিয়ে ছবি আঁকা। ওই সংগঠনের উদ্যোগে বনানীর লীলা গ্যালারিতে ২০১৬ সালে তাঁর আঁকা ছবির একক প্রদর্শনী হয়েছে।

ইব্রাহিম বলেন, প্রথম দিকে ছবি আঁকতে সমস্যা হতো।  তবে এখন আর সমস্যা হয় না।  ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছবি আঁকতে পারি। এ পর্যন্ত দুই হাজার ছবি এঁকেছি। ঢাকায় থাকা অবস্থায় যেসব এঁকেছি, এর প্রায় সব বিক্রি হয়ে গেছে। ঢাকার লোকজন ছবির কদর বুঝতো।  কিন্তু গ্রামে আসার পর ছবি তেমন বিক্রি হচ্ছে না।

হুইলচেয়ারের সঙ্গে বিশেষ কায়দায় আটকানো ক্যানভাসে ছবি আঁকেন এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিম

শারীরিকভাবে অক্ষম হওয়ায় এখন দৈনন্দিন কাজ ও ছবি আঁকায় সহায়তা করেন ইব্রাহিমের অসুস্থ মা। ছবি বিক্রির টাকা থেকে সংসারের খরচ দেন তিনি। দুর্ঘটনার পর চিকিৎসার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিম।

তিনি বলেন, বাড়িতে থেকে আঁকা ছবি বিক্রি করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সুযোগ পেলে ঢাকা কিংবা বড় কোনো শহরে নিজের আঁকা ছবির প্রদর্শনী করে, ছবি বিক্রি করে নিজের চিকিৎসার খরচ ও সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে চাই।

রাজধানীর বনানীর লীলা গ্যালারিতে এমদাদুলের একক প্রদর্শনী হয়

জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক নূর মোহাম্মদ জানান, ইব্রাহিমকে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড করে দেয়া হয়েছে। তার প্রতিভা মূল্যায়ণ করে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর