সৌদি আরবও ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে: ট্রাম্প

ঢাকা, শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১০ ১৪২৭,   ০৭ সফর ১৪৪২

সৌদি আরবও ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৬ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে ইসরায়েলের ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিতে মধ্যস্ততা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রত্যাশা সৌদি আরবও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, চুক্তি শেষে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এমন কথা বলেন।

মধ্যপ্রাচ্যের দুই আরব দেশের পদক্ষেপ সৌদিও অনুসরণ করবে কিনা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, আমি সৌদি আরবের সঙ্গে কথা বলেছি। ‘সঠিক সময়ে’ এই সিদ্ধান্ত আসবে। এছাড়াও সাত থেকে ৯টি দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ করবে।

এদিকে আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে ইসরায়েলের চুক্তির দিনটিকে ‘নতুন মধ্যপ্রাচ্যের ভোর’ বলে আখ্যায়িত করেছেন ট্রাম্প।

মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ইসরায়েল নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখার চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এমন কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম হওয়ার পর বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তৃতীয় ও চতুর্থ উপসাগরীয় দেশ হিসেবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিল। এর আগে ১৯৭৯ সালে মিসর এবং ১৯৯৪ সালে জর্ডান ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন, অন্যান্য দেশও আমিরাত ও বাহরাইনের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে। এদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বন্দ্বের সমাধান হওয়ার আগ পর্যন্ত তেমনটি যেন না হয়, সে আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিন।

বছরের পর বছর ধরে সিংহভাগ আরব দেশ ইসরায়েলকে বয়কট করে এসেছে। আরব দেশগুলোর বক্তব্য ছিল, ফিলিস্তিনের সঙ্গে ইসরায়েলের বহু বছর ধরে চলা দ্বন্দ্বের সমাধান হলেই কেবল তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে।

স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জড়ো হওয়া কয়েকশ মানুষের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘কয়েক দশকের বিভক্তি ও সংঘাতের পর আমরা নতুন এক মধ্যপ্রাচ্যের উত্থানের সূচনা করছি।’

ট্রাম্প আরো বলেন, আজ আমরা এখানে ইতিহাস বদলে দিতে জড়ো হয়েছি।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ আল জায়ানি নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘এই দিনটি ইতিহাস পরিবর্তনের ক্ষণ, শান্তির নতুন দিগন্তের সূচনা।’

তবে ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, অধিকৃত অঞ্চল থেকে ইসরায়েল সরে গেলেই কেবল মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

সংবাদ সংস্থা এএফপির খবর অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের পর মাহমুদ আব্বাস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসরায়েলের অধিগ্রহণের সমাপ্তি না হলে ওই অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরবে না।’

ওদিকে যখন চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছিল, সে সময়ও গাজা উপত্যকা থেকে দুটি রকেট ইসরায়েলের দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ