যেখানেই নামুন ফুল ভাড়া

ঢাকা, শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১২ ১৪২৭,   ০৯ সফর ১৪৪২

যেখানেই নামুন ফুল ভাড়া

জাফর আহমেদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৩৩ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৮:৩৩ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রাজধানীতে সিটিং সার্ভিসের নামে চলা গণপরিবহনগুলোতে ওয়েবিলের নামে বাড়তি ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে। বাসে উঠলেই ওয়েবিলের দোহাই দিয়ে নেয়া হচ্ছে ফুল বা পূর্ণ ভাড়া। আর এ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চলে প্রতিনিয়ত। পরিবহন সংকটের কারণে এভাবেই চলতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা।

গাড়ির চেকাররা ওয়েবিলে স্বাক্ষর করে দিলে পরবর্তী চেকার আসার আগ পর্যন্ত যাত্রী যেখানেই নামুক তাদের ফুল ভাড়া দিয়ে নামতে হয়। অথচ ওয়েবিল লেখার পর যেসব যাত্রী ওঠে তাদেরও ফুল ভাড়া দিতে হয়। হেলপাররা বলেন, ওয়েবিলে স্বাক্ষর হয়ে গেছে ফুল ভাড়া দিতেই হবে, না হলে মালিক বেতন থেকে কেটে নেবে।

বাসের চেকার ওয়েবিলে স্বাক্ষর করছেন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গাড়িতে কতজন যাত্রী আছে, পরবর্তী স্টেশনে যাত্রী নিয়ে গেলে কত টাকা ভাড়া পাবে এবং গাড়ির হেলপার ও সুপাভাইজার যেন যাত্রীর সংখ্যা কমিয়ে টাকা মেরে দিতে না পারে মূলত সেই কারণেই  ওয়েবিল লেখা হয়। ওয়েবিল লেখার পরে রাস্তা থেকে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানোর নিয়ম নেই। বিশেষ করে বাসের সিট সংখ্যার অতিরিক্ত ওঠানো বা যাত্রী দাঁড় করিয়ে নেয়া যাবে না। কিন্তু সে চিত্র বর্তমানে  সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে গেছে।

২০১৬ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকার বাস ও মিনিবাসের নির্ধারিত ভাড়া ছিলো কিলোমিটার প্রতি এক টাকা ৭০ পয়সা, কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগ ছিল নির্ধারিত রেটের চেয়েও বেশি ভাড়া আদায় হচ্ছে। গেটলক ও লোকাল নামে কোনো কিছু ছিল না ভাড়া বিষয়ক প্রজ্ঞাপনে। কিন্তু গেটলক বা সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে থাকেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।

গত কয়েক দিন সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর সদরঘাট, গুলিস্তান, শাহবাগ, নীলক্ষেত, ফার্মগেট এবং ভিআইপি সড়ক, প্রগতি সরণি ও মিরপুর রোডসহ প্রতিটি রুটেই বেড়েছে যাত্রীর চাপ। অফিস সময়ের আগে ও পরে চাপ বেশি দেখা গেছে। এ সময়ে বাসগুলোর সব সিট যাত্রীতে পূর্ণ থাকে। এরপরও দাঁড় করিয়ে যাত্রী নেয়া ও বাড়তি ভাড়াও নিতেও দেখা গেছে।

এদিকে কোথাও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা দেখা যায়নি। আর করোনার সচেতনতার কথা বলাই বাহুল্য। পরিবহন মালিক, চালক ও কন্ডাক্টররা ওয়েবিলের নামে সিটিং সার্ভিস বলে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন। সিটিং সার্ভিস বলে দাঁড় করিয়ে যাত্রী নেয়া নিষেধ সত্ত্বেও দুই একটি পরিবহন ছাড়া সব বাসেরই একই অবস্থা। 

বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা শরিফুল্লা আজমেরি নামের এক যাত্রী বলেন, আমি বনানী থেকে ওঠেছি যাব শান্তি নগর; কিন্তু আমার কাছ থেকে গুলিস্তানের ভাড়া রাখা হয়েছে। বাসের কন্ডাক্টর বলেছে, শান্তি নগর আর গুলিসস্থানের ভাড়া একই। বিহঙ্গ পরিবহনের যাত্রী রুহুল বলেন, সদরঘাট থেকে শাহবাগ যাব, ভাড়া রেখেছে ১৫ টাকা অথচ ফার্মগেটের ভাড়াও ১৫ টাকা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ওয়েবিলের নামে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে। শাহবাগ গেলেও ফার্মগেটের ভাড়া দিতে হচ্ছে। আবার দাঁড় করিয়েও যাত্রী নেয়া হচ্ছে। গণপরিবহনের মালিকদের এই নিয়ম যাত্রীরা মানবে কেন? এটা সরকার দ্বারা অনুমতি প্রাপ্ত নয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ