ভারতের নতুন সংসদ ভবন তৈরির দায়িত্ব পেলো টাটা প্রজেক্টস

ঢাকা, শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১১ ১৪২৭,   ০৮ সফর ১৪৪২

ভারতের নতুন সংসদ ভবন তৈরির দায়িত্ব পেলো টাটা প্রজেক্টস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:১১ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নতুন করে সাজানো হবে ভারতের সংসদ ভবন। এবার সেই প্রকল্পের দায়িত্ব পেয়েছে টাটা প্রজেক্টস লিমিটেড। ৮৬১ দশমিক ৯০ কোটি টাকার সর্বনিম্ন দরপত্র দিয়ে এই প্রকল্প জিতে নিয়েছে ‘টাটা প্রজেক্টস’। অর্থাৎ প্রায় ৮৬২ কোটি টাকায় নতুন সংসদ ভবন তৈরির দায়িত্ব তুলে দেয়া হয়েছে টাটার হাতে।

আগামী ২১ মাসের মধ্যে নতুন সংসদ ভবন তৈরির কাজ শেষ করতে হবে। ল্যারসেন অ্যান্ড টুবরো, সাপুরজি-সহ মোট ৭টি সংস্থা এই প্রকল্পের জন্যে দরপত্র জমা দিয়েছিলো। তবে অবশেষে সবচেয়ে কম টাকায় দরপত্র দিয়ে এই প্রকল্প করার ছাড়পত্র পেয়েছে টাটা। এই প্রকল্পের জন্য সর্বাধিক ৯৪০ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছিলো।

উল্লেখ্য, বুধবারই এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়। নতুন এই সংসদ ভবন বর্তমান সংসদ ভবনের পাশেই হবে। তবে বর্তমান সংসদ ভবনের মতো গোলাকার হবে না এটি। নতুন ভবনটি হবে ত্রিকোণাকার। সংসদে ৯০০ থেকে ১২০০ সাংসদের বসার আসন থাকবে। প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে ইন্ডিয়া গেট পর্যন্ত তিন কিলোমিটার জুড়ে হবে সেন্ট্রাল ভিস্টা।

ভারতের এই অর্থনৈতিক অবস্থায় কেন নতুন করে সংসদ ভবন গঠন করা হবে এই নিয়ে প্রশ্ন করেছেন অনেকে। কর্তৃপক্ষের মতে, বর্তমান সংসদ ভবনটিতে সংস্কারের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। সংস্কারের পরে পুরনো ভবনটি অবশ্য অন্য কাজে ব্যবহার করা হবে। চলতি বছরের শুরুর দিকেই নতুন সংসদ ভবন তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। তবে সেই সময় সরকারের যুক্তি ছিলো বর্তমান ভবনের কাঠামোটি ব্রিটিশ আমলে তৈরি। ফলে বহুদিন রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি, তাই এই ভবনটি অনেকটা মেরামতির প্রয়োজন।

যদিও নতুন সংসদ ভবন নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। নতুন সংসদ ভবনের নকশা তৈরির দায়িত্ব বিনা টেন্ডারে কেন গুজরাটের আর্কিটেক্ট বিমল প্যাটেলের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিলো তা নিয়ে সংসদে সরব হয়েছিল বিরোধী দল। এই নকশা তৈরির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে কনসালটেন্সি ফি হিসেবে বিমল প্যাটেলের সংস্থা এইচসিপি-কে ২৩০ কোটি টাকা দেয়ার কথা বলা হয়। এই টাকার পরিমাণ কিভাবে নির্ধারিত করা হয়েছে সেটি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা। বিমল প্যাটেলের সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়ার আগে কেন সব দলের সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি তা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ব্যক্ত করেন বিরোধী দলগুলো।

বিরোধী দলের দাবি ছিলো, গ্লোবাল টেন্ডার না ডেকেই নতুন সংসদ ভবনের নকশা তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে গেরুয়া শিবিরের স্নেহধন্য গুজরাটের নির্মাণ ব্যবসায়ী বিমল প্যাটেলের হাতে। প্রাথমিকভাবে ৬টি বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়ার জন্য বাছাই করা হয়েছিলো। তবে শেষ পর্যন্ত বিমল প্যাটেলের এইচসিপি ডিজাইন সংস্থা দায়িত্ব পান এটির।

জানা গেছে, ২০২২ সালের শুরুতেই নতুন সংসদ ভবন তৈরির কাজ শেষ করতে হবে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই নতুন ইতিহাস গড়ার দিনক্ষণ বেঁধে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০২২ সালের ২৬ জানুয়ারি নতুন সংসদ ভবনের সম্ভাব্য উদ্বোধনের তারিখও স্থির করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে। দেশের স্বাধীনতার ৭৫ তম বছরে প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনই প্রধানমন্ত্রীর হাতে যাতে নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধনের কাজ করা সম্ভব হয় সেটি নিশ্চিত করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

সূত্র- এইসময়

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ