বাড়তি ফির সঙ্গে নেয়া হয় চায়ের বিলও
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=206103 LIMIT 1

ঢাকা, বুধবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ৮ ১৪২৭,   ০৫ সফর ১৪৪২

বাড়তি ফির সঙ্গে নেয়া হয় চায়ের বিলও

রিফাত আহমেদ রাসেল, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১৮ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নির্দেশ দেয় সরকার। একইসঙ্গে ভর্তি ফি মাত্র এক হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। তবে সরকারি এ নির্দেশনা অমান্য করে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের সুসং সরকারি কলেজে বাড়তি টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সুসং সরকারি কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয় ১৩ সেপ্টেম্বর। এখানে ভর্তি ফি ছাড়াও প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কলেজের উন্নয়ন, বিদ্যুৎ বিল, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ক্রয়, শিক্ষকদের বেতন, শ্রেণিকক্ষ মেরামত, ইন্টারনেট বিলসহ বিভিন্ন খাত দেখিয়ে অতিরিক্ত ১১০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। এছাড়া ভর্তি কার্যক্রমে নিয়োজিত শিক্ষকদের চা-নাশতা খরচ ও ভর্তি ফরমের জন্য নেয়া হয় আরো ১৫০ টাকা।

এখানেই শেষ নয়; এ কলেজে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার অগ্রিম ফি দিতে হয়েছে ৪২০ টাকা করে। সব মিলিয়ে মানবিক ও ব্যবসা শাখার শিক্ষার্থীদের গুনতে হয়েছে ২৬৫০ আর বিজ্ঞান শাখায় ২৯২০ টাকা। রশিদে ২৬৫০ এর পরিবর্তে ২৫২০ এবং ২৯২০ এর জায়গায় ২৭২০ টাকা উল্লেখ করা হয়। তবে কোন খাতে কত টাকা নেয়া হয়েছে তা লেখা হয়নি।

এছাড়া ফরম ফি ও চা-নাশতার জন্য নেয়া ১৫০ টাকাও লেখা হয়নি রশিদে। আর অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও জানেন না অগ্রিম পরীক্ষার ফি নেয়ার বিষয়টি।

এ বছর সুসং সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর ধারণ ক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় এক হাজার ২৫ জন। এরমধ্যে মানবিক শাখায় ৭২৫, ব্যবসা শাখায় ১৫০ ও বিজ্ঞান শাখায় ১৫০টি আসন রয়েছে। ১৩ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মানবিক শাখায় ৭২৩ জন, ব্যবসা শাখায় ৪৫ জন ও বিজ্ঞান শাখায় ৬৭ জন ভর্তি হয়েছেন। এ হিসাব অনুযায়ী কলেজের উন্নয়ন খাতের নামে নয় লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা আর ফরম বা চা-নাশতার খরচ বাবদ এক লাখ ২৫ হাজার ২৫০ টাকা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ রয়েছে দুর্গাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ, মফিজ উদ্দিন তালুকদার কলেজ ও ডন বস্কো কলেজের বিরুদ্ধেও। আর শুধুমাত্র ভর্তি ফরম বিক্রি করেই শিক্ষার্থী প্রতি ৭০ টাকা করে নিয়েছে দুর্গাপুরের নবনির্মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ডন বস্কো কলেজ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, সুসং সরকারি কলেজে টাকা জমা দিলে ভর্তি ফরম দেয়া হয়। টাকা না দিলে ফরম দেন না শিক্ষকরা। এছাড়া রশিদে কোন খাতে কত টাকা নেয়া হচ্ছে তাও উল্লেখ করা হয় না। টাকার বিষয়ে শিক্ষকদের কিছু জিজ্ঞেস করলেও তারা বলেন না।

সুসং সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, ভর্তি কার্যক্রম চালানোর জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে ফি নির্ধারণ করা হয়। সরকারি নির্দেশনা মেনে চলছি।

তিনি বলেন, কলেজে উন্নয়নের জন্য আমাদের একটি ফান্ড রয়েছে। ভর্তি কার্যক্রমের সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফান্ডের জন্যও টাকা নেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ক্রয়, চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা, কিছু শিক্ষকদের বেতনও উন্নয়ন ফি থেকেই দেয়া হয়। আর এ বছর পরীক্ষামূলক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফিও অগ্রিম নেয়া হয়েছে।

অনেক সময় ভাঙা শ্রেণিকক্ষের মেরামত ও শিক্ষকদের চা-নাশতার খরচ নিজেরা বা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হয় বলেও জানান অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান।

নেত্রকোনার ডিসি কাজি আব্দুর রহমান জানান, কলেজে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কোনো বিধান নেই। এরপরও যেসব প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নিয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়েছে। কী কারণে তারা অতিরিক্ত টাকা নিয়েছে তা পর্যালোচনা করা হবে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর