ধর্ষণচেষ্টা মামলায় জামিন পেয়ে ‘বরের সাজে’ ৮০ বছরের বৃদ্ধের মহড়া

ঢাকা, রোববার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৭,   ১০ সফর ১৪৪২

ধর্ষণচেষ্টা মামলায় জামিন পেয়ে ‘বরের সাজে’ ৮০ বছরের বৃদ্ধের মহড়া

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৪২ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:৫৪ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

শিশু ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি ৮০ বছর বয়সী মতিউর রহমান। কিছুদিন আগে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। দীর্ঘদিন ধরে পালিয়ে থাকলেও জামিন নিয়ে প্রাইভেটকারে চড়ে এলাকায় আসেন। গাড়ি থেকে নামার পর তাকে ফুলের মালা পরিয়ে ও ফুল ছিটিয়ে বরণ করে নেন তার পক্ষের লোকজন। তাকে নিয়ে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার নিয়ে মহড়াও দেন তারা। করা হয় মিষ্টি বিতরণ।

সোমবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার হীরাপুর গ্রামে। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। মতিউর রহমানের ফুলের মালা পরা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। অনেকে এ নিয়ে সমালোচনা করেছেন।

জানা গেছে, ১৫ জুলাই সকালে দ্বিতীয় শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে মজা খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে একটি পরিত্যক্ত ঘরের বারান্দায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন মতিউর রহমান। এ সময় শিশুটির চিৎকারের আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করেন। বিষয়টি টের পেয়ে মতিউর রহমান পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগী শিশুটির মামা বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানান। দীর্ঘদিন বিচার না পেয়ে ১৭ আগস্ট মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে আখাউড়া থানায় মামলা করেন ওই ছাত্রীর মা। ওই মামলায় ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান মতিউর রহমান।

জামিন পেয়ে সোমবার বিকেলে এলাকায় পৌঁছালে তাকে ফুলের মালা পরিয়ে ও ফুল ছিটিয়ে বরণ করে নেয় তার পক্ষের লোকজন। পরে ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেল ও কয়েকটি প্রাইভেটকার নিয়ে ফুলের মালা গলায় পরিয়ে এলাকায় মহড়া ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এ সময় তার ছেলেরা বলেন, ‘আমাদের বাবা ওমরা হজ করে এসেছেন।’

একই গ্রামের বৃদ্ধ আবুল খায়ের বলেন, সোমবার মতিউর রহমান জামিন পেয়ে এলাকায় আসেন। এরপর বাবার গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেন ছেলে অ্যাডভোকেট মিলন। এছাড়া কয়েকটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল নিয়ে এলাকায় মহড়া দেন। আমাদের মিষ্টি খাওয়ার দাওয়াত দেয়া হয়। তবে আমরা যাইনি।

আখাউড়া স্থলবন্দরে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী ও হিরাপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, মতিউর রহমান আমার আপন মামা হন। তিনি যে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন তার সত্যতা পেয়েছি। চেষ্টা করেছি পরিবারের লোকজন নিয়ে মেয়ের পক্ষের সঙ্গে সমাধান করার জন্য। জামিনে এসেই গলায় ফুলের মালা পরে এলাকায় মহড়া ও মিষ্টি বিতরণ করেছে- এটা ভালো করেননি।

ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, আসামি জামিন পেয়ে খুশিতে মিষ্টি বিতরণ করেছে। ফুলের মালা পরে আমাদের বাড়ির পাশে মিছিল করে গেছে। তারা প্রভাবশালী। আমাদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। আমরা আতঙ্কে আছি।

মতিউর রহমানের ছেলে অ্যাডভোকেট মিলন বলেন, আমার বাবাকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক ফাঁসানোর জন্য মামলা দিয়েছে। হাইকোর্ট আমার বাবার বয়স বিবেচনা করে জামিন দিয়েছেন।

অভিযুক্ত মতিউর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। আমি মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলি। তাই আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর