সংস্কার করা হচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ সব আশ্রয়কেন্দ্র

ঢাকা, শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১০ ১৪২৭,   ০৭ সফর ১৪৪২

সংস্কার করা হচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ সব আশ্রয়কেন্দ্র

শাহাদাত হোসেন রাকিব ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২৩ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৩:৫৭ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

দেশে বেশ কয়েকটি  বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রের ত্রুটি ধরা পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সংস্কারে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যা, সাইক্লোন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মানুষের জীবন, সম্পদ, আশ্রয়স্থল, গবাদিপশু ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। তাই এসব অঞ্চলের জনগণের সুরক্ষার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং মেরামতের জন্য প্রকল্প নেয়া হয়।

জানা গেছে, এ প্রকল্পের আওতায় ১০১টি বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৬৬টির ত্রুটি পেয়েছে আইএমইডি। এসব ত্রুটিপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি নতুন ও ৩৯টি পুরনো।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর পানি সরবরাহের ত্রুটির কারণে বিদ্যমান টয়লেটগুলো সঠিকভাবে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে না। দেয়ালে নোনা ধরেছে। দেয়াল ও মেঝেতে ফাটল দেখা গেছে। 

র‌্যাম্প ও সিঁড়ির মাঝখানে কলাপসিবল গেট না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। সীমানা প্রাচীর না থাকার কারণে প্রায়ই নিরাপত্তায় ব্যাঘাত ঘটে। জনসংখ্যার অনুপাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র না থাকার ফলে এলাকার সব মানুষ সুষ্ঠুভাবে আশ্রয় নিতে পারে না।  

এরইমধ্যে একটি প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) বরাবর পাঠিয়েছে আইএমইডি। 

আইএমইডির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকৌশলগত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ৫২টি নতুন এবং ৪৯টি বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করা হয়েছে। তার মধ্যে বালির লবণাক্ততা পরীক্ষা করে ২০ শতাংশ লবণাক্ততা পাওয়া যায়, যার মধ্যে অধিকাংশই বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্র। 

অন্যদিকে ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখা গেছে দেয়ালে ফাটল, দরজা আঁকাবাঁকা, প্লাস্টার উঁচু নিচু, প্লাস্টার ভেজা, আবার নিচতলার মেঝেতে কোথাও কোথাও ফাটল পাওয়া গেছে। পরিবীক্ষণ কাজের টিম লিডার ও প্রকৌশলী প্রকল্পের কাজের সাইট পরিদর্শন করেছেন বলে আইএমইডির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর তালিকা: 

বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ, উজিরপুর, বানারিপাড়া, সদর, গৌরনদী, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলা।

ভোলা জেলার সদর, বোরহানউদ্দিন, চরফ্যাশন, দৌলতখান, লালমোহন, মনপুরা ও তজুমুদ্দিন উপজেলা।

পটুয়াখালী জেলার বাউফল, দশমিনা, দুমকী, গলাচিপা, কলাপাড়া, মির্জাগঞ্জ, সদর ও রাঙ্গাবালী উপজেলা।

পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া, ইন্দুরকানি, কাউখালী, মঠবাড়িয়া, নাজিরপুর, নেছারাবাদ ও সদর উপজেলা।

চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা, বাশঁখালী, বেয়ালখালী, চন্দনাইশ, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, কর্ণফুলী, লোহাগড়া, মিরসরাই, পটিয়া, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, সন্দীপ, সাতকানিয়া ও সীতাকুন্ড উপজেলা।

কক্সবাজার জেলার চকোরিয়া, সদর, কতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, রামু, টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলা। 

ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া, দাগনভূঁঞা, সদর, ফুলগাজী, পরশুরাম ও সোনাগাজী উপজেলা।

লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর, সদর, রামগঞ্জ, রামগতি ও রায়পুর উপজেলা।

নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ, চাটখিল, কোম্পানীগঞ্জ, হাতিয়া, কবিরহাট, সদর, সেনবাগ, সোনাইমুড়ি ও সুবর্ণচর উপজেলা।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, প্রতিবেদন অনুযায়ী যেসব ত্রুটি ধরা পড়েছে তা সংশোধনের জন্য আমরা কাজ করছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএইচআর/এসআই/এইচএন