আসছে দুর্গাপূজা, প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎ শিল্পীরা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১৪ ১৪২৭,   ১১ সফর ১৪৪২

আসছে দুর্গাপূজা, প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎ শিল্পীরা

মো.শাহাদাৎ হোসেন, মঠবাড়িয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১৩ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:৪০ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: মূর্তি তৈরিতে ব্যস্ত এক মৃৎ শিল্পী

ছবি: মূর্তি তৈরিতে ব্যস্ত এক মৃৎ শিল্পী

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ঘরে ঘরে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। আর কিছুদিন পর শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব দুর্গাপূজা। দেবী দুর্গাকে স্বাগত জানাতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মূর্তি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎ শিল্পীরা।

আগামী ২২ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে শুরু হবে এ পূজা এবং ২৬ অক্টোবর দশমী তিথিতে প্রতিমা বির্সজনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে। মহামারী করোনার কারণে এবার দুর্গাপূজার আনন্দ অনেকটা ম্লান হতে চলছে। প্রতি বছরের মতো এবার পূজার সেই পুরনো সংস্কৃতি অনেকটা লুকিয়ে থাকবে অগোচরে। বাইরে ঘুরতে যাওয়া, পূজামণ্ডপগুলোতে আলোকসজ্জাসহ নানা ধরণের আয়োজন থাকছে না। মহালয়া থেকে শুরু করে শারদীয় উৎসবের সব ক্ষেত্রেই থাকছে স্বাস্থ্যবিধির কড়া নির্দেশ।

আরো পড়ৃন: ৩০ টাকার ‘আনানাস’, ভাগ্য বদলে দিচ্ছে পাহাড়িদের

সনাতনী পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার মহালয়া হবে ১৭ সেপ্টেম্বর, বাংলা মাসের ৩১ ভাদ্র্র। এবার আশ্বিন মাস ‘মল মাস’ মানে অশুভ মাস। সে কারণে এবার আশ্বিনে দেবীর পূজা হবে না। পূজা হবে কার্তিক মাসে। সেই হিসেবে এবার দেবী দুর্গা মত্যে আসবেন মহালয়ার ৩৫ দিন পরে। এ কারণে ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠী তিথিতে হবে বোধন ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা। পরদিন ২৩ অক্টোবর মহাসপ্তমী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আচার অনুষ্ঠান। ২৪ অক্টোবর মহা অষ্টমী এবং ২৫ অক্টোবর মহানবমী পূজা। 

২৬ অক্টোবর মহাদশমী বা বিজয়া দশমী হবে। এই দিন প্রতিমা বির্সজনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। করোনা পরিস্থিতির কারণে কীভাবে হবে দুর্গাপূজা সে অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা কারিগররা।

প্রতিমা তৈরির কারিগর সুখরঞ্জন (৭৫) গুনরাজ বলেন, ‘প্রতিবছর এ সময় ১০-১২টি পূজামণ্ডপে কাজ করে থাকি। এ বছর মাত্র সাতটি পূজামণ্ডপের কাজ করছি। উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে আসা শিল্পীরা বলেন, এবছর করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের আর্থিক অনেক ক্ষতি হয়েছে যা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে।’

আরো পড়ৃন: বাংলার শত বছরের ঐতিহ্য ‘ঘরজামাই গ্রাম’

মঠবাড়িয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবু পঙ্কজ সাওজাল বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে এবারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা করতে হবে। এ সম্পর্কিত ২৬টি নির্দেশনা রয়েছে। আমাদের প্রত্যেকেই এ নিদের্শনা মেনে পূজা করতে হবে।’ এ বছর উপজেলায় ৭৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আ,জ,মো.মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘পূজামণ্ডপগুলোতে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা থাকবে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটতে দেয়া হবে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঊর্মি ভৌমিক জানান, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা র্নিবিঘ্নে অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কেন্দ্র থেকে যে নিদের্শনা আসবে সে র্নিদেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস