হোসনার মরদেহের সন্ধান দিলেন ঘাতক স্বামী

ঢাকা, শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১০ ১৪২৭,   ০৭ সফর ১৪৪২

হোসনার মরদেহের সন্ধান দিলেন ঘাতক স্বামী

রংপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৯ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০  

নিহত হোসনা বেগম

নিহত হোসনা বেগম

রংপুরের মিঠাপুকুরে স্বামীর বাড়ি থেকে নিখোঁজের দুই মাস পর ফসলি জমির মাটি খুঁড়ে হোসনা বেগম নামে এক গৃহবধূর কালো কাপড়ে পেঁচানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে ওই উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউপির সন্তোষপুর আকন্দপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় গ্রেফতার নিহতের স্বামী আনারুল হক উপস্থিত ছিলেন। তার স্বীকারোক্তিতেই মেলে হোসনার মরদেহের সন্ধান।

বুধবার হোসনা বেগমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এর আগে, ২৮ আগস্ট মিঠাপুকুর থানায় আনারুল হক ও তার মা আনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন হোসনার বাবা হাসমত আলী। তিনি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর ইউপির বাসিন্দা।

২৮ জুলাই বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি গিয়ে নিখোঁজ হন হোসনা। তার পরিবারের দাবি, পরকীয়ায় জড়িয়ে আনারুল হক পরিকল্পিতভাবে হোসনাকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দেন।

জানা গেছে, দেড় বছর আগে আনারুল হকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় হোসনা বেগমের। বিয়ের কিছুদিন পরই হোসনার ওপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। কথায় কথায় তাকে মারধর করতেন আনারুল। ছয় মাস আগে হোসনা অন্তঃসত্ত্বা হন। স্বামীর মারধরে তখন তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়।

২৮ জুলাই বাবার বাড়ি থেকে হোসনা স্বামীর বাড়িতে যান। এরপর থেকে তার সঙ্গে বাবার বাড়ির লোকজন যোগাযোগ করতে পারছিল না। ২৬ আগস্ট বদরগঞ্জ থেকে মেয়ের খোঁজে জামাইয়ের বাড়িতে যান হাসমত আলী। গিয়ে দেখেন বাড়িতে তালা। কোথাও বাড়ির লোকজন নেই। জামাই আনারুলের মোবাইলও বন্ধ। পরে পাশের বাড়িতে আনারুলের মা আনোয়ারা বেগমের খোঁজ মেলে। হোসনা কোথায় জানতে চাইলে সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি আনোয়ারা।

সন্দেহ হলে আশপাশের লোকজনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন কিছুদিন আগে হোসনাকে বেধড়ক মারধর করা হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর থেকে আর তাকে ওই বাড়িতে দেখা যায়নি। এতে হাসমত আলীর সন্দেহ হয়। মেয়ের সন্ধান পেতে হাসমত আলী ওই এলাকার ইউপি মেম্বার সাজু মিয়ার মাধ্যমে সালিস ডাকেন। কিন্তু সালিসে আনারুল ও তার মা আনোয়ারা বেগম হাজির হননি। এ ঘটনায় ২৬ আগস্ট মিঠাপুকুর থানায় জামাই ও তার মায়ের নামে লিখিত অভিযোগ করেন হাসমত আলী।

হাসমত আলী বলেন, মেয়ের সুখের জন্য বিয়েতে প্রায় ৮০ হাজার টাকা যৌতুক দিয়েছি। এরপরও মেয়েটাকে তাড়ানোর জন্য আনারুল অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে। এখন মেয়ের মাটিচাপা মরদেহ পেলাম। আমি ঘাতক জামাই ও তার মায়ের ফাঁসি চাই।

ইউপি মেম্বার সাজু মিয়া বলেন, আনারুলের বাড়ি সংলগ্ন কবরস্থানের পাশে ফসলি জমির গর্ত থেকে হোসনার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

মিঠাপুকুর থানার এসআই আজাদ মিয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। ঘাতক আনারুল এতদিন পলাতক ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পার্শবর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মধ্যরাতে বাড়ির পাশের জমির মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মিঠাপুকুর থানার ওসি আমিরুজ্জামান জানান, আনারুলকে গ্রেফতার করার পর তার উপস্থিতিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে আরো কেউ জড়িত থাকলে গ্রেফতার করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর