রেলের বদ্ধ ঘরে খোঁজ মিলল ৩ হাজারেরও বেশি উপন্যাসের বইয়ের

ঢাকা, রোববার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৭,   ১০ সফর ১৪৪২

রেলের বদ্ধ ঘরে খোঁজ মিলল ৩ হাজারেরও বেশি উপন্যাসের বইয়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:২০ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তরপ্রদেশের রাজধানী থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরের এক রেল অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছে দীর্ঘ দিনের জমা পড়ে থাকা তিন হাজারেরও বেশি হিন্দি উপন্যাসের বই। সম্প্রতি রাজ্যটির টুন্ডলা জংশনের ট্রাফিক সার্ভিস কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার এই বইগুলো উদ্ধার করেন।

তিনি জানান, একদিন এক বদ্ধ ঘরের মেঝের উপর সারি সারি বাই পড়ে থাকতে দেখেন। ধুলোয় চাপা পড়ে বইগুলির অবস্থা বেশ শোচনীয় ছিল। পোকায় অর্ধেক করে দিলেও বইগুলোর গুরত্ব বুঝতে এতটুকু সময় লাগেনি।

জানা গেছে, উপন্যাসগুলি স্বাধীনতার আগে ও পরে উভয় সময়েরই লেখকদের লেখা রয়েছে তাতে। যেমন, ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের লেখা গান্ধীজি কি দান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা উজরা ঘর ও ডাকঘর, আচার্য চতুরসেনের দেবাঙ্গনা, মুন্সি প্রেমচাঁদের গোড়ান। এ মূল্যবান বইগুলো রেলকর্মীদের জন্য কেনা হয়েছিল।

সঞ্জয় কুমার বলেন, ‘স্কুলে পড়ার সময় হিন্দি ছিল আমার দ্বিতীয় ভাষা। তামিলনাড়ুর ইরোদের কলেজে পড়ার সময়ও হিন্দি ছাড়িনি। সেখানেও ছিল দ্বিতীয় ভাষা। ছোট থেকে নষ্ট হয়ে যাওয়া বই পুনরুদ্ধার করার একটা স্বাভাবিক ঝোঁক ছিলই। এই লকডাউনে সেটা আমার কাছে একেবারে সুবর্ণসুযোগ হয়ে যায়।’

‘রেলওয়ের ওই বদ্ধ ঘর থেকে আমি অনেক পুরনো দিনের বইগুলিকে উদ্ধার করি। তবে এই কাজে আমাকে সাহায্য করেছেন রেলওয়ের কর্মীরা। কৃতজ্ঞতা জানাতেই হয় স্টেশন মাস্টার সঞ্জীব কুমার, অঙ্কার সিং ও হরবীর সিং এবং ট্রাফিক ইন্সপেক্টর বিপিন তোমর। আমরা সকলে মিলেই ৩ হাজারেরও বেশি হিন্দি বইয়র প্রাণ ফিরিয়েছি।’

এই অসাধারণ কাজটি করতে মোট দেড়মাস সময় নিয়েছেন। প্রতিদিন দুঘন্টা করে সঞ্জয় ও তার দল বই পুনরুদ্ধারের কাজ করতেন। শুধু তাই নয়, কোন কোন বই উদ্ধার হল, তার নামের তালিকাও বানানো চলত। আর এই কাজে যুক্ত থেকেই নয়, বইগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে দিতে দলের সকলেই নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে চাঁদা তুলেছিলেন। মোট ৭৫ হাজার টাকা জমিয়ে সমস্ত কাজকর্ম চালানো হয়েছিল। পাশাপাশি প্রয়াগরাজ ডিভিশনের রেলওয়ে ম্যানেজার অমিতাভ বইগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য এটি আলাদা ঘরেরও ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। বর্তমানে সেটি লাইব্রেরিতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি রেলওয়ে কর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য এই লাইব্রেরির বইগুলো ব্যবহার করার ভাবনাচিন্তা চলছে।

নিজেরা তো বটেই, এই অভিনব কাজের প্রসার ঘটানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরেছেন সঞ্জয়। জানা গিয়েছে, ১৯৯২ সাল থেকে ওই বদ্ধঘরে দুর্মূল্য বইগুলো পড়েছিল।

টুন্ডলা জংশনের চিফ কালেক্টর, ৫৬ বছর বয়সি সুরেন্দ্র প্রকাশের বলেন, রেলওয়ে লাইব্রেরির জন্য হিন্দি উপন্যাস ও বই পুনরুদ্ধারের পিছনে রয়েছে এক অহিন্দিভাষী অফিসারের। ওই পুনরুদ্ধার করা বইগুলো তিন যুগ আগের পুরনো স্মৃতিগুলো ফিরিয়ে এনেছে। টুন্ডলা রেল স্টেশনের সদস্য ও ৩০০-র বেশি রেলকর্মী বিনোদনের জন্য এই লাইব্রেরির বইগুলো ব্যবহার করতে পারবে।’

সূত্র: এই সময়

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী