বরিশাল রুটে প্রধান বাধা নাব্যতা সংকট

ঢাকা, বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১৫ ১৪২৭,   ১৩ সফর ১৪৪২

বরিশাল রুটে প্রধান বাধা নাব্যতা সংকট

শামীম আহমেদ, বরিশাল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:০৭ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০  

নাব্যতা সংকটে ডুবোচরে আটকে আছে ঢাকা-বরিশাল রুটের সুন্দরবন-৭ লঞ্চ

নাব্যতা সংকটে ডুবোচরে আটকে আছে ঢাকা-বরিশাল রুটের সুন্দরবন-৭ লঞ্চ

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের প্রধান যানবাহন লঞ্চ। সারাবছর দক্ষিণাঞ্চলের বেশিরভাগ যাত্রী নদীপথে আসা-যাওয়া করে। এছাড়া এ পথের সঙ্গেই যুক্ত চট্টগ্রাম, মংলা এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর। কিন্তু ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের গুরুত্বপূর্ণ এই চ্যানেলে বিরাজ করছে নাব্যতা সংকটসহ নানা সমস্যা।

একদিকে যেমন বয়া-বীকন বাতি সংকট রয়েছে, তেমনি নাব্যতা সংকট এবং মূল চ্যানেলে বালু-সিমেন্টের কাঁচামালবাহী জাহাজডুবির ঘটনায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ঢাকা-বরিশাল চ্যানেল সচল রাখতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

নাব্যতা সংকটে ডুবোচরে আটকে আছে ঢাকা-বরিশাল রুটের স্টিমার

তারা জানান, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য কম খরচে পরিবহন ও যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম নদী। কিন্তু দখল, দুষণ আর সঠিকভাবে খনন কাজ না হওয়ায় নাব্যতা সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। নাব্যতা ফেরাতে না পারলে সারাদেশের সঙ্গে বরিশালের নৌ-যোগাযোগ ব্যাহত হবে।

বিশেষজ্ঞরা আরো জানান, ঢাকা-বরিশাল নৌ-পথের মূল চ্যানেলগুলো ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সঠিকভাবে খনন এবং মালবাহী জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একই সঙ্গে নদীর গুরুত্বপূর্ণ অংশে বয়া, বাতি এবং মার্কার স্থাপন করতে হবে।

বরিশাল অঞ্চলের নদীগুলোর ২০-৩০টি পয়েন্টে নাব্যতা সংকট রয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সংলগ্ন মাঝ কাজীর চর, মেঘনা নদীর মিয়ারচর, কালিগঞ্জ ও গজারিয়া চ্যানেলে নৌযান চলাচলে ঝুঁকি রয়েছে।

যথাযথ খনন না হওয়ায় ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের বিভিন্ন চ্যানেলে বাড়ছে নাব্যতা সংকট

নৌ শ্রমিকদের অভিযোগ, খননের নামে নদীর পলি নদীতে ফেলা, যথাযথভাবে খনন না করা, জোয়ারের সময় খনন কাজ চালানোর কারণেই নাব্যতা সংকট কমছে না।

বাংলাদেশ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের হিসেব অনুযায়ী, ঢাকা-বরিশাল নৌপথে বর্তমানে তিনটি চ্যানেল ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে বরিশাল-উলানিয়া-ইলিশা-চাঁদপুর হয়ে ঢাকা পর্যন্ত দূরত্ব ১৮১ কিলোমিটার। এই পথ অতিক্রম করতে প্রতিটি নৌযানের কমপক্ষে ১০ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। বর্ষা মৌসুমে এ পথ ব্যবহার করে বরিশাল থেকে উলানিয়া পর্যন্ত সহজে চলাচল করলেও উলানিয়া থেকে কালিগঞ্জ-ইলিশা পর্যন্ত বেশ অনিরাপদ। চ্যানেলের এই অংশ বেশ খরস্রোতা। তাই নৌযান চলাচলে জ্বালানি খরচ বেশি পড়ে। চ্যানেলটিতে সামান্য ড্রেজিং করলেই সব ধরণের নৌযান চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব।

দ্বিতীয় চ্যানেল বরিশাল-হিজলা-মিয়ারচর-চাঁদপুর হয়ে ঢাকা পর্যন্ত দূরত্ব ১৪৮ কিলোমিটার। এই চ্যানেল দিয়ে ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে সময় লাগে ৮-৯ ঘণ্টা। সময় কম লাগলেও চ্যানেলটি নিরাপদ নয়। চ্যানেলটি বারবার ড্রেজিং করলেও প্রাকৃতিক কারণে অল্পদিনেই ভরাট হয়ে যায়। এছাড়া মেঘনা নদীর মিয়ারচর স্থানটি ভরা মৌসুমে প্রায়ই উত্তাল থাকে। ফলে প্রতিবছর বেশ কিছু মালবাহী নৌযান ডুবে যায়। যা চ্যানেলের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আর শুষ্ক মৌসুমে যাত্রীবাহী নৌযানগুলো প্রায়ই মিয়ারচরের এ স্থানে আটকে যায়।

ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে নেই পর্যাপ্ত বয়া-দিক নির্দেশক বাতি-মার্কার। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

তৃতীয় চ্যানেল বরিশাল-হিজলা মৌলভীরহাট-৬ নম্বর-আবুপুর-হরিণা/আলুবাজার (চাঁদপুর) হয়ে ঢাকা পর্যন্ত দূরত্ব ১৫৩ কিলোমিটার। এই পথে ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে সময় লাগে ৯ ঘণ্টা। এ নৌপথ ড্রেজিং করলে অনেক টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চ্যানেলটি যাত্রীবাহী নৌযান চলাচলের জন্য বেশ নিরাপদও। ড্রেজিং করলে ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে আরো ১ ঘণ্টা কম লাগবে। এতে নৌযানের জ্বালানি খরচও কমবে।

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ও নৌ শ্রমিকদের আশা, অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর