দেখে মনেই হয় না এটা পাকা সড়ক

ঢাকা, শুক্রবার   ০২ অক্টোবর ২০২০,   আশ্বিন ১৭ ১৪২৭,   ১৪ সফর ১৪৪২

দেখে মনেই হয় না এটা পাকা সড়ক

মেহেরপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১৯ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:৫৯ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের চোখতোলা এলাকার অংশে মানহীন ভাঙা ইট দিয়ে সারা বছরই চলে মেরামত। বাজেট দেখানো হয় লাখ টাকা। অথচ, প্রতিদিনই ভাঙাচোরা, খানা-খন্দে ভরা সড়কে ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে প্রায়ই আহত হন শিক্ষার্থী-কর্মজীবীসহ অসংখ্য মানুষ, নষ্ট হচ্ছে যানবাহন।

স্থানীয়রা জানায়, মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের গাংনীর চোখতোলা নামক স্থানের ৯৪০ মিটার সড়কের সমস্যা অন্তত ২০ বছর ধরে। শুধুমাত্র এই স্থানের মেরামতের জন্য প্রতি বছর কয়েক লাখ টাকা টাকা খরচ দেখানো হয়। অথচ স্থায়ী সমাধানে নেয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চোখতোলা থেকে শুরু হয়ে জোড়পুকুরিয়া পর্যন্ত ৯৪০ মিটার সড়ক একদমই চলাচলের অযোগ্য। কোথাও ২০ ফুট থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত গর্ত। আবার কোথাও উঠে গেছে কার্পেটিং। দেখে মনেই হয় না এখানে পাকা সড়ক বলে কিছু ছিলো। এসব গর্ত পার হতে গিয়ে বাস-ট্রাক, ভ্যান-অটোরিকশা, মাইক্রোবাস উল্টে পড়ে। এসব ভাঙা স্থানে সারাবছরই মানহীন ইট, ছোট পাথর ফেলে তার উপর বিটুমিল ছিটিয়ে কাজ চালানো হয়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, মেহেরপুরের-গাংনী-কুষ্টিয়া সড়কটির পূর্ণাঙ্গ কাজ হয়েছিল বছর দশেক আগে। এরপর আর সড়কটি মেরামত করা হয়নি। ২০১৯ সালে স্থায়ী সংস্কার কাজের জন্য ৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে টেন্ডার করা হয়। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জহিরুল লিমিটেড। কিন্তু সড়কের পাশে ভূগর্ভস্থ টেলিফোন লাইন থাকায় কাজটি শুরু হয়েও বন্ধ করে দেয়া হয়।

নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলে, সড়কের পাশে ভূগর্ভস্থ টিঅ্যান্ডটি তার থাকায় কাজ বন্ধ করে দেয় বিটিসিএল। তার সরানোর জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট দফতরে দুইবার চিঠি দিয়েছি। কিন্তু সে চিঠির কোনো সাড়া মেলেনি। তবে ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে, কিছুদিনের মধ্যেই বিশেষ ব্যবস্থায় আবার কাজ শুরু করা হবে।

বিটিসিএল মেহেরপুরের সহকারী প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান বলেন, সড়ক বিভাগের চিঠি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছি। সড়ক ও জনপথ বিভাগ আমদের ক্ষতিপূরণ না দিলে এখনই তার সরানো সম্ভব না। বিষয়টি নিয়ে আবারো বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখবো কিভাবে তার সরানো যায়।

মেহেরপুরের ডিসি ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম জানান, সড়কটি সংস্কারে সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর