কোটি টাকার খিচুড়ির পেছনের গল্প
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=205809 LIMIT 1

ঢাকা, সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ৬ ১৪২৭,   ০৩ সফর ১৪৪২

কোটি টাকার খিচুড়ির পেছনের গল্প

ফিচার প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩৭ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৬:৪৫ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

ভাত জাতীয় খাবার খিচুড়ি। ছবি: সংগৃহীত

ভাত জাতীয় খাবার খিচুড়ি। ছবি: সংগৃহীত

সময়-অসময়ে খিচুড়ি। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি ছাড়া অন্য কোনো খাবার বাঙালির মুখে রোচে না! যেকোনো অনুষ্ঠানেও বাঙালির রসনা তৃপ্ত করে গরম খিচুড়ি। ভাত জাতীয় এ খাবারটা যেমন মজাদার, তেমনি এর ইতিহাসটাও বেশ মজার!

সংস্কৃত শব্দ ‘খিচ্চা’ থেকেই এসেছে খিচুড়ি নামটি। তবে খিচুড়ির পরিচয়ে অঞ্চলভেদে আরো অনেক উচ্চারণ ও ব্যবহার দেখা যায়। যেমন কোথাও কোথাও ‘খিচুরি’ বা ‘খিচড়ি’ও বলা হয়ে থাকে।

৩০৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ভারতীয় উপমহাদেশে সেলুকাসের অভিযানের সময় এই অঞ্চলের জনসাধারণের মাঝে চাল আর ডাল মিশিয়ে তৈরি এক খাবারকে তিনি বেশ জনপ্রিয় হিসেবেই দেখতে পান। চতুর্দশ শতকে বিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা তার ভ্রমণ কথায় লিখেছেন, চর্তুদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি তিনি ভারতে চাল ও মুগডাল মিশ্রিত খিচুড়ি  তৈরি হতে দেখেছেন। তবে তিনি সেই খাবারটিকে উল্লেখ করেছিলেন ‘কিশ্‌রি’ হিসেবে।

ইবনে বতুতার ভারতীয় উপমহাদেশে ভ্রমণে এসেছিলেন রুশ পর্যটক নিকিতন। তার লেখায়ও থেকে খিচুড়ির কথা জানা যায়। সপ্তদশ শতকের ফরাসি বণিক ট্যাভার্নিয়ের চাল, মসুরের ডাল ও ঘি দিয়ে তৈরি খিচুড়িকে ভারতবাসীর জনপ্রিয় সন্ধ্যাকালীন খাবার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কে টি আচায়া তার ‘দ্য স্টোরি অফ আওয়ার ফুড’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন, সম্রাট জাহাঙ্গীর নাকি এই খিচুড়ির মসলাদার একটি সংস্করণ (যেটাতে পেস্তা বাদাম ও কিশমিশ থাকত বেশ) এতটাই পছন্দ করতেন যে ওটার নাম তিনি দিয়েছিলেন ‘লাজীজান’; যার অর্থ ‘বেশ সুস্বাদু’।

খিচুড়ি খেতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কোনো এক মুঘল সম্রাট। প্রতীকি ছবি

আলমগিরী খিচুড়ি নামের একপ্রকার খাবার সম্রাট আওরঙ্গজেবের পছন্দের খাবারের তালিকায় ছিল। এই খিচুড়িতে মাছ আর সিদ্ধ ডিম দেখা যেত। একসময় ভারতবর্ষ চলে গেল ইংরেজদের অধীনে। তারাও খিচুড়িকে নিজেদের মতো করে রান্না করতে শুরু করলো; নাম দেয়া হলো ‘কেডগিরী’!

সম্রাট আকবরের সময় আবুল ফজল তার আইন-ই-আকবরই তে সাত রকমের খিচুড়ির রেসিপি লিখেছেন। মুঘল বাদশাহদের খিচুড়ি প্রীতি বংশানুক্রমে চলমানই ছিল। সম্রাট জাহাঙ্গীর একবার গুজরাটে ভুট্টার খিচুড়ি খেয়ে মোহিত হয়ে মুঘল হেঁসেলে জায়গা দেয়। আর সম্রাট শাহাজান পর্তুগীজ পর্যটক সেবাস্তিয়ান মানরিখকে পেস্তা বাদাম আর গরম মসলা দিয়ে যে খিচুড়ি খাইয়েছিলেন; তা খেয়ে তার মনে হয়েছিল মনি মানিক্যর খিচুড়ি খেয়েছেন!

খিচুড়ি এমন এক খাবার, যার রয়েছে হাজার বছরের পুরোনো অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইতিহাস। ঢাকা, কলকাতা ও হায়দ্রাবাদের অসংখ্য দোকান রয়েছে, যেগুলো শুধু খিচুড়ির জন্যই বিখ্যাত! একেকটি দোকান শুধু খিচুড়ি বিক্রি করেই কোটি টাকার ব্যবসা করেছে! তাই এই খিচুড়িকে তো কোটি টাকার খাবারও বলা যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে