দুই জেলে পরিবারে চার মাস ধরে হাহাকার

ঢাকা, সোমবার   ১০ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৭ ১৪২৮,   ২৭ রমজান ১৪৪২

দুই জেলে পরিবারে চার মাস ধরে হাহাকার

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২৮ ৫ মে ২০২১  

সেন্টমার্টিনে জাহাজ ডুবে নিখোঁজ জেলে আবুল বাশার ও ইউনুছ হাওলাদার

সেন্টমার্টিনে জাহাজ ডুবে নিখোঁজ জেলে আবুল বাশার ও ইউনুছ হাওলাদার

ঝালকাঠির রাজাপুরের গালুয়া দুর্গাপুরের শামসু মিয়ার ছেলে আবুল বাশার (৫০) ও পুটিয়াখালী গ্রামের ময়নুদ্দিন হাওলাদারের ছেলে ইউনুছ হাওলাদার। দুজনই বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে জাহাজ ডুবে প্রায় চার মাস আগে নিখোঁজ হন। সেই থেকে তাদের কোনো সন্ধান মিলছে না। এদিকে, উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে হাহাকার করছেন দুই পরিবারের সদস্যরা।

জানা গেছে, চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি (শনিবার) ভোররাতে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনের ৬৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় এফভি যানযাবিল নামে মাছ ধরার জাহাজটি ডুবে যায়। ওই জাহাজেই কর্মরত ছিলেন বাসার ও ইউনুছ।

জেলে আবুল বাশারের স্ত্রী দুলু বেগম জানান, তার স্বামী প্রায় ৩০ বছর বিভিন্ন জাহাজে চাকরি করেছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি চট্টগ্রামের এফভি যানযাবিল- জাহাজে নতুন যোগদান করেছিলেন। একবার সমুদ্রে গেলে ৩-৪ মাস পর বাড়ি ফিরতেন। তার উপার্জন দিয়েই সাতজনের সংসার চলত। জাহাজে থাকাকালীন পরিবারের সঙ্গে মোবাইলে সবসময় যোগাযোগ রাখতেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আবুল বাশার বাড়িতে কল করে জানান- চট্টগ্রাম থেকে সাগরে মাছ ধরতে যাবেন। সেখান থেকে কক্সবাজার হয়ে বাড়ি ফিরবেন।

২২ জানুয়ারি রাতে সাগরে থাকাকালীন স্বামীর সঙ্গে শেষবার কথা হয় দুলু বেগমের। ওই রাতেই এফভি এফভি যানযাবিল জাহাজটি বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে সাগরে ডুবে যায়। আশপাশের ফিশিং জাহাজ, বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভি দেখে মাধ্যমে এ খবর জানতে পারে আবুল বাশারের পরিবার। সেই থেকে চার মাস ধরে স্বামীর জন্য অপেক্ষা করছেন দুলু বেগম, বাবার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছে পাঁচ ছেলে-মেয়ে। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

আবুল বাশারের পরিবার

নিখোঁজ আরেক জেলে ইউনুছ হাওলাদারের স্ত্রী সাথী বেগম জানান, তার স্বামী এফভি যানযাবিল জাহাজে ২২ বছর চাকরী করেছেন। ২০২০ সালে করোনার আগে শেষবার জাহাজে গিয়েছেন তিনি। চেয়েছিলেন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরিবারের কাছে ফিরবেন। ২২ জানুয়ারি রাতে স্বামীর সঙ্গে শেষবার কথা বলেন সাথী। এরপরই জাহাজডুবির খবর পান। সেই থেকে স্বামীর অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন তিনি।

সাথী আরো জানান, ইউনুছ হাওলাদারের উপার্জন দিয়েই তাদের পাঁচজনের সংসার চলত। জাহাজডুবির পর চার মাস কেটে গেলেও তার স্বামী বাড়ি ফেরেননি। তিন ছেলে-মেয়ে তার অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২২ জানুয়ারি ডুবি যাওয়া এফভি যানযাবিল জাহাজে ২৬ জন লোক ছিল। ডুবে যাবার পর ১৪ জনকে জীবিত ও চারজনের লাশ পাওয়া গেছে। বাকি আটজন আজও নিখোঁজ। ওই আটজনের মধ্যেই আবুল বাশার ও ইউনুছ হাওলাদার রয়েছেন। চার মাস পরও তাদের ফিরে আশা করছে দুটি পরিবার।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও এফভি যানযাবিল জাহাজের মালিক মোহাম্মদ আলী জানান, নিহত চারজন ও নিখোঁজ ১২ জন জেলের বেতনভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে দুই লাখ টাকা করে দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজাপুরের ইউএনও মো. মোক্তার হোসেন জানান, ওই দুটি পরিবারের খোঁজ নিয়ে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর