মহীশুরের বাঘ খ্যাত টিপু সুলতান, বৃটিশবিরোধী যুদ্ধে প্রথম শহিদ রাজা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৩ ১৪২৮,   ২৩ রমজান ১৪৪২

মহীশুরের বাঘ খ্যাত টিপু সুলতান, বৃটিশবিরোধী যুদ্ধে প্রথম শহিদ রাজা

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৯ ৫ মে ২০২১   আপডেট: ১৪:০৩ ৫ মে ২০২১

ঔপনিবেশিক ইংরেজরাই তাকে মহীশুরের বাঘ উপাধি দিয়েছিল

ঔপনিবেশিক ইংরেজরাই তাকে মহীশুরের বাঘ উপাধি দিয়েছিল

‘শেয়ালের মতো শতবর্ষ বেঁচে থাকার চেয়ে বাঘের মতো স্বাধীনভাবে একদিন বাঁচাও উত্তম। ’ সেভাবেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন তিনি। শেয়ালের মতো দীর্ঘজীবন পাননি তিনি, বাঘের মতোই স্বাধীন আর বীরত্ব নিয়ে বেচেছিলেন মাত্র ৪৯ বছর। আর এরমধ্যেই তার বীরত্ব, সাহসিকতা ও জ্ঞানই তাকে এক অনন্য স্থানে পৌঁছে দেয়।

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে ব্রিটিশদের কাছে টিপুর নাম ছিল এক বিভীষিকা। ইতিহাসবিদরা তাকে নেপোলিয়ান বোনাপার্টের সঙ্গেও তুলনা করেছেন। নবাব হায়দার আলী খানের অসমাপ্ত কাজগুলো তার সন্তান হিসেবে সম্পন্ন করাই ছিল তার নেশা। মহীশূরের সর্বশেষ স্বাধীন নবাব ছিলেন টিপু সুলতান। তার ছিল অদ্ভুত এক নেশা। বাঘকে খুব পছন্দ করতেন তিনি। কখনো ভাবা যায়! বাবা হায়দার আলীর মৃত্যুর পর টিপু সুলতান সাম্রাজ্যের দায়িত্ব নেন। প্রথম থেকেই তার বিশেষত্ব ও গুণাবলী সবার নজর কাড়ে। খোদ ব্রিটিশ সরকারও মহীশূরের বাঘকে তোষামদ করে চলতেন। 

টিপু সুলতান মাত্র ১১ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন
ঔপনিবেশিক ইংরেজরাই তাকে মহীশুরের বাঘ উপাধি দিয়েছিল। টিপু সুলতান  ছিলেন ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামী ও শহিদ রাজা। যদিও তিনি কেমন শাসক ছিলেন তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। টিপু সুলতানের মৃত্যুর আনন্দ উদযাপনে মেতে উঠেছিল ব্রিটিশরা। ‘ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ ভারতবর্ষের মৃত আত্মাকে স্মরণ করে আমি পান করছি’। টিপু সুলতানের মৃত্যুর সংবাদ শুনে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পরিচালক রিচার্ড ওয়েলেসলি ১৭৯৯ সালের ৪ মে, দিনটি এভাবেই উদযাপন করেছিলেন। 

ভগবান এস গিদওয়ানির ‘দ্য সোর্ড অব টিপু সুলতান’ বইটিতে এমনভাবেই উল্লেখ্য রয়েছে। টিপু সুলতানের মৃত্যু সংবাদ শুনে ওয়েলেসলি যে দুটি মন্তব্য করেছিলেন তাতে স্পষ্টত যে, ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণের বড় বাঁধাগুলোর একটি ছিলেন টিপু সুলতান। ভারতের বেশির ভাগ অংশে আজো তাকে সেভাবেই দেখা হয়। 

বাঘ ছিল টিপু সুলতানের খেলার সাথী ভারতের কর্নাটক রাজ্যের আদি নাম ছিল মহীশুর। এই রাজ্যকে নিয়ে ইতিহাসের পাতায় ছড়িয়ে আছে নানা কিংবদন্তি। ভারতের দক্ষিণ পশ্চিমে এর অবস্থান। অষ্টাদশ শতকের শেষার্ধে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন এই রাজ্যের শাসক ও ‘মহীশুরের বাঘ’খ্যাত টিপু সুলতান। 

তিনিই সর্বপ্রথম স্বাধীন দেশপ্রেমিক যার ভয়ে ভীত ছিল ইংরেজ বাহিনী। ইংরেজরাই তাকে শের-ই-মহীশুর উপাধি দিয়েছিল। টিপু সুলতান আজও অমর হয়ে আছেন ওই অঞ্চলের অধিবাসীদের অন্তরে। টিপু সুলতানের বাবা ছিলেন মহীশুর রাজ্যের সেনাপতি হায়দার আলি। সে সময় মহীশুর সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন ওয়াদিয়ার রাজবংশের দুর্বলচিত্তের রাজা কৃষ্ণরাজা ওয়াদিয়ার। তার শাসনামলে মহীশুর রাজ্যটি মারাঠাদের হুমকির মধ্যে ছিল।

একই সময়ে ব্রিটিশদের দখলদারিত্ব ও আধিপত্যের লোভ ধেয়ে আসছিল মহীশুরের দিকে। দূরদর্শী হায়দার আলি এই সত্য উপলব্ধি করে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেন মহীশুরে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার করার। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭৬১ সালে হায়দার আলি মহীশুরের প্রকৃত শাসক হয়ে ওঠেন এবং শ্রীরঙ্গপত্তনম গ্রামে কাবেরি নদীর একটি বদ্বীপে নির্মিত দুর্গ থেকে রাজ্য শাসন করতে থাকেন। টিপু সুলতান তখন ১১ বছরের কিশোর মাত্র।  

যুদ্ধে ব্যবহৃত রকেটের প্রথম উদ্ভাবক ছিলেন টিপু সুলতানের বাবা, পরে তিনি এটি ব্যবহারের আরো অনেক কৌশল আবিষ্কার করেছিলেনহায়দার আলির দ্বিতীয় স্ত্রী ফখরুন্নিসা ফাতিমার গর্ভে ১৭৫০ সালের ২০ নভেম্বর মহীশুরেই তার জন্ম। টিপু মাস্তান আউলিয়া নামে এক ফকিরের দোয়ায় পুত্রসন্তান লাভ করেছিলেন বলে হায়দার তার ছেলের নামও রাখেন ‘টিপু’। হায়দার আলি নিজে অশিক্ষিত হলেও বড় ছেলে টিপুকে সুশিক্ষা দেয়ায় বিশেষ তৎপর ছিলেন। অল্প বয়সেই বেশ কয়েকটি ভাষায় পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন টিপু সুলতান। তলোয়ার চালনা সহ নানা যুদ্ধবিদ্যায় অল্প সময়ে পারদর্শী হয়ে উঠেন। তাতে সবার নজর কেড়েছিলেন।  হায়দার আলির সঙ্গে ফরাসিদের রাজনৈতিক সুসম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে ছোটবেলাতেই টিপু ফরাসি কর্মকর্তাদের কাছে সামরিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে দিনেদিনে প্রশিক্ষিত হয়ে ওঠেন।

তিনি সরদার গাজী খানের কাছ থেকে বিভিন্ন  সামরিক তালিম নেন। ১৭৬৬ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তিনি প্রথম ইঙ্গো-মহীশুর যুদ্ধে বাবার পাশে দাঁড়িয়ে নিজের যুদ্ধনৈপুণ্য ও বিচক্ষণতার পরিচয় দেন। পরবর্তী বছরগুলোতে হায়দার আলি সমগ্র দক্ষিণ ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী শাসক হয়ে ওঠেন এবং টিপু সুলতান তার বাবার প্রতিটি সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ইতিহাস অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, বাবার যোগ্য সহচর টিপুর সমস্ত ছেলেবেলাই কেটেছে যুদ্ধবিগ্রহ, সাম্রাজ্য বিস্তার ও প্রতিরক্ষার লড়াইয়ে।
ইংরেজদের কাছে শের-ই-মহীশুরখ্যাত টিপু সুলতানের রাজ্যের প্রতীকও ছিল বাঘ। এই বাঘ ছিল তার অনুপ্রেরণার মাত্রা। তার রাজ্যের পতাকায় কানাড়ি ভাষায় লেখা ছিল ‘বাঘই ঈশ্বর’।

তার ব্যবহৃত সব কিছুতেই ছিল বাঘের ছাপ, পোশাক থেকে শুরু করে সিংহাসন, তলোয়ার সবকিছুই ছোটবেলা থেকেই তিনি বাঘের গল্প শুনতে ভালোবাসতেন। বাবা হায়দার আলিই তাকে বাঘের গল্প শোনাতেন। কিশোর বয়সে বাঘও পুষতে শুরু করেছিলেন টিপু। কাঠের ফ্রেমের ওপর কারুকার্যপুর্ণ ও সোনার পাত বসানো মণিমুক্তা ও রত্নখচিত তার সিংহাসনটিকে এক কথায়  ‘ব্যাঘ্রাসন’ বললেও ভুল হবে না। আটকোণা ওই আসনটির ঠিক মাঝখানে ছিল একটি বাঘের মূর্তি। ৮ ফুট চওড়া আসনটির রেলিংয়ের মাথায় বসানো ছিল সম্পূর্ণ স্বর্ণে তৈরি ১০টি বাঘের মাথা আর ওপরে ওঠার জন্য ছিল দুধারে রুপার তৈরি সিঁড়ি। আর পুরো আসনটিই ছিল বাঘের শরীরের মতো ডোরাকাটা।

তার পোশাকও ছিল হলুদ-কালো রঙে বাঘের শরীরের মতো ডোরাকাটা। তিনি যে তলোয়ার ব্যবহার করতেন, তার গায়েও ছিল ডোরা দাগ এবং হাতলে ছিল খোদাই করা বাঘের মূর্তি। টিপু সুলতান এর রাজ্যের সমস্ত সৈনিকের পোশাকে থাকত বাঘের ছবি। সৈন্যদের তলোয়ার, বল্লম, বন্দুকগুলোর নল, কুদো, হ্যামারেও আঁকা থাকতো বাঘের চিত্র।

১৭৭৯ সালে ফরাসি নিয়ন্ত্রিত মাহে বন্দর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দখল করে নেয়। এই বন্দরটি রক্ষার দায়ভার ছিল ফরাসিদের মিত্র হায়দার আলি ও তার ছেলে টিপু সুলতানের কাঁধে। বন্দর পুনরুদ্ধারে ১৭৮০ সালে পিতা-পুত্র যুদ্ধ ঘোষণা করেন। ইতিহাসের পাতায় যুদ্ধটি ইঙ্গো-মহীশুর দ্বিতীয় যুদ্ধ নামে পরিচিত। যুদ্ধের প্রাথমিক অবস্থায় ব্রিটিশদের ব্যাপক ক্ষতি করতে সক্ষম হলেও যুদ্ধ চলাকালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন হায়দার আলি।

বৃটিশদের বিরুদ্ধে পরপর দুইবার  ইঙ্গো-মহীশুর দ্বিতীয় যুদ্ধ এবং ওয়াটারলু যুদ্ধে জিতে যান ১৭৮২ সালে যুদ্ধের ময়দানেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তার অকাল মৃত্যুতে ১৭৮২ সালের ২২ ডিসেম্বর মহীশুরের সিংহাসনে বসেন টিপু সুলতান। সিংহাসনে বসেই তিনি প্রতিবেশী মারাঠা সাম্রাজ্য ও মুঘলদের সঙ্গে সন্ধি স্থাপন করেন। ব্রিটিশ আগ্রাসন রুখতে তার এই সন্ধি ছিল সামরিক কৌশল ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতার অনন্য দৃষ্টান্ত। এই সন্ধির ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি টিপু সুলতানের সঙ্গে ১৭৮৪ সালে ম্যাঙ্গালোর চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য হয় এবং অবসান ঘটে ইঙ্গো-মহীশুর দ্বিতীয় যুদ্ধ নামক রক্তাক্ত সংঘর্ষের।

শাসক হিসেবে সুশাসনের অনবদ্য উদাহরণ স্থাপন করেন টিপু সুলতান। তার বাবার অসমাপ্ত সব গুলো কাজে দুসম্পন্ন করতে মনোনিবেশ করেন। নির্মাণ করেন শহর, বন্দর, সেতু, নাগরিকদের জন্য দালান, সড়ক। আবিষ্কার করেন সামরিক আধুনিক অস্ত্রাদি। কথিত আছে, যুদ্ধে ব্যবহৃত রকেটের প্রথম উদ্ভাবক ছিলেন হায়দার আলি। আর সেই রকেট ব্যবহারের কৌশলকে আরও উন্নত করেন টিপু সুলতান। ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের পুরোধা প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. এপিজে আবদুল কালাম আজাদও টিপু সুলতানকে আধুনিক রকেটের উদ্ভাবক বলে অভিহিত করেছেন।

সামরিক অস্ত্র উদ্ভাবন, নির্মাণ, যুদ্ধকৌশল ও যোদ্ধা প্রশিক্ষণে টিপু সুলতান এতটাই চৌকস ছিলেন যে, তার প্রশিক্ষিত বাহিনীর শৌর্যবীর্য ও রণকৌশল ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল। জানা যায়, ওয়াটারলু যুদ্ধের ব্রিটিশ বীর আর্থার ওয়েলেসলি শ্রীরঙ্গপাটনার কাছে যখন টিপুর বাহিনীর আক্রমণের শিকার হন তখন তার খুব কাছেই একটি রকেট বিস্ফোরিত হয়েছিল। এই বিস্ফোরণের আতঙ্কে চিৎকার করে তিনি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। টিপু সুলতান রকেট নিয়ে গবেষণা করার জন্য শ্রীরঙ্গপাটনা, ব্যাঙ্গালোর, বিদানুর ও চিত্রদুর্গায় গবেষণাকেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন।

‘শেয়ালের মতো শতবর্ষ বেঁচে থাকার চেয়ে বাঘের মতো স্বাধীনভাবে একদিন বাঁচাও উত্তম। ’ এই কথাটি তিনি প্রায়ই বলতেন ধীরে ধীরে সাম্রাজ্য বিস্তারেও মনোযোগী হয়ে ওঠেন টিপু। সে সময় তার নজর পরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মিত্র ত্রাভানকোর সাম্রাজ্যের দিকে। ১৭৮৯ সালের ডিসেম্বরে টিপু সুলতান ত্রাভানকোরে আক্রমণ করেন। সম্মুখযুদ্ধে তিনি ত্রাভানকোর মহারাজার প্রবল প্রতিরোধের মুখোমুখি হন। শুরু হয় আরেক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ যা ইতিহাসের পাতায় ইঙ্গো-মহীশুর তৃতীয় যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। 

ত্রাভানকোরের মহারাজা যখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে সাহায্য দাবি করেন তখন লর্ড কর্নওয়ালিস হায়দ্রাবাদের নিজাম ও মারাঠাদের সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি করে টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী জোট গঠন করেন। ইস্ট ইন্ডিয়া মিত্রবাহিনী ১৭৯০ সালে টিপু সুলতানের সাম্রাজ্য আক্রমণ করে বসে এবং কইমবাটুর জেলা দখল করে নেয়। টিপু সুলতান প্রতিআক্রমণ করলেও এলাকাটি পুনর্দখল করতে ব্যর্থ হন। ইঙ্গো-মহীশুর তৃতীয় যুদ্ধ দুই বছর কাল স্থায়ী হয়।  এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটে ১৭৯২ সালে সেরিঙ্গাপাতাম চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে। এই চুক্তিবলে ব্রিটিশ মিত্রবাহিনী ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ম্যাঙ্গালোর, মালাবারসহ অনেক এলাকা দখল করে নেয়।

যদিও মিত্রবাহিনী টিপু সুলতানের সাম্রাজ্যের অনেক অংশই দখল করে নিয়েছিল। কিন্তু তাতে টিপু সুলতানের যোদ্ধাস্বভাব বা মনোবলে বিন্দুমাত্র ভাঙন ধরেনি। ব্রিটিশরা টিপু সুলতানের আতঙ্ক কিছুতেই কাটিয়ে উঠতে পারছিল না। ১৭৯৯ সালে মারাঠা ও নিজামের সঙ্গে সম্মিলিত হয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ফের মহীশুর আক্রমণ করে। তারা মহীশুরের রাজধানী শ্রীরঙ্গপাটনা দখল করে নেয়। ইতিহাসের পাতায় এই যুদ্ধ ইঙ্গো-মহীশুর চতুর্থ যুদ্ধ হিসেবে সুপরিচিত। যুদ্ধে টিপু সুলতান পরাজিত ও নিহত হন। 

শ্রীরঙ্গপত্তনম যুদ্ধে টিপু সুলতান তার কাছের মানুষদের ষড়যন্ত্রে এবং কিছু কৌশলের ব্যর্থতার কারণে হেরে যানটিপু সুলতানের ৩০ হাজার সৈন্যের বিরুদ্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশিক্ষিত ৫০ হাজার সৈন্য লড়াই করেছিল। এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন জেনারেল স্যার রিচার্ড ওয়েলেসলি, আর্ল অব মর্নিংটন। ৪ঠা মে মীর সাদিক নামে এক সেনাপতি বিশ্বাসঘাতকতা করে টিপুর পরাজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল। ৪ঠা মে ১৭৯৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী যুদ্ধে শহিদ হওয়া প্রথম ভারতীয় রাজা ছিলেন টিপু সুলতান। ব্রিটেনের ন্যাশনাল আর্মি মিউজিয়ামে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিপক্ষ কমান্ডারদের মধ্যে টিপু সুলতানকে স্থান দেয়া হয়েছে। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিনি লড়াই করে গেছেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে। তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রীসহ সন্তানদের দূরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় নির্বাসন দিয়েছিল ইংরেজরা। শ্রীরঙ্গপত্তনম যুদ্ধে টিপু সুলতান তার কাছের মানুষদের ষড়যন্ত্রে এবং কিছু কৌশলের ব্যর্থতার কারণে হেরে যান। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে