‘বারবার করে বলেছি আমি অপরাধী নই’

ঢাকা, রোববার   ০৯ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৭ ১৪২৮,   ২৬ রমজান ১৪৪২

‘বারবার করে বলেছি আমি অপরাধী নই’

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৫০ ৪ মে ২০২১   আপডেট: ২১:১৮ ৪ মে ২০২১

কারামুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন হাসিনা বেগম

কারামুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন হাসিনা বেগম

টেকনাফ থানায় যখন আমাকে নিয়ে আসা হয় তখনই আমি বারবার করে বলেছি আমি অপরাধী নই। কিন্তু উনারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। আমার কোনো কথা উনারা বিশ্বাস করেননি। কারামুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের কথাগুলো বলছিলেন নামের মিলে এক বছর চার মাসের বেশি সময় ধরে কারাভোগ করা হাসিনা বেগম।

তিনি বলেন, বিনা অপরাধে ১৭ মাস জেল খেটেছি। আমার সংসার ধ্বংস হয়ে গেছে। আমার ছোট ছোট বাচ্চারা পথে বসেছে। আমাকে জেল থেকে মুক্ত করতে আমার বাড়িটাও বিক্রি করতে হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান হাসিনা বেগম। এর আগে, দুপুরে তাকে মুক্তির আদেশ দেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁইয়ার ভার্চুয়াল আদালত।

হাসিনা বেগমের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, আদালতের আদেশে বিকেলে কারামুক্ত হয়েছেন হাসিনা বেগম। সাজাপ্রাপ্ত হাসিনা আক্তার ও কারাবন্দি হাসিনা বেগম একই ব্যক্তি নন বলে কারাগারের ছবিযুক্ত নথি দেখে তা নিশ্চিত হয়ে মঙ্গলবার সকালে আদালতে প্রতিবেদন দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। এরপর হাসিনা বেগমের মুক্তির আদেশ দেয় আদালত।

নগরীর কর্ণফুলী থানার একটি মাদক মামলায় ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে কারাগারে যান হাসিনা আক্তার। পরে একই বছরের ২৭ নভেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন তিনি। এরপর ২০১৯ সালের ১ জুলাই ওই মামলায় তাকে ছয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অনাদায়ে আরো এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন অতিরিক্ত পঞ্চম মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরীর আদালত। কিন্তু সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেফতার হয়ে ২০১৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কারাগারে ছিলেন হাসিনা বেগম।

সম্প্রতি বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতে শুনানি হয়। শুনানি শেষে কারাবন্দি হাসিনা বেগম ও সাজাপ্রাপ্ত হাসিনা আক্তার একই ব্যক্তি কিনা কারাগারের ছবিযুক্ত নথি খতিয়ে দেখে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারকে নির্দেশ দেয় আদালত।

এর আগে হাসিনা বেগম এ মামলার প্রকৃত আসামি নয় বলে আদালতে দেয়া প্রতিবেদনে জানায় টেকনাফ থানা পুলিশ।

হাসিনা বেগমের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফ পৌর সদরের চৌধুরী পাড়ায়। তিনি হামিদ হোসেনের স্ত্রী। সাজাপ্রাপ্ত হাসিনা আক্তার একই এলাকার ইসমাইল হাজীর বাড়ির হামিদ হোসেনের স্ত্রী। দু’জনের নামের একাংশ ও স্বামীর নামে মিল থাকলেও অমিল রয়েছে বাবা-মায়ের নামে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম