ইবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগ, প্রতিদিন ফ্রি নিত্যপণ্য পাচ্ছে ৩০০ পরিবার

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৩ ১৪২৮,   ২৩ রমজান ১৪৪২

ইবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগ, প্রতিদিন ফ্রি নিত্যপণ্য পাচ্ছে ৩০০ পরিবার

ইবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৪ ৪ মে ২০২১  

প্রতিদিন প্রায় ২০০-৩০০ মানুষ এখান থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় ফ্রি বাজার নিয়ে যায়

প্রতিদিন প্রায় ২০০-৩০০ মানুষ এখান থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় ফ্রি বাজার নিয়ে যায়

করোনার প্রাদুর্ভাবে সারাদেশে চলছে লকডাউন। দেশের মূল চালিকা শক্তি অর্থনীতি অনেকটাই হয়ে গেছে স্তম্ভিত। এমন পরিস্থিতে কোন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন। আবার কেউ কেউ চাকরি হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছ। অনেকে আবার খেয়ে না খেয়ে অতিকষ্টে দিনপার করছে। এমন কর্মহীন মানুষগুলোর মুখে একটু হাসি ফোটাতে দিনরাত কাজ করছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র সাব্বির আহমেদ। 

করোনা মহামারিতে নিজের জমানো টিউশনির টাকা দিয়ে অসহায় মানুষের জন্য শুরু করেছিলেন ফ্রি বাজার কার্যক্রম। এখন পর্যন্ত ৮৭ দিনের মতো মেহেরপুর জেলায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি। তার ফ্রি বাজারের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন শাক-সবজি, মাছ, ফলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য। প্রতিদিন প্রায় ২০০-৩০০ মানুষ এখান থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় ফ্রি বাজার নিয়ে যায়। মানবসেবায় কাজ করতে গিয়ে তিনি পেয়েছেন পাগলা উপাধী। 

সাব্বির আহমেদ বলেন, গত বছর মার্চে যখন কাজ শুরু করেছিলাম তখন সবাই বলতো এইসব করে আসলে কোন লাভ নাই। তখন আশেপাশের মানুষগুলো পাগলা বলা শুরু করে। সে সময়ে মাক্স বিতরণ, ব্লিচিং পাউডার, স্প্রে, গোল চিহ্ন করার কাজ করতাম। তখন থেকেই মোটামুটি পাগলা বলা শুরু করে। প্রথম দিকে নিজের কাছে খারাপ লাগলেও পরবর্তীতে এটা আমার অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।

তিনি আরো বলেন, করোনার প্রথম ঢেউয়ে ৭৫ দিনে কাজ সমাপ্ত করলেও দ্বিতীয় ঢেউয়ে মানুষের অসহায়ত্ব দেখে ঘরে বসে থাকতে পারিনি। তাই পুনরায় গত মাসের ২১ এপ্রিল থেকে মেহেরপুরের অসহায় মানুষের জন্য ফ্রি বাজার চালু করি। এখনও তা চলমান রয়েছে।

টিউশনির টাকা দিয়ে শুরু করা তার উদ্যোগ বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সহযোগিতায় চলছে। তিনি বলেন, প্রথমাংশে চেনা অচেনা সকলেই সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসেন। কেউ নগদ অর্থ দিয়ে, কেউ খাদ্য সামগ্রী নিয়ে এগিয়ে আসেন। রাব্বি, তানভীর, নাঈম, আকাশ, আনিকা, বর্ষা, পিয়াস, রুমেল, বন্যাসহ স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে প্রতিদিন অসহায় মানুষের জন্য আমাদের ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। সবার সহযোগিতায় এবার ফ্রি বাজারের পাশাপাশি অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। তাই প্রায় তিন শতাধিক পরিবারকে ঈদ উপহার সামগ্রী কেনাকাটায় সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।

সাব্বির বলেন, দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো ভালো কাজ আর কিছু হতে পারে না। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এখনই সব থেকে শ্রেষ্ঠ সময়। আমাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণই মানুষের সহযোগিতার উপর নির্ভরশীল। সবাই কাজ করলে একদিন স্বপ্নের সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম