পায়ের ঘষাতেই উঠছে সড়কের পিচসহ বিটুমিনের স্তর

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৩ ১৪২৮,   ২৩ রমজান ১৪৪২

পায়ের ঘষাতেই উঠছে সড়কের পিচসহ বিটুমিনের স্তর

রিফাত আহমেদ রাসেল, নেত্রকোনা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৫৭ ৪ মে ২০২১  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই উঠে যাচ্ছে পিচসহ বিটুমিনের স্তর। এই নিয়ে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

অনেকেই সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতা ও অধিক মুনাফার লোভে দায়সারাভাবে কাজটি শেষ করায় অল্প দিনেই সড়কের এই অবস্থা বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

কয়েক বছর আগেই উপজেলার চেছরাকে কুলপতাক হয়ে বল্লখালী থেবপুর পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়। দুই কিলোমিটার এই সড়কের ব্যয় ধরা হয় এক কোটি ১৫ লাখ টাকা। সদ্য সড়কের পিচ ঢালাই করে সংস্কার কাজের শেষ করেন ঠিকাদার শেখ হেমায়েত আলী। 

তবে সড়কটির নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই সড়কে নিম্নমানের বিটুমিন ও পাথরের পরিমাণ কম দেয়াসহ নানা অভিযোগ তুলেন স্থানীয়রা। বিষয়টি কোনোরকম তোয়াক্কা না করে ঠিকাদার তার নিজ গতিতে অনিয়ম চালিয়ে যান। ফলে দায়সারাভাবে সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ করতে না করতেই অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠছে।

নতুন এই সড়কে মাত্র কয়েকদিন ছোট-বড় চলাচলেই পিচের স্তর উঠে বাইরে বেরিয়ে এসেছে বিটুমিন ও পাথর। এ নিয়েও সড়কের পথচারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনিয়মের বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করতেই শুরু হয়েছে প্রতিবাদের ঝড়। পাশাপাশি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

এদিকে কাগজে-কলমে সড়কটি নির্মাণ কাজ ঠিকাদার শেখ হেমায়েত আলীর করার কথা থাকলেও তার ঠিকাদারি লাইসেন্সটি ব্যবহার করে এ কাজটি করছেন গাজী মোজাম্মেল হোসেন টুকু। আর কাজটির তদারকি করেছেন তারই ভগ্নিপতি স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন। 

কুলপতাক গ্রামের বাসিন্দারা জানান, এই সড়ক এতই নিম্ন মানের হয়েছে যে, পায়ের ঘষাতে পিচ উঠে যাচ্ছে। কয়েকদিন গাড়ি চলাচল করলে পিচের কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাবে না। সড়কটা ভালোভাবে করার জন্য কাজের দায়িত্বে থাকা আনোয়ার সাহেবকে আমরা বলেছিলাম। কিন্তু কাজ হয়নি। 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস মিয়া বলেন, শেখ হেমায়েত আলীর ঠিকাদারি লাইসেন্সটি ব্যবহার করে এ কাজটি করছেন নেত্রকোনার গাজী মোজাম্মেল হোসেন টুকু। সড়কের কাজের গুণগত মান ভাল হয়েছে। কাজে কোন অনিয়ম হয়নি। টেস্ট রিপোর্ট দিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে কাজের বিল মনে হয় এখনো হয়নি। 

এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, কাজের বিল মনে হয় এখনো হয়নি। তবে টেস্ট রিপোর্ট দিয়ে দেয়া হয়েছে। কাজের যতটুকু দেখেছি ভালই হয়েছে মনে হয়েছে। তবে কাজে অনিয়ম হয়ে থাকলে বিষয়টি দেখবো। 

এ ব্যাপারে ইউএনও আরিফুজ্জামান বলেন, ওখানকার একজন ফোন করে সড়কের অনিয়মের বিষয়টি জানিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গেই আমি এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলীকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। তারপরও যদি কোথাও কোনো সমস্যা থাকে। সুনির্দিষ্ট করে তথ্য দিলে অবশ্যই গুরুত্বসহকারে বিষয়টি দেখবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস