তূর্ণার দুই হাজার টাকার উদ্যোগ ছাড়িয়েছে পাঁচ লাখ

ঢাকা, সোমবার   ১০ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৭ ১৪২৮,   ২৭ রমজান ১৪৪২

তূর্ণার দুই হাজার টাকার উদ্যোগ ছাড়িয়েছে পাঁচ লাখ

জাককানইবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৩০ ৪ মে ২০২১   আপডেট: ১২:৩২ ৪ মে ২০২১

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তূর্ণার  অনলাইন বিজনেস আঁরশিলতা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তূর্ণার অনলাইন বিজনেস আঁরশিলতা

নিজের জমানো দুই হাজার টাকা দিয়ে গহনা তৈরির কিছু কাঁচামাল কিনেন। সেগুলো দিয়ে তৈরি করেন কাঠের জুয়েলারি। প্রথমে দুইটি জুয়েলারি বিক্রি করতেন ২৫০ টাকায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মেলায় অংশগ্রহণ করে চার হাজার টাকা বিক্রি করেন। সে মুনাফা থেকে আবারো কিনেন গহনা তৈরি কাঁচামাল। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সেই দুই হাজার টাকার ব্যবসা এখন পাঁচলক্ষ টাকা ছাড়িয়েছে। বলছিলাম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তূর্ণা’র কথা।

ফাইজাহ্ ওমর তূর্ণা নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়। ছোটবেলা থেকেই পেইন্টিংয়ের কাজের প্রতি ঝোঁক ছিল। সেই নেশা থেকেই হয়েছেন উদ্যোক্তা। ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল শুরু করেন অনলাইন বিজনেস। তার উদ্যোগের নাম দেন আঁরশিলতা।

শুরুর গল্প সম্পর্কে তূর্ণা বলেন, ‘ইউএন উইমেন’ এর উইমেন এন্টারপ্রেনারশিপ নামক প্রকল্পের অধীনে একটি কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছিলাম। সেখানে অনেক নারী উদ্যোক্তারা তাদের সফলতার গল্প শুনিয়ে ছিল। সেখান থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন গেঁথেছিল মনে। একদিন নিজ বাড়ি থেকে ক্যাম্পাসে আসার সময় নেত্রকোনার ট্রেন থেকে নেমে নিজের জমানো দুই হাজার টাকা দিয়ে কিনি গহনার কিছু কাঁচামাল। রং, পুতি, কিছু কাঠের ও এন্টিকের জিনিস আর গ্লু গান। এভাবেই শুরু হয়। 

তূর্ণা বলেন, শুরুতে পরিবারের কোন সাপোর্ট পাইনি। বেশ সমস্যা থাকার পর খাপ খাইয়ে নিয়েছি। এই দীর্ঘ পথচলায় আমাকে কয়েকজন বেশ সহযোগিতা করেছে। এগিয়ে যাওয়ার পথে সবচেয়ে বেশী ভূমিকা রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়েল সিনিয়র ভাই শাহীনুর রহমান শিমুল। যিনি এই ব্যবসার অংশীদার। পেইজের ডিজিটাল করণের কাজগুলো করেন আরিফ আহমেদ।

আঁরশিলতায় পাওয়া যায় বেশির ভাগ দেশি পণ্য। স্থানীয় দেশীয় শিল্প, দেশীয় পোশাক, খাদি পাঞ্জাবি, বাটিক শাড়ি ও থ্রি-পিস, মণিপুরি শাড়ি, থ্রি-পিস, ওড়না, টাংগাইলের শাড়ি, সিলেটের চা পাতা, হস্তশিল্প, কাঠের ও এন্টিকের গহনা, ড্রাইফ্রটস, কাজু বাদাম, কাঠ বাদাম, সুন্দরবনের মধুসহ আরো কিছু পণ্য।

ফাইজাহ্ ওমর তূর্ণা বলেন, দুই হাজার টাকা দিয়ে উদ্যোগ শুরু করি। অল্প অল্প করে সখান থেকে বিক্রি ছাড়িয়েছে ৫ লাখ টাকা। যেখানে মূলধনের বাইরেও বেশ ভালো মুনাফা রয়েছে। প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকার বেশি অর্ডার পাই। 

ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে তূর্ণা বলেন, অনেকের উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছে থাকে। আমার এলাকার যেসব নারীদের এন্টারপ্রেনারশিপে আগ্রহী তাদের হ্যান্ড পেইন্ট শেখানোর ইচ্ছা রয়েছে। এছাড়াও প্রত্যন্ত অঞ্চলে আদিবাসীদের নিয়ে কাজ করতে চাই। একদিন আঁরশিলতার নিজস্ব কারখানা ও শো-রুম হবে। সেই কারখানায় অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আঁরশিলতাকে বাংলাদেশের অন্যতম একটি ব্র্যান্ড হিসেবে দেখতে চাই।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম