খুলনার একই পরিবারের নিহত ৪ জনের দাফন সম্পন্ন

ঢাকা, রোববার   ০৯ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৬ ১৪২৮,   ২৬ রমজান ১৪৪২

শিবচর ট্র্যাজেডি

খুলনার একই পরিবারের নিহত ৪ জনের দাফন সম্পন্ন

খুলনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৩৭ ৪ মে ২০২১  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মাদারীপুরের শিবচরে পুরাতন কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে বালুভর্তি বাল্কহেডের সংঘর্ষে নিহত খুলনার একই পরিবারের ৪ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

এসময় খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান জামাল, তেরখাদা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহীদুল ইসলাম, যুবলীগের আহবায়ক মো. শফিকুর রহমান পলাশ, সদর ইউপির চেয়ারম্যান এফএম অহিদুজ্জামানসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

নিহতরা হ‌লেন- তে‌রোখাদার পা‌রোখালী এলাকার ম‌নির শিকদার, তার স্ত্রী হেনা বেগম, শিশু কন্যা সু‌মি ও রু‌মি খাতুন। ৫ সদস্যের পরিবারটির একমাত্র সন্তান হিসেবে জীবিত আছে বড় মেয়ে ৮ বছরের মেয়ে মিম। মা-বাবা, দুই বোনকে হারিয়ে শিশু মিম এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। তার কান্না যেন আর থামছে না। অবুঝ এই শিশুকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষাও নেই স্বজন-প্রতিবেশীদের। এই শিশু এখন কীভাবে কোথায় থাকবে, তার ভবিষ্যৎ কী হবে- এ নিয়ে এখন সবাই চিন্তিত। শিশু মিমের কান্নায় চোখ ভিজে উঠছে তাদেরও।

তেরখাদা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ১ সপ্তাহের মধ্যে মিমের জন্য ১ লাখ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া মিমের বিয়ের আগ পর্যন্ত আমরা তার ভরণপোষণ দিবো বলে এলাকাবাসীর কাছে ওয়াদা দিয়েছি।

এর আগে সোমবার রাত ৭টার দিকে তেরখাদা উপজেলা সদরের পারোখালী গ্রামে মনির শিকদারের লাশ বাড়িতে এসে পৌছেঁছে। সেই থেকে বাড়িসহ পুরো এলাকায় চলে শোকের মাতম।

জানা যায়, ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন মনির শিকদার। তিন মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন ঢাকার মিরপুরে। রোববার রাত ৮টায় খুলনার তেরখাদার বাড়িতে মারা যান মনির শিকদারের মা। মায়ের মরদেহ দেখতে পরিবারের সবাইকে নিয়েই খুলনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। কিন্তু মায়ের মরদেহ দেখতে সবাইকেই যে লাশ হতে হবে-তা কে জানতো? এক শোক কাটিয়ে উঠতেই আরেক শোকে মুহ্যমান সবাই।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনির শিকদারের বাবা আলম শিকদার মারা গেছেন আরো আগে। রোববার রাত ৮টায় মা মারা যাওয়ার সংবাদ রাতেই মনিরকে জানানো হয়। সবার সিদ্ধান্ত ছিলো সকালে মনির এসে পৌঁছালে মায়ের দাফন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু সকাল থেকে মনিরের মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় তারা আর অপেক্ষা করেননি। সোমবার সকাল ১০টায় মনির শিকদারের মা লাইলী বেগমের জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস