রমজানের শেষ ১০ দিন প্রিয় নবী যে আমল করতেন

ঢাকা, রোববার   ০৯ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৬ ১৪২৮,   ২৬ রমজান ১৪৪২

 রমজানের শেষ ১০ দিন প্রিয় নবী যে আমল করতেন

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৮:৩১ ৪ মে ২০২১   আপডেট: ০৮:৫৭ ৪ মে ২০২১

রমজানের শেষ দশদিন বিশেষ কিছু আমল করা উওম। ফাইল ছবি

রমজানের শেষ দশদিন বিশেষ কিছু আমল করা উওম। ফাইল ছবি

আত্মশুদ্ধির মাস পবিত্র মাহে রমজান। সকল মাসের সেরা এই মাস মুসলমানদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো হলো রমজানের শেষ ১০ দিন। রমজানের শেষ ১০ অর্থাৎ নাজাতের দিনগুলো রাসূলুল্লাহ (সা.) বিশেষ কিছু আমল করতেন। নিম্নে তা তুলে ধরা হলো- 

রাত জেগে ইবাদত করতেন
পবিত্র রমজানে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইবাদতের মাত্রা খুব বেশি বাড়িয়ে দিতেন। রাত জেগে আমল করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) শেষ দশকে ইবাদতের মাত্রা এত বেশি বাড়িয়ে দিতেন- যেমনটি অন্য সময় করতেন না। (আস সুনানুল কুবরা, হাদিস : ৮৩৫১; মুসলিম, হাদিস : ১১৭৫)

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যখন রমজানের শেষ ১০ রাত আসত, তখন নবী করিম (সা.) কোমরে কাপড় বেঁধে নেমে পড়তেন (বেশি বেশি ইবাদতের প্রস্তুতি নিতেন) এবং রাত জেগে থাকতেন। আর পরিবার-পরিজনকেও তিনি জাগিয়ে দিতেন।’ (বুখারি শরিফ, হাদিস : ১০৫৩)

পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে তোলা : রমজানের শেষ দশকে রাসূলুল্লাহ (সা.) সারা রাত জেগে থাকতেন। শেষরাতে পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রমজানের শেষ ১০ এলে রাসূল (সা.) কোমর শক্ত করে বেঁধে নিতেন এবং রাত জেগে থাকতেন ও পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন। (বুখারি, হাদিস : ২০২৪)

তাহাজ্জুদের জন্য অন্যকে জাগানোর ব্যাপারে রাসূল (সা.)-এর পক্ষ থেকে তেমন জোর দেয়া না হলেও রাসূল (সা.) তার প্রিয় কন্যা ফাতেমা (রা.)-এর দরজায় নামাজের জন্য ডেকেছেন এমন বর্ণনাও পাওয়া যায়। হজরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সা.) এক রাতে তার কন্যা ফাতেমা (রা.)-এর নিকট এসে বলেন, ‘তোমরা কি সালাত আদায় করছ না?’ (বুখারি, হাদিস : ১১২৭)

ইতিকাফ করেছেন
শেষ দশকের ইতিকাফের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইতিকাফ করেছেন, সাহাবায়ে কেরামও করেছেন, তাই আমাদের জন্যও ইতিকাফ করা সুন্নত। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘ইন্তেকাল পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করেছেন, এরপর তার স্ত্রীরাও ইতিকাফ করেছেন।’ (বুখারি, হাদিস : ১৮৬৮; মুসলিম, হাদিস : ২০০৬)

সাহাবায়ে কেরামকে শেষ দশকে ইতিকাফের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি কদরের রাতের সন্ধানে প্রথম ১০ দিন ইতিকাফ করলাম। এরপর ইতিকাফ করলাম মধ্যবর্তী ১০ দিন। অতঃপর ওহি প্রেরণ করে আমাকে জানানো হলো যে তা শেষ ১০ দিনে। সুতরাং তোমাদের যে ইতিকাফ পছন্দ করবে, সে যেন ইতিকাফ করে।’ এরপর মানুষ তার সঙ্গে ইতিকাফে শরিক হয়। (মুসলিম,  হাদিস : ১৯৯৪)

লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান
রমজানের শেষ ১০ দিন শান্তির বার্তা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে মহাগ্রন্থ আল-কোরআন। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি একে নাজিল করেছি মহিমান্বিত রাতে (লাইলাতুল কদর)। আপনি কি জানেন মহিমান্বিত রাত কী? মহিমান্বিত রাত হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। সেই রাতে প্রতিটি কাজের জন্য ফেরেশতারা এবং রুহ তাদের প্রতিপালকের আদেশক্রমে অবতীর্ণ হয়। সেই রাতে শান্তিই শান্তি, ফজর হওয়া পর্যন্ত।’ (সুরা : কদর, আয়াত : ১-৫)

বিভিন্ন হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, উল্লিখিত আয়াতে মহিমান্বিত যে রাতের কথা বলা হয়েছে, তা এই শেষ দশেই লুকিয়ে আছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা শেষ ১০ রোজার বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান করো। (বুখারি, হাদিস : ২০১৭)

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে