চবির ইফতার আয়োজন শুধুই স্মৃতি 

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৩ ১৪২৮,   ২৩ রমজান ১৪৪২

চবির ইফতার আয়োজন শুধুই স্মৃতি 

চবি প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:০১ ৩ মে ২০২১  

বিকেল হলেই রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের ইফতারের প্রস্তুতিতে প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠত ক্যাম্পাস। (ফাইল ছবি)

বিকেল হলেই রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের ইফতারের প্রস্তুতিতে প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠত ক্যাম্পাস। (ফাইল ছবি)

বিকেল হলেই রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের ইফতারের প্রস্তুতিতে প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠত ক্যাম্পাস। বন্ধু-সহপাঠী,বড়-ছোট সবাইকে নিয়ে পছন্দের জায়গায় বসে ইফতার আয়োজনের ব্যস্ততা ছিলো। করোনার কারণে সব আয়োজনে নিস্তব্ধতার উপস্থিতি। ব্যতিক্রম নয় দেশের সর্ববৃহৎ ক্যাম্পাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

রমজানজুড়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইফতার আয়োজন আজ অনুপস্থিত। করোনা সংক্রমণের কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় গত বছরের মতো এবারও ইফতার করার সুযোগ হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইফতার মানেই আলাদা অভিজ্ঞতা। শেষ রাতে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বসে সেহরি খাওয়ার অন্যরকম রোমাঞ্চ। ক্যাম্পাসে সবুজ ঘাসের ওপর পত্রিকা বিছিয়ে সহপাঠী বা বন্ধুদের নিয়ে ইফতার করলে সব ক্লান্তি যেন এক নিমিষেই দূর হয়ে যেতো। ক্যাম্পাসে ইফতারের আরেকটা দারুণ দিক হলো প্রতিদিনের আয়োজনের বাইরেও মাঝে-মধ্যেই একটু ঘটা করে ইফতার পার্টির আয়োজন। আর এই ইফতার আয়োজনগুলো শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠতো বিশাল গেট টুগেদারে। আর বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এসে যুক্ত হতেন অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও। এমন আড্ডা মানেই তো নানা ঠাট্টা-তামাশা আর বাধনহারা হাসির ফোয়ারা। পুরো রমজান মাস জুড়েই ক্যাম্পাসে ইফতার আয়োজন ছিলো চোখে পড়ার মতো।

এ ছাড়াও, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জেলা ও অঞ্চলভিত্তিক সংগঠন এবং বিভিন্ন বিভাগের পক্ষ থেকে ইফতারের আয়োজন তো থাকতোই। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ক্যাম্পাসের বিভন্ন স্থানে বসে ইফতার করতেন  শিক্ষার্থীরা। বুদ্ধিজীবী চত্বর থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মসজিদের খোলা বারান্দায়, ছেলেদের হলের সামনের ফাঁকা জায়াগা, মেয়েদের হলের সামনে, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, ফরেস্টি এবং বায়লোজি পুকুর পাড়সহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ফাঁকা জায়গায় বিকেল হলেই ইফতারের পসরা সাজিয়ে বৃত্তাকার হয়ে বসতেন সবাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলের সামনে ছোটখাটো ইফতারির দোকান বসতো। শিক্ষার্থীদের পছন্দের সব আইটেম বানিয়ে রাখতেন দোকানিরা। এর মধ্যে- ছোলা, মুড়ি, চপ, বেগুনি, জিলাপি, খেঁজুর প্রভৃতি। তবে ক্যাম্পাসের যেখানেই ইফতার হোক না খাবার দাবারে কিন্তু আহামরি কোনো আয়োজন থাকতো না। গতানুগতিক খাবারই বেশির ভাগ সময়ে ছিল। কিন্তু বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় আড্ডায় এসব খাবারই যেন অমৃত মনে হতো শিক্ষার্থীদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহমেদ ফয়সাল তার অনূভুতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই প্রতিবছর আমরা বন্ধুরা একসঙ্গে ইফতার করেছি। কিন্তু করোনা এসে দুইবছর থেকে সেই সুযোগ হচ্ছে না। এমন করে ইফতারি আর করা হবে কি না জানি না। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ইফতার করাটা খুব মিস করব। এখন ঘরে বসে ইফতার করলেও প্রতিদিন সেই স্মৃতি মনে পড়ে আর ভীষণ খারাপ লাগে।

ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে ইফতারের স্মৃতি ভেসে উঠছে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী সাইকা খানমের। বললেন, বন্ধুদের সাথে কাটানো এতদিনের মধুর সময়গুলো ভীষণ মিস করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার পড়াশোনা প্রায় শেষের দিকে। হয়তো হলের ছাদে কিংবা খেলার মাঠে হৈ-হুলোড় করে সবার সাথে আর ইফতার করা হবে না। এ সময়টুকু খুব মিস করব।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম