সিমা ঝুলছিলো ফাঁসে, নিচে তারই নবজাতকের লাশ

ঢাকা, সোমবার   ১০ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৭ ১৪২৮,   ২৭ রমজান ১৪৪২

সিমা ঝুলছিলো ফাঁসে, নিচে তারই নবজাতকের লাশ

ফেনী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০২ ৩ মে ২০২১   আপডেট: ১৮:০২ ৩ মে ২০২১

স্বামী আকাশের সঙ্গে সিমা আক্তার

স্বামী আকাশের সঙ্গে সিমা আক্তার

পরিবারের সবাইকে ফাঁকি দিয়ে গত বছরের রমজানে পাশের এলাকার আকাশের সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন সিমা। এক বছরের মধ্যে আবার রমজানেই লাশ হয়ে বাবার বাড়িতে ফিরলেন তিনি। ভাড়া বাসার ঘরে ফাঁসে ঝুলছিল সিমার লাশ। আর লাশের নিচে পড়ে ছিল তার নবজাতক।

ঢাকার উত্তর বাড্ডা এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে সীমার ও ভূমিষ্ঠ নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে ভাটারা থানা পুলিশ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।

জানা গেছে, নিহত সিমা আক্তার ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরমজলিশপুর ইউনিয়নের চরগোপালগাঁওয়ের ইতালি প্রবাসী মো. ইব্রাহিমের মেয়ে। তিনি ফেনী জয়নাল হাজারী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্বামী বগাদানা ইউনিয়নের মৃত ওবায়দুল হকের ছোট ছেলে আবদুল্লাহ আল মাহমুদ আকাশ।

পুলিশ জানিয়েছে, আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন সিমা। তার ঝুলন্ত লাশের নিচেই পড়ে ছিল গর্ভের সন্তানের লাশ। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে গ্রামের বাড়িতে সিমার লাশ দাফন করা হয়। এদিকে বৃহস্পতিবার রাতেই সিমার স্বামী আকাশকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

সিমার পরিবার সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে আকাশের সাথে প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করে সিমা। এরপর থেকে তারা ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ভাড়া বাসায় থাকতো। বৃহস্পতিবার রাতে আকাশের মোবাইল থেকে সিমার বাবাকে ফোন করে জানানো হয় তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। ঢাকার উত্তর বাড্ডা এলাকায় ভাড়া বাসায় তার মরদেহ আছে।

খবর পেয়ে সিমার বাবা ইব্রাহীম ওই বাসায় গিয়ে জানতে পারেন ভাটরা থানার পুলিশ তার কন্যা ও ভূমিষ্ঠ নবজাতকে লাশ উদ্ধার করে।

এ প্রসঙ্গে সিমার বাবা মো. ইব্রাহীম বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। এ বিষয়ে ঢাকার ভাটারা থানায় আকাশকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন তিনি।  

স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানান, মেয়েটাকে ফুসলিয়ে নিয়ে এক বছরের মাথায় লাশ করে পাঠিয়েছে আকাশ। সে একজন প্রতারক। সে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকার অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ