৪৬ লাখ জাল টাকা উদ্ধার: ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারসহ ৩ জন রিমান্ডে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৩ ১৪২৮,   ২৩ রমজান ১৪৪২

৪৬ লাখ জাল টাকা উদ্ধার: ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারসহ ৩ জন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২৬ ৩ মে ২০২১  

গ্রেফতার হওয়া দুই ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার দেখাচ্ছেন কিভাবে তারা জাল টাকা বানাতেন - ডেইলি বাংলাদেশ

গ্রেফতার হওয়া দুই ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার দেখাচ্ছেন কিভাবে তারা জাল টাকা বানাতেন - ডেইলি বাংলাদেশ

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৬ লাখ জাল টাকা উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় দুই ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারসহ তিন জনের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরীর আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। 

আসামিরা হলেন- জীবন হোসেন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইমাম হোসেন ও পিয়াস করিম।

এদিন তিন আসামিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রত্যেক আসামির সাত দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

এর আগে, গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন নোয়াগাঁও এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই মিনি কারখানার থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ তাদের গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দুইটি ল্যাপটপ, দুইটি প্রিন্টার, হিট মেশিন, বিভিন্ন ধরনের স্ক্রিন, ডাইস, জাল টাকার নিরাপত্তা সূতা, বিভিন্ন ধরনের কালি, আঠা এবং স্কেল কাটারসহ আরো অনেক সামগ্রী যা দিয়ে আরো কম করে হলেও দেড় কোটি জাল টাকা তৈরি করা সম্ভব হতো।

জানা যায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আসামি পিয়াস ও ইমাম হোসেন বরিশাল পলিটেকনিক্যাল থেকে নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সাইন্স বিষয়ে ডিপ্লোমা অর্জন করেছে। ইতোপূর্বে তারা গ্রামীনফোনে নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতো। বেশি টাকা প্রাপ্তির লোভে তারা বৈধ চাকরি ছেড়ে দিয়ে জাল টাকা তৈরির অবৈধ কাজে যোগদান করে। এই দুই ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের তৈরি জাল টাকার কোয়ালিটি যথেষ্ট উন্নত। আসন্ন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে লক্ষ্য করে জাল টাকা তৈরি করার বড় ধরনের পরিকল্পনা ছিল তাদের।  

চক্রটি প্রথমদিকে সাভারের জ্ঞানদা এলাকায় জাল টাকা তৈরি করত। ঈদকে কেন্দ্র করে গত তিনমাস ধরে তারা কামরাঙ্গীরচরে জাল টাকা তৈরির ব্যবসা শুরু করে। চক্রটির দলনেতা জীবন। এর আগেও জাল টাকা তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তার একাধিকবার জেল হয়েছে। জেল থেকে বেরিয়ে সে আবার জাল টাকা বানানোর কাজ শুরু করে। জীবনকে বেশ কিছুদিন ধরে পুলিশ অনুসরণ করছিল। অবশেষে সে ধরা পড়ে।

এ ঘটনায় রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ