করোনার থাবা ঐতিহ্যবাহী জামদানি শিল্পে  

ঢাকা, রোববার   ০৯ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৬ ১৪২৮,   ২৬ রমজান ১৪৪২

করোনার থাবা ঐতিহ্যবাহী জামদানি শিল্পে  

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:১৮ ৩ মে ২০২১   আপডেট: ১৩:৩৪ ৩ মে ২০২১

করোনার থাবা ঐতিহ্যবাহী জামদানি শিল্পে

করোনার থাবা ঐতিহ্যবাহী জামদানি শিল্পে

বিয়ে-সাদী কিংবা ঈদে বাঙালি রমণীর জামদানি শাড়ি ছাড়া না-কি চলেই না। অনুষ্ঠানে কিংবা পার্বণের সময় জামদানীর চাহিদা বেশি থাকায় ওই সময় জামদানি শিল্পীরা ব্যস্ত সময় কাটান। আর ঈদ এগিয়ে আসলেতো কথাই নেই। ঈদের আগে নাওয়া-খাওয়ার ফুসরতটুকু পাননা জামদানি শিল্পীরা। কিন্তু এবারের চিত্র ঠিক উল্টো। 

এবার জামদানি শিল্পীরা বেকার ও অলস সময় কাটাচ্ছেন। আগের বছরগুলোতে ভারত, সৌদি, দুবাই, ইন্দোনেশিয়ায় জামদানি শাড়ি রফতানি করা গেলেও এবার লকডাউনের কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফলে কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে বঞ্চিত হয়েছে দেশ। 

বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে বাংলাদেশকে দাঁড় করিয়ে দিতে যে শিল্পীরা শ্রম-ঘাম জড়াচ্ছেন তাদের জন্য নেই সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা। ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত জামদানি পল্লীর ১০ হাজার শিল্পীর মাথায় হাত। মানবেতর দিনযাপন করতে তারা। 

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের নোয়াপাড়া জামদানি পল্লী ঘুরে দেখা গেছে, জামদানী পল্লীতে আগের মতো খুট-খাট শব্দ নেই। নেই কোলাহল। লকডাউনের কারণে গত ২৩ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে জামদানি কারখানাগুলো। জামদানি বিক্রির হাটও বন্ধ। অথচ প্রতিবছর ঈদ এগিয়ে আসলে নাওয়া-খাওয়া ভুলে কারিগররাকে কতো শাড়ি তৈরি করতে পারেন তা-নিয়ে চলতো প্রতিযোগীতা। এবারের ঈদে চিত্র ঠিক এর উল্টো। দেখে মনে হবে যেন এক ভূতুরে নগরী। আবার তাঁতিরা শুয়ে-বসে অলস সময় পার করছেন। কেউ লুডু খেলা অথবা আড্ডা দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। তবে কোনো তাঁতি স্বল্প পরিসরে জামদানীর কাজ করলেও বিক্রি করতে পারছেন না। তাঁত বুননের কাজ না থাকায় কয়েকজন তাঁতিকে এলাকায় রাস্তার পাশে বসে কাচাঁমালসহ রমজানের বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতে দেখা যায়। 

জামদানি শিল্পীরা বলেন, ঈদে দেশের বাজার ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, মিশর, সৌদি আরব, দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে জামদানি শাড়ি রফতানী হতো। লকডাউনের কারণে এবার জামদানি রফতানী বন্ধ রয়েছে। ফলে কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে বঞ্চিত হয়েছে দেশ।

 

তাঁতিরা বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনের কারণে তাঁতিদের তেমন কোনো ব্যস্ততা নেই। কর্মহীনভাবে দিন কাটছে তাদের। কয়েকজন শাড়ি তৈরি করলেও তা বিক্রি করতে পারছেন না। সংসার চালাতে গিয়ে দু’চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন তারা। কথা হয় শিল্পী নুরুল হক মিয়ার সঙ্গে। 

তিনি বলেন, ‘করোনা আমাদের শেষ কইরা দিছে। এহন লুডু আর কেরাম খেইলা সময় কাটাই। সংসার চালানোর মতো টাকা নেই। সরকার সবাইরে প্রণোদনা দিতাছে। অথচ জামদানি শিল্পীরা বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে তুইল্যা ধরে তাদের খবর কেউ নেয় না।’ 

শিল্পী সাবেকুন, বিউটি আক্তার, ঝর্না বেগম, আতিকুল ইসলাম বলেন, শরীরের ঘাম জড়াইয়া জামদানি শাড়ি বানাই। এই শাড়ি সারা বিশ্বে চলে। কিন্তু আমাদের দাম নাই।

মহাজন এরশাদ, ইসমাঈল, আনোয়ার, মজিবুর বলেন, আগে ঈদ আসলে ভারত, সৌদি, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে জামদানির চাহিদা থাকতো। করোনার কারণে সব শেষ। 

এ ব্যাপারে তারাব বিসিক জামদানি পল্লীর সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, লকডাউনের কারণে শতকরা ৯০ ভাগ তাঁতি কর্মহীন হয়ে কষ্টে দিন পার করছে। সরকারের কাছে তাদের প্রণোদনার দাবি জানাচ্ছি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে