স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভিসা কার্যক্রম চালু করতে শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৩ ১৪২৮,   ২৩ রমজান ১৪৪২

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভিসা কার্যক্রম চালু করতে শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:৫৪ ৩ মে ২০২১   আপডেট: ০০:৫৪ ৩ মে ২০২১

জার্মান দূতাবাস, ঢাকা -ফাইল ছবি

জার্মান দূতাবাস, ঢাকা -ফাইল ছবি

লকডাউনের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাংলাদেশস্থ জার্মান দূতাবাসের ভিসা কার্যক্রম চালু করার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ চলার সময়ে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে সর্বাত্মক স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ ভিসা কার্যক্রম চালু করার জন্য সরকারি নির্দেশনা দেয়ার অনুরোধ জানান।

পাশাপাশি বাংলাদেশস্থ জার্মান দূতাবাস ভিসা কার্যক্রমে অতিরিক্ত মানবসম্পদ নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জার্মান দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনার জন্যও অনুরোধ করা হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত এক বছরে প্রায় সহস্রাধিক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জার্মানির বিভিন্ন পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হয়ে গত ৩ সেমিস্টার (সামার ২০২০, উইন্টার ২০২০/২১, সামার ২০২১) অনলাইনে ক্লাস করছে (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জরিপ অনুযায়ী)। এরই মধ্যে প্রায় প্রত্যেকেই ব্লক অ্যাকাউন্টের ১১ লাখ টাকা জমা রেখেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে অনেকেই কয়েক লক্ষাধিক টাকা টিউশন ফিও জমা দিয়েছেন। তাই প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ভিসা সাক্ষাৎকার ও ভিসা প্রাপ্তির প্রত্যাশায় থাকলেও কঠোর বিধিনিষেধের আগে খুবই অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থীই দূতাবাস থেকে তাদের ভিসা কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সর্বাত্মক বিধিনিষেধের আরোপের কারণে অধিকাংশেরই ভিসা কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

জার্মানিতে গত তিন সেমিস্টার অনলাইনভিত্তিক পাঠ্যক্রম চললেও আগামী সেমিস্টার থেকে জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসরুম ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমতাবস্থায় সর্বাত্মক স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মিত বাংলাদেশস্থ জার্মান দূতাবাসের কার্যক্রম চালু না হলে যথাসময়ে ভিসা পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

জার্মানিতে শিক্ষাব্যবস্থা থিওরি, প্র্যাকটিক্যাল ও ইন্টার্নশিপের সমন্বয়ে চালানো হয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে থিওরি ক্লাস অনলাইনে চললেও প্র্যাকটিক্যাল এবং ওয়ার্কশপ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হয়। প্রতিষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থেকে ইন্টার্নশিপে অংশ নিতে হয়।

শুধুমাত্র থিওরি ক্লাসে অংশ নিয়ে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ একেবারেই ক্ষীণ। তাই শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগ বিষয়ের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। লাইব্রেরিতে ঢোকার সুযোগ না থাকায় রিসার্চভিত্তিক অধ্যয়ন থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। এমতাবস্থায় শুধুমাত্র ভিসা জটিলতার কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময়ী এ মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনেক শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু ইন্টারনেট কানেকশনের সমস্যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস লেকচার যথাযথভাবে বুঝতে পারছেন না। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীরা তাদের প্রেজেন্টেশন ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এরই মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডর্মেটরি এবং স্বাস্থ্য বীমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বাংলাদেশ থেকে পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে তারা প্রাপ্ত সুবিধাদি ভোগ করতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপিতে বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ সরকার উচ্চ শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। যা এগিয়ে নেবে শিক্ষার্থীদের স্বপ্নকে, গবেষণা কার্যক্রমকে, সর্বোপরি এগিয়ে নেবে বাংলাদেশকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর