চলন্ত বাসে ডাকাতিকালে কী ঘটেছিল, বর্ণনা দিলেন যাত্রী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৬ অক্টোবর ২০২২,   ২১ আশ্বিন ১৪২৯,   ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

চলন্ত বাসে ডাকাতিকালে কী ঘটেছিল, বর্ণনা দিলেন যাত্রী

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:০৫ ৪ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ১৬:৫১ ৪ আগস্ট ২০২২

বাসটি সড়কের পাশে উল্টিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। ছবি: সংগৃহীত

বাসটি সড়কের পাশে উল্টিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের মধুপুরে মধ্যরাতে চলন্ত বাস ৩ ঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডাকাতি ও এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন এক যাত্রী। ওই যাত্রী কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সালিমপুর এলাকার ফল ব্যবসায়ী। তিনি গত মঙ্গলবার রাতে স্ত্রী, দুই সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে ওই বাসে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন।

ওই যাত্রী বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্ত্রী, চার বছরের ছেলে ও দুই বছরের মেয়ে এবং শাশুড়িকে নিয়ে দৌলতপুরে তারাগুনিয়া এলাকা থেকে ঈগল পরিবহনের বাসে ওঠেন। এ সময় বাসে ১০-১৫ জন যাত্রী ছিলেন। বাসটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জে একটি হোটেলের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। 

বিরতি শেষে বাস চলতে থাকলে রাত ১২টার দিকে মহাসড়কে বাসের সামনে থেকে হাত তুলে ইশারা দেন চার তরুণ। এ সময় বাসচালকের সহকারী সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ওই তরুণদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তারা বাসে ওঠেন এবং সুপারভাইজারের সঙ্গে কথা বলে বাসের পেছনের দিকে গিয়ে বসেন। তবে তাদের মুখে মাস্ক ছিল। একজনের পিঠে ব্যাগ ছিল। 

তারা পেছনে বসার পরপরই মোবাইল ঘাটাঘাটি শুরু করেন। বাস চলার ১৫ মিনিট পর রাস্তা থেকে আরো পাঁচজন বাসে ওঠেন। এর কয়েক মিনিট পর আরেকটু সামনে গিয়ে আরো দুজন ওঠে চালককে বাস থামাতে বলেন। চালক রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে চালকের সিটে বসে বাসের নিয়ন্ত্রণ নেন একজন।

কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুরুষ যাত্রীদের গলায় ছুরি ও কাঁচি ধরে রাখেন তারা। এ সময় চার তরুণ বাসের পর্দা কেটে পুরুষ যাত্রীদের মুখ, হাত ও পা বেঁধে ফেলেন। বাসে থাকা ১০-১২ জন নারী যাত্রীর মধ্যে একজনের চোখ, মুখ ও হাত বেঁধে ফেলা হয়। বাকিদের চোখ, মুখ ও হাত খোলা ছিল। ওই একজন নারী যাত্রী তার শাশুড়ি। তখনও স্বাভাবিক গতিতে চলতে থাকে বাস। বাসের আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। পরে তারা সবার শরীর তল্লাশি করে টাকা, মোবাইল এবং নারী যাত্রীদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার লুটে নেয়। 

ওই যাত্রী আরো বলেন, বাসের পেছনের দিক থেকে তিন সিট সামনে বসে ছিলেন তিনি। তার হাত বাঁধা। তার থেকে দুই হাত দূরে এক নারীকে তল্লাশি করার সময় ওই নারী প্রতিবাদ করেন। ওই নারী ডাকাত দলকে বলেন, ‘তোরা যে কাজ করছিস, সেটা ঠিক নয়। আমার এলাকা পাবনায় হলে তোদের দেখে নিতাম।’ এ কথা শোনার পর দুই তরুণ ওই নারীকে মারধর করেন এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন।

ওই যাত্রীর স্ত্রী বলেন, তিনি সিটে তার এক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে মাথা নিচু করে সৃষ্টিকর্তার নাম নিচ্ছিলেন। সামনে আরেক সিটে তার মা বসেছিলেন আরেক সন্তানকে নিয়ে। তার হাত, চোখ, মুখ বাঁধা ছিল। তাদের এক শিশু কান্না করলে তরুণ দলের একজন এসে বলেন, ‘এই কাঁদিস না, আমাদের মতো ছিনতাইকারী হোস না!’

ডাকাত দল সব কাজ শেষ করার পর একে অপরকে ডাকাডাকি করেন। ডাকাত দলের সরদারকে তারা ‘কাকা’ বলে সম্বোধন করছিলেন। মাঝেমধ্যে নুরু, সাব্বির, রকি নামেও ডাকা হচ্ছিল। রাত ৩টার দিকে ডাকাতরা টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালংকার নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি শুরু করে। বাসের ভেতরে ভাগাভাগি নিয়েও তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সড়কের এক পাশে গাড়িটি থামিয়ে দ্রুত তারা নেমে চলে যায়। বাসের ভেতর কোনো যাত্রী মাথা উঁচু করলে বা কথা বলার চেষ্টা করলে তাদেরও মারধর করা হয়।

ওই যাত্রীর ভাষ্য, ভোরের দিকে যখন পুলিশ আসে, তখন কয়েকজন যাত্রীকে হাসপাতালে নেয়া হয়। কয়েকজনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় পুলিশ তাদের দুটি ছবি দেখায়। ছবির দুজন বাসের মধ্যে ছিল বলে যাত্রীরা নিশ্চিত করেন। বুধবার সারা দিন তারা মধুপুর থানাতেই ছিলেন। রাত নয়টার দিকে বিআরটিসির গাড়িতে টিকিট করে তাদের পাঠিয়ে দেয় পুলিশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআরএস/আরআই

English HighlightsREAD MORE »