‘শুরু থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চেয়েছি’

ঢাকা, শুক্রবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২,   ১৫ আশ্বিন ১৪২৯,   ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

যেভাবে শিক্ষার্থী থেকে শিক্ষক…

‘শুরু থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চেয়েছি’

এবিএস ফরহাদ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১১ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২  

প্রভাষক খন্দকার আফরিনা হক। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রভাষক খন্দকার আফরিনা হক। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী খন্দকার আফরিনা হক। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে সর্বোচ্চ ফলাফল করে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করলেও শুরু থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চেয়েছিলেন এই শিক্ষক। সম্প্রতি জার্মানির লিন্ডাউয়ে অনুষ্ঠিত ৭১তম লিন্ডাউ নোবেল লরেট মিটিংয়ে তরুণ গবেষক হিসেবে অংশ নিয়েছেন তিনি।

আফরিনা হকের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ডেইলি বাংলাদেশের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এ বি এস ফরহাদ

ডেইলি বাংলাদেশ: আপনাকে অভিনন্দন। কেমন আছেন?

প্রভাষক আফরিনা হক: ভালো আছি। আপনাকে ধন্যবাদ।

ডেইলি বাংলাদেশ: যতটুকু শুনেছি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল আপনার। সেই স্বপ্ন পূরণের অনুভূতি জানতে চাই… 

প্রভাষক আফরিনা হক: নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া অনেকটা নিজের ঘরে ফিরতে পারার মতো ব্যাপার, যা কিনা সবসময়ই প্রশান্তির। নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে, নিজের বিভাগে এবং নিজের শিক্ষকদের মধ্য থেকে কর্মজীবন শুরু করতে পারা সত্যিই আনন্দের। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে ভর্তি হওয়ার প্রথমদিন থেকেই স্বপ্ন দেখেছি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার। আর সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।

ডেইলি বাংলাদেশ: আরেকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে কুবিতে আসার কারণ কি?

প্রভাষক আফরিনা হক: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আমার প্রথম কর্মস্থল। এরপরও আমি সবসময়ই চেয়েছি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসতে। যেহেতু এ বিশ্ববিদ্যালয় আমার মাতৃপ্রতিষ্ঠান, এ বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে তৈরি করেছে। আমি এর প্রতি দায়বদ্ধ। এখন সময় হয়েছে আমার নিজের জায়গা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কিছু করার। আর এখানকার শিক্ষক হিসেবে সেটা করার সুযোগটা অনেক বেশি। 

ডেইলি বাংলাদেশ: আপনি শিক্ষার্থী থাকাকালে কীভাবে পড়ালেখা করেছেন? সাফল্যের পেছনের গল্প কী?

প্রভাষক আফরিনা হক: শিক্ষার্থী জীবনে লেখাপড়া করেছি নিয়মিতভাবে। সময়ের কাজ সময়ে করেছি, আগামীদিনের জন্য ফেলে রাখিনি। আমি নিজেকে খুব মেধাবীর কাতারে ভাবি না। তবে হ্যাঁ, আমি মনে করি নিয়মিত লেখাপড়া, সৎ প্রচেষ্টা আর ধৈর্যের সমন্বয় আমাকে সফলতা এনে দিয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ: আপনার লেখাপড়ায় সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণায় কে ছিলেন?

প্রভাষক আফরিনা হক: আমার লেখাপড়ায় সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন আমার শিক্ষক বাবা। তিনিই সবসময় আমাকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন ভালো কিছু করার। আর সে স্বপ্ন পূরণের পথ দেখিয়েছেন আমার শিক্ষকরা। আমি মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ যে, আমার একাডেমিক জীবনের প্রত্যেক স্তরে আমি কোনো না কোনো শিক্ষককে অভিভাবক হিসেবে পেয়েছি। যারা আমাকে আমার লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ: আপনার শিক্ষাজীবন নিয়ে কিছু স্মৃতিকথা শুনতে চাই…

প্রভাষক আফরিনা হক: আমার প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি চান্দশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কসমিক ও উদয়ন বেসরকারি বৃত্তিতে উপজেলা পর্যায়ে প্রথম হই। মিয়াবাজার লতিফুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জুনিয়র স্কলারশিপ এবং জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি সম্পন্ন করি। পরে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে জিপিএ-৪.৯০ পেয়ে এইচএসসি সম্পন্ন করি। 

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে। সিজিপিএ-৩.৮৯ (৪.০০ এর মধ্যে) (প্রথম স্থান) নিয়ে স্নাতক এবং ৩.৯১ (প্রথম স্থান) নিয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করি। এরই মধ্যে আমি নোবেল কমিটির আয়োজনে জার্মানির লিন্ডাউয়ে অনুষ্ঠিত ৭১তম লিন্ডাউ নোবেল লরেট মিটিংয়ে তরুণ গবেষক হিসেবে অংশগ্রহণ করেছি। কর্মজীবন শুরু করেছি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক হিসেবে। এখন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেছি।

ডেইলি বাংলাদেশ: লেখাপড়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল কি না? 

প্রভাষক আফরিনা হক: না। লেখাপড়ার ক্ষেত্রে বরাবরই সর্বোচ্চ পারিবারিক সাপোর্ট পেয়ে এসেছি। আমার পরীক্ষার সময় আমার সঙ্গে সঙ্গে বাবা-মায়ের রাত জেগে থাকা, ভাইবোনদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা ও উৎসাহ আমাকে সবসময় এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ: শিক্ষক হিসেবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোথায় দেখতে চান? 

প্রভাষক আফরিনা হক: বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে একদিন এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় থাকবে। গবেষণায় সমৃদ্ধ সুন্দর একটি বিশ্ববিদ্যালয় হবে বলে আশা রাখি। আমরা একদিন সে জায়গায় নিজেদের নিয়ে যেতে পারব। 

ডেইলি বাংলাদেশ: নতুনদের জন্য আপনার পরামর্শ কী থাকবে?

প্রভাষক আফরিনা হক: সদিচ্ছা, সৎ চিন্তা নিয়ে সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার করে লেখাপড়া করতে হবে। কখনো হাল ছাড়া যাবে না। নিজেকে নিজের জন্য গড়ে তুলতে হবে। তাহলে সফলতা আসবেই।

ডেইলি বাংলাদেশ: আপনাকে ধন্যবাদ।

প্রভাষক আফরিনা হক: আপনাকেও ধন্যবাদ।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি

English HighlightsREAD MORE »