স্বপ্নের পদ্মাসেতু: শিক্ষার্থীদের ভাবনা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ জুন ২০২২,   ১৪ আষাঢ় ১৪২৯,   ২৮ জ্বিলকদ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

স্বপ্নের পদ্মাসেতু: শিক্ষার্থীদের ভাবনা

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৪৪ ২০ জুন ২০২২   আপডেট: ১৮:৪৯ ২০ জুন ২০২২

পদ্মাসেতু নিয়ে মতামত জানানো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: লেখক

পদ্মাসেতু নিয়ে মতামত জানানো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: লেখক

চলাচলের জন্য প্রস্তুত স্বপ্নের পদ্মাসেতু। আগামী ২৫ জুন দেশের কোটি মানুষের কাঙ্ক্ষিত এ সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হবে প্রমত্তা পদ্মার ওপর নির্মিত এ সেতু। ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর মানুষের যাতায়াত হবে আরো সহজ ও সময়সাশ্রয়ী। পদ্মাসেতু নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি ফিচার, কলাম অ্যান্ড কন্টেন্ট রাইটার্স সংগঠনের সক্রিয় সদস্যদের আশা, আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা ও অভিব্যক্তি তুলে ধরেছেন মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ

কীর্তিনাশার বুক চিরে আশার আলো পদ্মা সেতু

কীর্তিনাশা পদ্মা ক্রমবর্ধমান ধেয়ে চলা যার বৈশিষ্ট্য। কেড়ে নেওয়া ও নির্মমতা যার স্বভাব। কতশত মানুষের স্বপ্ন ও শেষ আশ্রয়স্থল গ্রাস করেছে এই পদ্মা তার কোনো হিসেব নেই। এবার এই পদ্মার বুক চিরে জ্বলে উঠেছে আলো। স্বপ্ন নয় বাস্তবে রূপ নিয়েছে পদ্মাসেতু। পদ্মার বুক চিরে দৃশ্যমান হয়েছে দীর্ঘ ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতু। পদ্মাসেতু বাংলাদেশের মানুষের গর্ব। দেশের প্রতিটি মেহনতি মানুষের ঘাম লেগে আছে এই সেতুতে। বাংলাদেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক এই সেতু। এই সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হবে। ফলে এইসব অঞ্চলের মানুষের পরিবহন, অর্থনীতি, শিক্ষা এবং চিকিৎসাসহ সব ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। সেতুর উপর দিয়ে চলবে গাড়ি আর নিচ দিয়ে ছুটবে ট্রেন। তাছাড়া পদ্মাসেতুতে বিদ্যুৎ, গ্যাসের লাইনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে তার অন্যতম সাক্ষী এই পদ্মাসেতু। বাংলাদেশের অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়েছে এই সেতুর মাধ্যমে। এভাবেই বিশ্বমানচিত্রে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। 

বরকত উল্লাহ
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

 

আশার আলো ছড়ানোর অপেক্ষায় পদ্মাসেতু

পদ্মাসেতু এক সময় ছিল মানুষের কল্পনা। কিন্তু নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে দৃশ্যমান স্বপ্নের পদ্মাসেতু এখন বাস্তবে। এতে দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। কারণ ইতোপূর্বে ঢাকা থেকে দক্ষিণ অঞ্চলে যাতায়াত করতে একদিন সময় লেগে যেত। কিন্তু এখন মাত্র ছয় ঘণ্টায় যাতায়াত করা সম্ভব। এতে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বেড়ে গেল। এছাড়া কর্মব্যস্ত মানুষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনে অভাবনীয় পরিবর্তন হবে। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প মাওয়া-জাজিরা পয়েন্ট দিয়ে নির্দিষ্ট পথের মাধ্যমে বাংলাদেশের কেন্দ্রের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সরাসরি সংযোগ তৈরি করেছে। এই সেতুটি অপেক্ষাকৃত অনুন্নত অঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিল্প বিকাশে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। ফলে প্রকল্পটি দেশের পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেতুটিতে ভবিষ্যতে রেল, গ্যাস, বৈদ্যুতিক লাইন এবং ফাইবার অপটিক কেবল সম্প্রসারণের ব্যবস্থা রয়েছে। উদ্বোধনের পর আশার আলো ছড়ানোর অপেক্ষায় স্বপ্নের পদ্মাসেতু।

মো. আবদুল্লাহ আলমামুন
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্নের বাস্তবরূপ পদ্মা সেতু

‘সর্বনাশা পদ্মা নদী, তোর কাছে শুধাই বল আমারে তোর কি রে আর কুল কিনারা নাই।’

বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের এক চোখ ধাঁধানো স্বপ্নের নাম পদ্মা সেতু। বছরের পর বছর এ অঞ্চলের মানুষ অপেক্ষা করেছে একটা সুন্দর যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য। ২৫ শে জুন প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে গণমানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু। সঙ্গে সঙ্গে সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে অজস্র দীর্ঘশ্বাস, কষ্ট এবং দুঃসময়ের যেগুলো পদ্মা নদী পারাপারে যাত্রীরা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতো। কখনো কখনো উৎসব অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাড়িগামী যাত্রীরা ফেরিঘাট থেকে কখন মুক্তি পাবে সেটা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ত। এমনকি যাত্রীদের ফেরি পারাপারের জন্য বাসের সারিতে বসে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাটিয়ে দিতে হতো। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ফেরিতে মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর সাক্ষীও আমরা ইতোমধ্যে হয়েছি। অবশেষে পদ্মাসেতু পূর্ণাঙ্গ নির্মিত হওয়ায় মানুষ এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। পদ্মাসেতু নির্মিত হওয়ার ফলে মানুষের সময় বাঁচবে, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং মানুষ অধিক কর্মমুখী হবে। পদ্মাসেতুর মাধ্যমে দেশের জিডিপি ১ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। দুই স্তর বিশিষ্ট সেতুটি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।

তাজুল ইসলাম তাসিন
শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা


আত্মমর্যাদায় মহীয়ান স্বপ্নের পদ্মাসেতু

পৃথিবীর অন্যতম খরস্রোতা পদ্মা নদীতে এত দীর্ঘায়তনের ও আধুনিক মানের সেতু নির্মাণ, তাও আবার বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে। কথাটা ভাবতেই এক অন্যরকম ভালোলাগা ও গর্ববোধ কাজ করে। বাংলাদেশের জন্য এটি ছিল বিরাট চ্যালেঞ্জ। পুরো বিশ্ব যেখানে এই সেতুপ্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান ছিল, সেখানে তাদের বাঁহাত দেখিয়ে তা নির্মাণ করে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। কারো কাছে মস্তক অবনত না করে আত্মমর্যাদায় মহীয়ান হয়ে এতবড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সত্যই মর্যাদা ও সফলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই খরস্রোতা পদ্মা পাড়ি দেওয়ার জন্য এতদিন দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। ফেরি পারাপারের জটিলতার কারণে অসুস্থ রোগীদের রোগের যন্ত্রণায় ছটফট করতে হয়েছে, অসংখ্য চাকরিপ্রত্যাশী পরীক্ষার হলে সময়মত পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং অসংখ্য মানুষের মূল্যবান সময়ের অপচয় হয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি, দুঃখ, দুর্দশাকে অনেকাংশেই লাঘব করবে এ সেতু। যোগাযোগের পথ হবে সহজ ও সুগম। দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে স্বপ্নের এই পদ্মাসেতু। এই সেতু একই সঙ্গে আমাদের আত্মমর্যাদা, সম্মান ও উন্নয়নের প্রতীক এবং দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের পূর্বের দুঃখ- দুর্দশা ও ভোগান্তি-পূর্ণ জটিল যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপরীতে উন্নয়ন ও অগ্রগতির সোপান।

মো. জাহিদ হাসান
শিক্ষার্থী, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা


অগ্রগতি অনন্য বাহক পদ্মাসেতু 

রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের পদ্মাসেতুর মাধ্যমে যোগাযোগের এক সহজলভ্য মাধ্যম তৈরি হচ্ছে। এ যেন যোগাযোগ ব্যবস্থার এক বিপ্লবী পরিবর্তন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরি বা লঞ্চের মাধ্যমে যোগাযোগের সমাপ্তি ঘটিয়ে এক নতুন আলোকিত পথের সূচনা তৈরি হয় এ সেতুর মাধ্যমে। দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর করতে এবং দেশের জিডিপি বৃদ্ধি করতে পদ্মাসেতু এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে পদ্মাসেতু অতুলনীয় ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এ সেতু বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পাশাপাশি দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার এক পরিবর্তন আনবে। পদ্মাসেতু দ্বিতল হওয়ায় রেল চলাচলেও উন্নয়ন হবে। মানুষের ভোগান্তি কমলে শিক্ষা, অর্থনীতি এমনকি পরিবেশের অবকাঠামোরও এক পরিবর্তন আসবে যাহ ঐ অঞ্চলের মানুষের জন্য এক আশীর্বাদ স্বরূপ। বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার এমন আরো উন্নতি সাধন হোক পাশাপাশি সব স্বরের জনগণ যেন চলাচলের সুবিধা ভোগ করতে পারে এমন এ সুযোগ তৈরির জন্য দেশে এমন আরো সেতু তৈরি হোক। দেশ উচ্চ আয়ের দেশের পথে দ্রুত গমন করুক এ কামনা।

আবু সুফিয়ান সরকার শুভ
শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা


দক্ষিণাঞ্চলের বৈপ্লবিক পরিবর্তনে পদ্মাসেতু

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ হিসেবে পদ্মাসেতু চালু হওয়া যেন স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো একটি বিষয়। আগে ঢাকা এবং দক্ষিণ অঞ্চলের মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল অনিশ্চিত। ঘাটে অপেক্ষা করতে হতো প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা। ছুটির দিন উপলক্ষে, প্রতিকূল পরিবেশের কারণে যেমন ঘন কুয়াশা বা বৃষ্টির কারণে এবং অপর্যাপ্ত ফেরির কারণে এই অপেক্ষা বেড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লেগে যেতো। তবে পদ্মাসেতু চালু হলে এ অনিশ্চয়তা আর থাকবে না। কারণ মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টার ভিতরে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। পদ্মাসেতু প্রকল্পের ফলে চিকিৎসকরাই দক্ষিণাঞ্চলে গিয়ে সেবা প্রদান করতে পারবেন। আর ঢাকায় থেকে পড়াশোনা করা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যাতায়াত হবে সহজ ও সময়সাশ্রয়ী। আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এই প্রকল্পটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বের কারণে পদ্মাসেতু আজ দৃশ্যমান। সেতুটি দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষের ব্যবসা, চাকরি, শিক্ষা, চিকিৎসা, শিল্পক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সঙ্গী হয়ে থাকবে।

শ্রুতিলেখা বিশ্বাস
শিক্ষার্থী, নৃবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়


স্বপ্ন যখন দৃষ্টির সম্মুখে

স্বপ্ন তো স্বপ্ন তা আবার বাস্তব হয় নাকি, এমন ধারনাকেই বাস্তবে রূপ দিলো বাংলাদেশের পদ্মাসেতু। অন্যান্য দেশের সাধারণ সেতুর গুনাগুণের তুলনায় পাঁচটি বিশেষ গুণ সম্পন্ন এই সেতুর কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে। তারই ফলশ্রুতিতে সেতুটির উদ্বোধন এর ঘোষণা দেওয়া হয় ২৫ জুন। চলাচলের জন্য পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত হয়ে গেছে স্বপ্নের পদ্মাসেতু। আগামী ২৫ জুন দেশের কোটি কোটি মানুষের কাঙ্ক্ষিত এ সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পরেই সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত হবে প্রমত্তা পদ্মার ওপর নির্মিত এ দীঘল দৈর্ঘ্যপ্রস্থ বিশিষ্ট দোতলা সেতুটি। এই সেতু নির্মাণের জন্য নির্মাণাধীন সময়ে মাওয়া জাজিরা পয়েন্টে বসবাসরত জনগণকে পোহাতে হয়েছে নানান ভোগান্তি। এই ভোগান্তির অবসান হিসেবেই আজকের পদ্মাসেতু মাওয়া জাজিরা পয়েন্টে বসবাসরত মানুষের চোখের সামনে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে বাস্তবে।  ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর মানুষের যাতায়াতকে আরো সহজ ও সময়সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে এই সেতুটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। সেতুটিকে কেন্দ্র করে এখন সেতুর আশেপাশে বসবাসরত জনগণের মনে যেন নান্দনিক নতুন নতুন স্বপ্নের আশা জেগেছে। এখন আর চিকিৎসার জন্য ফেরিঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামের মধ্যে অসুস্থ রোগীকে নিয়ে রোগীর পরিবারকে কষ্ট করতে হবে না। বেকার ছেলেটিকে ভাইবা বোর্ডে দেরিতে উপস্থিত হওয়ার জন্য আর মিথ্যে ছলনাময়ী যুক্তির আশ্রয় নিতে হবে না। শুধু এই সময় বাঁচানোই নয় বরং দেশের আর্থিক অগ্রগতিতে পদ্মাসেতু বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে দেশের জনগণ আশা করছে।

সানজিদা মাহমুদ মিষ্টি
শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা


মেঘের আড়ালে সূর্যের হাসি পদ্মাসেতু

প্রমত্তা পদ্মার দুই পাড় যুক্ত করেছে স্বপ্নের পদ্মাসেতু। জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে পদ্মা পারাপারের দিনগুলো ২৫শে জুনের পর থেকে অতীত হতে শুরু করবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের জন্য এই সেতু নতুন করে জেগে ওঠার এক হাতিয়ার। অবহেলিত জনপদের মানুষের সামনে নতুন এক সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে পদ্মাসেতু। এই অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, পর্যটন শিল্পে এই সেতু অপার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। স্বপ্ন জাগিয়েছে মানুষের জীবন জীবিকার উন্নয়নে। খরস্রোতা পদ্মার দুই তীরকে এক করে এই স্বপ্নমালা গাঁথার কাজটি অবশ্য সহজ ছিল না। স্থপতি প্রকৌশলীরা যেমন অসাধ্য সাধনের মতো এক কাজ করেছেন, তেমনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই সেতু বাস্তবায়নের মাধ্যমে তার সাহসী চরিত্রটিকে আরেকবার জানান দিয়েছেন। নিজেদের অর্থে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ নিজের সক্ষমতারও জানান দিয়েছে বিশ্বকে। এক সময়ের দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি আর কষ্টের ইতি টেনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছে রাজধানী হয়ে উঠবে ঘরের কাছের কোনো গন্তব্য। পুরো দিনের ভ্রমণ দূরত্ব কমে দাঁড়াবে কয়েক ঘণ্টায়। পদ্মাসেতু নিঃসন্দেহে দেশের স্থাপত্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। এই দেশের মানুষের সাহস আর অদম্য মানসিকতারও দৃঢ় এক প্রতিকৃতি। পদ্মা জয়ের এই সাফল্য পুরো জাতির। এই সাফল্য সরকারের। এই সাফল্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তার সাহসী ভূমিকার কারণেই নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এই সেতু লক্ষ্য অনুযায়ী বাস্তবায়ন হয়েছে।

মীম আফরোজ রাই
শিক্ষার্থী, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা


পদ্মাসেতু আমাদের উন্নয়ন

পদ্মাসেতু চালু হলে সমগ্র দেশের সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাসমূহের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। যেটা দেশের উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নই জাতীয় উন্নয়নের বৃদ্ধি ঘটায়। আর পরিবহন ব্যবস্থা জাতীয় অর্থনীতিকে বিভিন্ন ধাপে উন্নয়নে সহযোগিতা করে। পাশাপাশি পদ্মাসেতুর মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় অবস্থিত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারবে। এসব এলাকায় অবস্থিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগী হয়ে উঠবে। এতে পণ্যের সার্বিক মান বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের ব্যবসায়িক ক্ষেত্র ও বিস্তৃত হবে। জাতীয় উন্নয়ন মূলত জাতীয় অর্থনীতির ওপরই নির্ভরশীল এবং যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা জাতীয় অর্থনীতি উন্নয়নের প্রভাবক। তদুপরি পদ্মাসেতু যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতিকল্পেই নির্মিত হয়েছে। সুতরাং এটা বলা যায় যে, পদ্মাসেতু জাতীয় উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে। পদ্মাসেতুর অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং প্রভাব অনেক। সেতুটি নির্মাণের ফলে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ দুই থেকে চার ঘণ্টা কমে যাবে। রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রসার, কাঁচামাল সরবরাহ এবং শিল্পায়ন সহজতর করতে সহায়তা করবে। এ অঞ্চলের জেলায় গড়ে উঠবে ছোট-বড় শিল্প। কৃষির ব্যাপক উন্নতি হবে। কৃষকরা পণ্যের দাম ভালো পাবেন এবং ফলে উৎপাদন বাড়বে। সেতুটি নির্মাণের ফলে দেশের সমন্বিত যোগাযোগ কাঠামোর উন্নতি হবে।

ফাতেমা তুজ জোহরা ইমু
শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা


সক্ষমতার প্রতীক পদ্মাসেতু

পদ্মাসেতু সাহসী নেতৃত্বের, বহু ত্যাগ ও তিতিক্ষার এক কালজয়ী সোনালি ফসল। কোটি কোটি বাঙালির স্বপ্নের অবকাঠামো। পদ্মাসেতু আমাদের আবেগের নাম। সেতুটি এখন আর স্বপ্ন নয়। এক সময়ের স্বপ্নের সেতু এখন পূর্ণরূপে বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম খরস্রোতা নদী পদ্মা। এর তলদেশে মাটির স্তরের গঠনও জটিল। নিজস্ব অর্থায়নে এই নদীতে এমন একটি সেতু নির্মাণ করতে যাওয়ার কাজটি সহজ ছিল না। বহু রাজনৈতিক, কারিগরি ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেতুটির ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এ অঞ্চলের ২১ জেলার অর্থনীতি ও সমাজে আসবে অকল্পনীয় পরিবর্তন। অর্থনীতিতে যুক্ত হবে বহুমুখিতা। বাড়বে মানুষের আয়-রোজগার, জীবনযাত্রার মান ও কর্মসংস্থান। প্রথমবারের মতো পুরো দেশ একটি সমন্বিত যোগাযোগ কাঠামোতে আসবে। পায়রা ও মংলা সমুদ্রবন্দরের পণ্যসেবার পরিমাণ বাড়বে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। দক্ষিণাঞ্চলে শিল্প-কারখানা, পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠবে, বড় বড় মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। কৃষি, শিল্প, অর্থনীতি, শিক্ষা, বাণিজ্য সব ক্ষেত্রেই এই সেতুর বিশাল ভূমিকা থাকবে। পদ্মাসেতুর কল্যাণে অর্থনীতির সেতুবন্ধন ও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে তেমনটিই আশা করছি।

আফরোজা আক্তার
শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা


পদ্মাসেতু বাংলার এক গর্বের প্রতীক

এক সময়ের স্বপ্ন পদ্মাসেতু আজ একটি বাস্তবতা। শত বাঁধা পেরিয়ে আজ পদ্মার এক অহংকার হয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে এই পদ্মাসেতু। পদ্মাসেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর নির্মিত একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। বাংলাদেশের সম্ভাব্য ও দীর্ঘতম সেতু এটি। দেশের নিজ অর্থায়নে সৃষ্ট এই সেতু সবকে আবার নতুন স্বপ্ন দেখাতে ব্যস্ত। এটি যেন দেশকে আরো এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। নিজেদের উপর ভরসা করতে শেখাচ্ছে এই অর্জন। স্বপ্ন পূরণের এ যাত্রাটি ছিল অনেক বাঁধা-বিপত্তির, ছিল নানা রকম দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র। কিন্তু আজ আমরা সফল। আর এই সফলতার প্রতিচ্ছবি এই সেতু। এই সেতুটি মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আসবে আমূল পরিবর্তন। এই সেতুকে ঘিরে অনেক আবেগ জড়িত। যখনই এই সেতুটির কথা আসে তখনই এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ছবি সামনে ভেসে আসে। আর চোখে ভাসতে থাকে বাংলাদেশকে ঘিরে অপার সম্ভাবনা। এই অর্জনটি আশাবাদী হতে শিখিয়েছে আমাদের নিজেদের প্রতি। সত্যিই এটি আমাদের এক ভালোবাসার অনুভূতি, এটি আমাদের সক্ষমতার প্রতীক।

সাফা আক্তার নোলক
শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়


বঞ্চনা দিয়ে শুরু, জবাব দিয়ে শেষ পদ্মাসেতু

বাংলাদেশের কেন্দ্র ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মধ্য দিয়ে অর্থনীতির গতি বাড়াবে পদ্মাসেতু। এ সেতুটি মূলত অপেক্ষাকৃত অনুন্নত অঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিল্প বিকাশে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। এই সেতুর জন্যে দেশের আঞ্চলিক বাণিজ্যের সমৃদ্ধি যেমন ঘটবে তেমনি দরিদ্রতাও ঘুচবে, পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও সাফল্যের গতিও ত্বরান্বিত হবে। এখন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনসহ জনগণের যাতায়াত অনেকটা অর্থ ও সময়সাশ্রয়ী হবে। এই সেতুর মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন বাড়বে, বাড়বে স্থানীয় জনগণের জন্য অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের সুযোগ। এ সেতু দেশের অর্থনীতিতে নতুন এক মাত্রা যোগ করবে। এটি দেশের পরিবহন নেটওয়ার্কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত হবে। বাংলাদেশের গর্বের আরেক নাম পদ্মা বহুমুখী সেতু। নিজ অর্থে সেতু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে পৃথিবীর কাছে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কোনো প্রকার বৈদেশিক সাহায্য ছাড়াই বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত সর্ববৃহৎ প্রকল্প এই স্বপ্নের পদ্মাসেতু।

মোছা. রুমানা আক্তার রনি
শিক্ষার্থী, রসায়ন বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা


লেখক 

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং জবি প্রেসক্লাবের দপ্তর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি

English HighlightsREAD MORE »