পাবিপ্রবিকে ভালো অবস্থানে পৌঁছে দিতে চাই: ড. হাফিজা খাতুন

ঢাকা, সোমবার   ২৩ মে ২০২২,   ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ২১ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

পাবিপ্রবিকে ভালো অবস্থানে পৌঁছে দিতে চাই: ড. হাফিজা খাতুন

পাবিপ্রবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪৫ ২৭ এপ্রিল ২০২২  

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য ড. হাফিজা খাতুন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য ড. হাফিজা খাতুন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য ড. হাফিজা খাতুন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ পান। তার সঙ্গে কথা বলেছেন ডেইলি বাংলাদেশের পাবিপ্রবি প্রতিনিধি।

পাবিপ্রবির প্রথম নারী উপাচার্য আপনি, অনুভূতি কেমন?
-অনুভূতি স্বাভাবিক। যেকোনো দায়িত্ব পেলে ভালো লাগে। তবে এই দায়িত্ব অনেক বড় দায়িত্ব। আমাদের সমাজে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। নারী হিসেবে ভালো কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারলে সেটাই হবে বড় আনন্দের। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ কেমন?
-বেশ ভালোই পরিবেশ, ভালো লাগছে সবকিছু। শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার মধ্যে একটা উদ্দীপনা দেখতে পেয়েছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সবাই ভালো কিছু করতে চায়, নতুন কিছু করতে চায়। বিভাগগুলো ঘুরে ঘুরে দেখছি, শিক্ষার্থীরা অনেক প্রাণবন্ত যেটা আমাকে আশার আলো দেখাচ্ছে।

পাবিপ্রবি নিয়ে স্বপ্ন?
-প্রথমত বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি নিয়ম শৃঙ্খলার ভেতরে নিয়ে আসা। দ্বিতীয়ত এই চার বছরে পৃথিবীর বুকে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বড় স্থান না দিতে পারলেও অন্তত বাংলাদেশ এবং আমাদের উপমহাদেশে এই ভালো অবস্থানে পৌঁছে দিতে চাই।  

সেশনজট কমাতে পরিকল্পনা?
-এরইমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি। এটা নিয়ে কাজ চলছে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেই এটা জানানো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট কাটানো নিয়ে পরিকল্পনা?
-এই সংকট অবশ্যই কাটাতে হবে। চেষ্টা করে যাবো শিক্ষক সংকট কাটাতে। আশা করি সংখ্যাটা আস্তে আস্তে পূরণ হয়ে যাবে। 

ল্যাব সমস্যা দূরীকরণ?
-বিশ্ববিদ্যালয় নতুন হওয়াতে এখানে ল্যাবের সংকট আছে। শুধু ল্যাব না আমাদের এখানে জায়গার সঙ্কুলান আছে, একই ল্যাবে অনেকগুলো বিভাগ কাজ করছে। আমাদের প্রজেক্ট চলছে, বিল্ডিংগুলো হয়ে গেলে জায়গা পাবো, তখন বিভাগগুলোর জন্য আলাদা ল্যাব তৈরি করা যাবে, সঙ্গে সঙ্গে ল্যাবের সুযোগ-সুবিধাগুলো বাড়ানো হবে। পাশাপাশি এই ল্যাব পরিচালনার জন্য দক্ষ মানুষ লাগবে। সেগুলোর ব্যবস্থাও করা হবে।
  
পাবিপ্রবিকে গবেষণামুখী বিশ্ববিদ্যালয় করতে পরিকল্পনা?
-বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান তৈরির জায়গা। এই জ্ঞান তৈরি করতে গেলে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। গবেষণাকে দুইভাবে উৎসাহিত করা যেতে পারে। একটা পাবলিকেশন, যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ পাবলিকেশন না হলে পদোন্নতি হবে না যেটা আইনগত দিক। আরেকটি হলো ভালোলাগা থেকে গবেষণা। বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণামুখী করতে হলে দুইদিক থেকেই কাজ করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ পাবলিকেশন করা তবে এখানে পাবলিকেশনের মান নিশ্চিত করতে হবে এবং গবেষকদের পর্যপ্ত সুযোগ সুবিধার সঙ্গে সঙ্গে তাদের উৎসাহিত করতে হবে। পাবিপ্রবিকে একটি গবেষণামুখী বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য আমি দুইভাবেই চেষ্টা করে যাবো।

ডিজিটাল ক্যাম্পাস গড়া?
-পরীক্ষার ফরম ফিল আপ, ফলাফলসহ এগুলো ডিজিটালাইজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এইসব বিষয়গুলোকে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। তার জন্য কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। তারা এই বিষয়গুলো ডিজিটালাইজ করার জন্য কাজ শুরু করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে কিছু দুর্বলতা আছে। আগামী দুই-তিনদিনের ভেতরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে একটা পরিবর্তন শিক্ষার্থীরা দেখতে পাবে। পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়াইফাই থাকাই লাগবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্সট্রাকশনের কাজ চলার কারণে ওয়াফাই লাইন অনেক জায়গাতে কাটা পড়েছে। আশা করি এটা অচিরেই ঠিক হয়ে যাবে। 

নতুন বিভাগ খোলার পরিকল্পনা?
-এখনো নতুন বিভাগ খোলার কথা ভাবিনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু আছে সেখানে নতুন বিভাগ বাড়বেই। তবে সেটা নির্ভর করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণ ক্ষমতার উপরে। অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা, চাহিদা, লোকবল এগুলো পর্যাপ্ত থাকলে বিভাগ খোলা সম্ভব। এই মুহূর্তে এটা নিয়ে কিছু বলতে পারবো না। তবে নতুন বিভাগ খোলা নিয়ে স্বপ্ন থাকবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে পাবিপ্রবির অবদান?
-আসলে জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন এটা আসলে আমাদের সবারই স্বপ্ন। এই স্বপ্ন আমাদের স্বপ্নের সঙ্গে মিলেমিশে আছে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা আমাদের সবার দায়িত্ব। তবে আমাকে যেহেতু এখানে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেহেতু সাধ্যমতো এই স্বপ্নটিকে বাস্তবায়ন করার জন্য চেষ্টা করে যাবো। এখানকার শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যেতে হবে। তবে ছাত্র-ছাত্রীদের দায়িত্বটা একটু বেশি। ওদের মধ্যে স্বপ্ন থাকতে হবে আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে। ওদের মধ্যে যদি সেই স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা না থাকে তাহলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যত চেষ্টাই করি না কেন সেটা মুখ থুবড়ে পড়ে যাবে।

আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
-আপনাকেও ধন্যবাদ।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »