‘নারীর প্রতি সৌজন্যমূলক আচরণের মাধ্যমে সুশিক্ষার বহিঃপ্রকাশ সম্ভব’

ঢাকা, বুধবার   ০৫ অক্টোবর ২০২২,   ২০ আশ্বিন ১৪২৯,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

‘নারীর প্রতি সৌজন্যমূলক আচরণের মাধ্যমে সুশিক্ষার বহিঃপ্রকাশ সম্ভব’

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৯ ৮ মার্চ ২০২২   আপডেট: ১৭:১০ ৮ মার্চ ২০২২

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ও পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নুসরাত শারমিন তানিয়া।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ও পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নুসরাত শারমিন তানিয়া।

নানা আয়োজনে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বর্তমানে শিক্ষাঙ্গনে নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি, নারী শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ও পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নুসরাত শারমিন তানিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন- আহসান হাবীব

আন্তর্জাতিক নারী দিবসটিকে আপনি কীভাবে দেখেন?
-নুসরাত শারমিন: ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি নারী বা পুরুষের আলাদা দিবসের হয়তো সে অর্থে কোন আবশ্যিকতা নেই। তবে এ কথাও অস্বীকার করার কারণ নেই যে, নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও স্বাধীনতা অর্জনে নারী দিবসের তাৎপর্য অসীম৷ নারীর বহুমাত্রিক ভূমিকা পালনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে ও নারীর বর্তমান সংগ্রাম উপস্থাপনেও দিবসটির রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। 

শিক্ষাঙ্গনে নারী শিক্ষার্থীদের নির্যাতন, সহিংসতা বেড়ে উঠার কারণ কী?
-নুসরাত শারমিন: শুধু শিক্ষাক্ষেত্রে নয় বরং সকল  ক্ষেত্রেই নারীর প্রতি সহিংস আচরণ পরিলক্ষিত। নারীর প্রতি সহিংস আচরণের এই ধারাবাহিকতা অন্তত শিক্ষাক্ষেত্রে একদমই অবাক করার মতো বিষয়ই বটে। শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর প্রতি সৌজন্যমূলক আচরণের মাধ্যমে  সুশিক্ষার বহিঃপ্রকাশ সম্ভব। যার অভাবেই হয়তো এ সকল সহিংসতা প্রকটভাবে পরিলক্ষিত। 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান সমস্যাগুলি থেকে নারীরা কীভাবে মুক্তি পেতে পারে?
-নুসরাত শারমিন: সর্বপ্রথম নারীকে মানুষ ভাবা প্রয়োজন। মানুষ হিসেবে ‘নারী ও পুরুষ’ এই ভাবনাগত শারীরিক পার্থক্য নারীকে সর্ব ক্ষেত্রেই সহিংস আচরণের মুখোমুখি করছে। নারীকে নারীর চেয়ে মানুষ ভাবাটা এবং সম্মান করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। 

নারী শিক্ষা নানাভাবে বাধার মুখোমুখি হচ্ছে, এটাকে কীভাবে দেখেন?
-নুসরাত শারমিন: নারী শিক্ষাকে পেছনে রেখে দেশ বা দশের সার্বিক উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। তাই নারী শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করে কোন রাষ্ট্র এগিয়ে যাবার স্বপ্ন অলীক কল্পনা মাত্র।  

শিক্ষকতা পেশায় আছেন দীর্ঘদিন, এ পেশায় নারীদের পদচারণা কেমন?
-নুসরাত শারমিন: এ বিষয়ে প্রথমেই বলতে চাই যে, শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে আমি কখনোই দেখিনি বা দেখতে চাইনি। বরং গবেষণার মাধ্যম হিসেবে বরাবরই যুক্ত থাকার চেষ্টা করেছি। শিক্ষকতায় এতদিন যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতায় একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এ ক্ষেত্রে নারীদের পদচারণা পূর্বের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে শিক্ষকতায় যুক্ত থেকে সফলভাবে গবেষণাধর্মী কাজে নিয়োজিত থাকতে হলে একজন নারীর পরিবারের সার্বিক সহযোগিতা আবশ্যক। 

নারী শিক্ষাকে অবহেলা করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব?
-নুসরাত শারমিন: পূর্বেই বলেছি নারী শিক্ষাকে পেছনে রেখে বা অবহেলা করে সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। পার্স্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতাই পারে সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে। 

বর্তমান কর্মপরিবেশের পুরুষ সহকর্মীরা কতটুকু সহায়ক?
-নুসরাত শারমিন: পুরুষ সহকর্মীরা সকলেই শুধু সহকর্মীই নন, আমাদের সহযোদ্ধাও বটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের কাছ থেকে সহযোগিতাই পেয়েছি। তবে ব্যতিক্রম চিত্রও কিন্তু বিদ্যমান। তবে যেহেতু অধিকাংশ পুরুষ সহকর্মীই সহযোগিতার মনোভাব সম্পন্ন তাই তাদের ইতিবাচক মনোভাবকে সঙ্গে নিয়েই আমরা নেতিবাচক মনোভাবকে দূর করতে চাই। 

পরিবার ও কর্মস্থলে পুরুষের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?
-নুসরাত শারমিন: নারীকে যেহেতু পরিবার ও কর্মস্থল উভয় ক্ষেয়েই বহুমাত্রিক দায়িত্বে নিয়োজিত থাকতে হয় তাই পূর্বের উত্তরের ন্যায়ই বলতে চাই যে, নেতিবাচক মনোভাবকে দূরে সরিয়ে ইতিবাচক মনোভাবই একান্ত প্রত্যাশা। 

নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আপনার বার্তা?
-নুসরাত শারমিন: নারী শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক মনোভাব ও স্বীয় মেধাকে অবলম্বন করে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিতে চাই। দুর্বলতা  যেকোন অগ্রগতির প্রধান প্রতিবন্ধকতা। 

নারী শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিতে আর কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন?
-নুসরাত শারমিন: পরিবার থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে নারীর প্রতি সম্মান ও সহযোগিতাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিৎ। আর যে সমাজ সর্ব ক্ষেত্রে নারীর প্রতি সম্মান ও সহযোগিতা বজায় রাখতে সক্ষম সে সমাজ বা রাষ্ট্রে নারীর অগ্রগতি পিছিয়ে রাখা অসম্ভব। নারী শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিতে সম্মান ও সার্বিক সহযোগিতাই তাই মূল পদক্ষেপ বা পদক্ষেপসমূহ বলে আমি মনে করি। কারণ সম্মানের সঙ্গে নারীর নিরাপত্তার বিষয় নিবিড়ভাবে যুক্ত। যেখানে সম্মান বজায় থাকে নিরাপত্তার অভাব সেখানে হয় না৷ নারীর প্রাপ্য সম্মানই পারে তাকে তার নিরাপত্তা দিতে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »