জনসচেতনতাই ডেঙ্গু ও করোনা মোকাবিলার মূল হাতিয়ার: কাউন্সিলর রতন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১ ১৪২৮,   ০৭ সফর ১৪৪৩

জনসচেতনতাই ডেঙ্গু ও করোনা মোকাবিলার মূল হাতিয়ার: কাউন্সিলর রতন

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩৬ ৩ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১৬:৫২ ৩ আগস্ট ২০২১

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন

করোনাভাইরাস ও ডেঙ্গু রোধে জনসচেতনতার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন।

তিনি বলেন, জনগণ এখন অনেক সচেতন। করোনা ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় নাগরিকরা যেভাবে এগিয়ে এসেছেন। এখন যদি তারা তাদের নিজের বাড়িটা পরিচ্ছন্ন রাখেন। বিশেষ করে  ছাদ, চিলেকোঠা, দুই বাড়ির মাঝের জায়গাটা পরিচ্ছন্ন রাখেন তাহলে মশা নির্মূলে সক্ষম হবো এবং ডেঙ্গু মোকাবিলায় সক্ষম সফলতা পাবো।

নাগরিকদের প্রতি আমার আহ্বান যারা এলাকায় আছেন, এখন সবাই বাড়িতে আছেন। বাড়িতে থেকে নিজের ঘর নিজের ছাদ, নিজের কার্নিশ, যেখানে ময়লা-আবর্জনা জমা হয় সেটা পরিষ্কার করে রাখেন। নিজের কাজ নিজে করেন। নিজে সুস্থ থাকেন, পরিবারকে সুস্থ রাখেন, নিজের প্রতিবেশীকে সুস্থ রাখেন।

দেশের চলমান ডেঙ্গু-করোনা পরিস্থিতি, কর্মহীন মানুষের খাদ্য সহায়তা প্রদান ও চলমান লকডাউন বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সম্প্রতি ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমার ওয়ার্ডে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম। কেননা, যারা এ ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন, তারা ঘর থেকে বের হন না। কিছু কিছু যুবক আছে; যারা পাড়া-মহল্লায় আড্ডা দিতে পছন্দ করে। তারাই বের হচ্ছেন। আমরা তাদেরকে বোঝাচ্ছি। কিন্তু বাধ্য করতে পারছি না। যার ফলে অনেক সময় তারা না বুঝেই নিজেরা আক্রান্ত হচ্ছেন, পরিবারের সদস্যদেরকে আক্রান্ত করছেন, প্রতিবেশীদের আক্রান্ত করছেন, পুরো সমাজটাকে আক্রান্ত করছেন। তাই তাদের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

ওয়ার্ডের নিম্নমধ্যবিত্ত কর্মহীন মানুষের সচেতনতা ও খাদ্য সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, করোনার শুরু থেকেই আমরা লিফলেট বিতরণ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ, মাক্স বিতরণ করে আসছি। যেটা এখনো চলমান। বাসায় বাসায় গিয়ে লিফলেট পৌঁছে দেওয়া এবং তাদেরকে সচেতন করার জন্য যা যা প্রয়োজন আমরা করেছি এখন পর্যন্ত।

করোনায় আমাদের যারা হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ। যাদের কর্মসংস্থান নেই। যাদের পরিবারের খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিল। সরকারি সাহায্যের সঙ্গে সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগতভাবেও খাদ্য সহযোগিতা দিয়ে আসছি। ইতিপূর্বে পর্যায়ক্রমে প্রায় ১২ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, কোরবানি ঈদের আগে সরকার থেকে আমরা ২ টন চাউল পেয়েছি। এছাড়াও আমি ব্যক্তিগতভাবে আরো ৫ টন চাউল দিয়েছি। নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছি। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এখনো প্রায় ৪ হাজার ভোটার আইডি কার্ড আমার কাছে জমা পড়েছে খাদ্য সহায়তার জন্য।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির এ কাউন্সিলর বলেন, আমার এখানে রেলওয়ে কলোনি বস্তি, হাইকোর্টের বস্তি, দুদকের পেছনে বস্তি, শেরাটনের পেছনে বস্তীতে নিম্নআয়ের মানুষের থাকে। তাদের কিন্তু এখন কর্ম নেই। এর বাইরে ও আমাদের ওয়ার্ডে অসংখ্য নিম্নআয়ের মানুষ বসবাস করে। এদের খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। এর মধ্যে অনেকে দিয়েছি কেউ পেয়েছে, কেউ পায়নি। আমরা খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পরেও এখনো ৪ হাজার মানুষের ভোটার আইডি কার্ড জমা আছে। পর্যায়ক্রমে আমরা তাদেরকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।

তিনি বলেন, এর বাহিরেও মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস সাহেবও আমাদের ওয়ার্ডে খাদ্যসামগ্রী পাঠিয়েছেন। সেটাও আমরা দিয়েছি। একজন কাউন্সিলর হিসেবে নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মানার জন্য কাজ করছি। নেত্রী বলেছেন, ভোট যেভাবে তোমরা চেয়েছো, ঠিক সেভাবে প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে গিয়ে খাবার পৌঁছে দেও। আমি চেষ্টা করেছি আমার প্রাণপ্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য।

আহমেদ রতন রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেন ছাত্রলীগের কর্মী হয়ে। দীর্ঘ সময় ছাত্রলীগের পতাকা তলে নিজেকে তৈরি করেন, তারপর যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/আরএইচ