এমন কাজ করতে চাই যেটা আমি করার পর ট্রেন্ড হবে: অমি

ঢাকা, বুধবার   ২৭ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১২ ১৪২৮,   ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

এমন কাজ করতে চাই যেটা আমি করার পর ট্রেন্ড হবে: অমি

রুম্মান রয় ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৪ ২০ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৮:২৩ ১৬ আগস্ট ২০২১

নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি

নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি

এ সময়ের জনপ্রিয় ও মেধাবী নাট্যনির্মাতা কাজল আরেফিন অমি। খুব অল্প সময়েই কাজ দিয়ে হয়েছেন আলোচিত এবং প্রশংসিত। তার নির্মিত এক্স বয়ফ্রেন্ড, এক্স গার্লফ্রেন্ড, ব্যাচেলর পয়েন্ট, ভাইরাল গার্ল, লতা অডিও, ফিমেলসহ অসংখ্য নাটক সাড়া জাগিয়েছে দর্শকদের মাঝে। 

কাজল আরেফিন অমি নির্মিত সিরিয়াল ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ দর্শকদের মাঝে তুমুল সাড়া ফেলেছে। তাই নির্মিতা অমির কাছে দর্শকদের প্রত্যাশা সব সময় বেশি থাকে। এবারের ঈদুল আযহা উপলক্ষে দর্শকদের জন্য এই জনপ্রিয় নির্মাতা ‘আপন’ ও ‘অদ-ভূত’ শিরোনামে দুটি টেলিফিল্ম নির্মাণ করেছেন। দুটি টেলিফিল্মই ইউটিউব চ্যানেল ক্লাব ইলেভে এন্টারটেইনমেন্টে প্রকাশিত হবে।

ঈদের কাজ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে সম্প্রতি ডেইলি বাংলাদেশ- এর মুখোমুখি হোন নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রুম্মান রয়।

এবারের ঈদে আপনার নির্মাণে কয়টা কাজ আসছে?
কাজল আরেফিন অমি:
দুটো টেলিফিল্ম আসবে। ‘আপন’ ও ‘অদ-ভূত’। আপনে অভিনয় করছেন- তারিক আনাম খান, আফরান নিশো, মুনিরা মিঠু, শামীমা নাজনীন, তাসনিয়া ফারিণ, জিয়াউল হক পলাশ, সাইদুর রহমান পাভেলসহ আরো অনেকে। আর ‘অদ-ভূত’-এ অভিনয় করছেন- সাবিলা নূর, জিয়াউল হক পলাশ, চাষী আলম, শরাফ আহমেদ জীবন, সুমন পাটোয়ারী, পাভেল আব্দুল্লাহসহ আরো অনেকে। দুটোই ইউটিউব চ্যানেল ক্লাব ইলেভেনে আসবে। আসলে এবারের ঈদের জন্য ৪-৫টা কাজ করার কথা ছিলো। কিন্তু একটানা বৃষ্টি এরপর আবার লকডাউন শুরু হয়ে গেলো তাই বাকী কাজ আর করতে পারিনি।

কাজল আরেফিন অমি

‘আপন’ ও ‘অদ-ভূত’ টেলিফিল্ম দুটোর গল্প কেমন?
কাজল আরেফিন অমি:
আপন হচ্ছে আপনজনের গল্প। গল্পটা আসলে বাবা-ছেলের গল্প ঐভাবে বলবো না। কারণ একটা বাবা-ছেলের মাঝে তো আরো অনেকগুলো সম্পর্ক আছে। এই গল্পটা দেখলেই মনে হবে আমরা আপনজনদের সঙ্গে আছি, এভাবেই থাকি। 

আর ‘অদ-ভূত’ হচ্ছে হরর কমেডির গল্প। আমাদের এখানে তো জেনেরালি হরর কাজ তেমন একটা দেখি না। কারণ হরর কাজগুলো জন্য ভিএফএক্স টা দুর্বল হয়। প্রযুক্তিগত সমস্যা সবকিছু মিলিয়ে প্রজেক্ট জমে উঠে না। সে জায়গা থেকে মনে হয়েছে হরর কমেডি ট্রাই করি। সেক্ষেত্রে হররটা ঠিকঠাক মতো দেখাতে পারছি এবং ফানটাও ধরে রাখতে পারছি। অডিয়েন্স এক সেকেন্ডের জন্যও বোর হবে না; বরং মজা পাবে। ঐ জায়গা থেকে আমি হরর কমেডি নিয়ে কাজ করলাম। আমি তো ডার্ক কমেডি করি তাই এবার ভাবলাম হরর কমেডি করি।

আপনি তো সব সময় ট্রেন্ডি গল্প নিয়ে কাজ করেন। তাই এবার এই গল্প নিয়ে কাজ করার কারণটা কি?
কাজল আরেফিন অমি:
ঐ যে আমি তো বললামই আমাদের দেশে হরর কমেডির কাজ তেমন একটা হয় না। আর আগে আমি ডার্ক কমেডি নিয়ে কাজ করেছি। এবার হরর কমেডি নিয়ে কাজ করি। আর আপন নিয়ে কাজ করার কারণ আমি একটি সম্পর্কের গল্প বলতে চেয়েছি। আপন মানুষের গল্প বলতে চাই যে গল্পটা একটু আলাদা করে বলবো। এ জায়গা থেকে আমি আপন করি। আসলে আমি সবসময় একটু আলাদাভাবে ভাবতে পছন্দ করি। 

আমি ২০১৯ সালে যে টাইপের কাজগুলো করেছি এখন ঐ টাইপের কাজগুলো বেশি হচ্ছে। যখন যেটা চলছে বা হচ্ছে আমি ঐটা করতে চাই না। আমি আসলে এমন জিনিস করতে চাই যেটা আমি করার পর ট্রেন্ড হবে।

আপনি কি পছন্দের শিল্পী নিয়ে কাজ করতে বেশি আগ্রহী নাকি গল্প অনুযায়ী মানানসই শিল্পী নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী?
কাজল আরেফিন অমি:
আমি আসলে দুটোর পক্ষেই। প্রথম কথা হচ্ছে গল্প ভাবনার পর যে চরিত্রটা চোখের সামনে প্রথম ভাসে যে আর্টিস্টের চেহারাটা আমার চোখে ভাসে আমি সবসময় চেষ্টা করি ঐ আর্টিস্টকেই কলটা দিতে এই চরিত্রের জন্য। আমার ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এটা করে আসছি। সেকেন্ড পয়েন্টটা হচ্ছে সবাই সবার কমফোর্ট জোনের আর্টিস্টদের সঙ্গে কাজ করতে চান। এটা হচ্ছে- আর্টিস্ট ডিরেক্টরের মধ্যে একটা বন্ডিং একটা ট্রাস্ট থাকা লাগে। আমি যখন আপনের গল্পটা তৈরি করি এখানে আফরান নিশো ভাইয়ের ক্যারেক্টারের নাম হচ্ছে আদনান। আদনান নামের ক্যারেক্টার যখন আমি ভাবি তখন আফরান নিশো ভাইয়ের চেহারাটাই চোখে ভেসে উঠে। তখন আমি নিশো ভাইকেই কল দেই। নিশো ভাইও গল্প শোনার পর রাজি হয়ে যান এবং কাজটা করি।

আফরান নিশো ও কাজল আরেফিন অমি

এখন অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন আফরান নিশোর সঙ্গে তো আমি অনেক কাজ করেছি। আমার সঙ্গে তার একটা ভালো সম্পর্ক রয়েছে সেজন্য করা। কিন্তু না বিষয়টা তা নয়। গল্পের সঙ্গে এই চরিত্রের জন্য আমার ভাবনায় নিশো ছিলো তাই তাকে নিয়েছি। আর এই সম্পর্কটা কিন্তু একদিনে তৈরি হয়নি। তার সঙ্গে অনেকগুলো কাজ করে একটা ট্রাস্ট হয়েছে; অনেক সময় গড়িয়েছে। 

আমার মাথায় যখন ডিফারেন্ট জিনিস আসে আমার চোখের সামনে যে আর্টিস্টকে ট্রাস্ট করতে পারবো তার চেহারাই কিন্তু সর্বপ্রথম ভেসে উঠবে। এটাই তো রিয়েলিটি। যে গল্পে আমার কাছে মনে হচ্ছে মিশু সাব্বির, পলাশকে নেয়া উচিত সে গল্পে আমি কিন্তু আফরান নিশো ভাইকে নিচ্ছি না। আবার আদনান ক্যারেক্টারে নিশো ভাইকে নিয়েছি এই ক্যারেক্টার কিন্তু পলাশের না, মিশু সাব্বির না। তারাও কিন্তু আমার কাছের মানুষ। তাদের সঙ্গেও তো আমি রেগুলার কাজ করি। তাই এক্ষেত্রে গল্পের চরিত্রগুলো যার সঙ্গে যায় তাকেই নেই।

কাজের সমালোচনাকে কিভাবে দেখেন?
কাজল আরেফিন অমি:
সমালোচনা খুব পজিটিভ দিক। আমাকে নিয়ে সমালোচনা হয়েছে বলেই আমি একটা ‘ভাইরাল গার্ল’ বানাতে পেরেছি। আমাকে নিয়ে সমালোচনা হয়েছে বলেই আমি ‘আপন’ বানিয়েছি, ‘অদ-ভুত’ বানিয়েছি। এ সমালোচনা যদি আমাকে নিয়ে না থাকতো সেক্ষেত্রে আমি নিজের প্র্যাকটিস কমিয়ে দিতাম, ব্রেইন ওয়ার্ক করা কমিয়ে দিতাম। প্রত্যকটা মানুষেরই কিন্তু একটা স্পেশালিটি থাকে। সবাই জানে আমি হিউমার স্যাটায়ার বা কমেডি নিয়ে কাজ করি। এই কাজগুলো করতে ভালোবাসি বলে বেশি বেশি করি। এটার বাইরেও যে আমি কাজ করতে পারি সেটা প্রমাণ করতে আমাকে ‘ভাইরাল গার্ল’ বানাতে হয়েছে। মানুষ সমালোচনা থেকে অনেক কিছু শিখে। সমালোচনা থাকবেই।

একটা সময় নাটক টেলিফিল্ম এগুলো শুধু টেলিভিশনে প্রচার হতো। এখনতো টিভির পাশাপাশি ইউটিউব চ্যানেল এবং অ্যাপসেও প্রচার হয়। এই বিষয়টা কিভাবে দেখছেন?
কাজল আরেফিন অমি:
আসলে এটা নিয়ে জাজমেন্ট করা বা ডিরেক্টরের জাজমেন্টাল হওয়া কখনোই উচিত না। ডিরেক্টরের কাজ হচ্ছে ক্রিয়েটিভ সাইটটা দেখা। আর ডিরেক্টর যখন প্রোডাকশন বানায় প্রোডাকশন থেকে যে লগ্নি করবে তারও একটা বিজনেস হতে হবে। এটা নিয়ে জাজমেন্ট করার রাইট প্রডিউসারের। প্রডিউসার একটা প্ল্যাটফর্ম সিলেক্ট করবে, যে প্ল্যাটফর্ম থেকে সে প্রফিট পাচ্ছে। আমাদের এখানে এতোদিন শুধু টেলিভিশন ছিলো, তারপর ইউটিউব আসছে এরপর ওটিটি এসেছে। এটা যুগের সঙ্গে জেনারেশনের চাহিদা হচ্ছে। এসময়ে ইউটিউব আমাদের কাছে অনেক জনপ্রিয়। এখন ওটিটি।

কাজল আরেফিন অমি

এখন তো ইউটিউবকে প্রডিউসাররা প্রায়োরিটি দিচ্ছে। কাজটা প্রডিউসাররা ইউটিউবে দিচ্ছেন। ইউটিউব, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অনেক কাজ আসছে। যার কল্যানে সারা পৃথিবীতে সবাই কাজগুলো দেখার সুযোগ পাচ্ছে। আজ থেকে ১০ বছর পর হয়তো অন্য কোনো মাধ্যমও চলে আসতে পারে। 

এখানে দুটো জিনিসকে গুরুত্ব দিতে হবে। একটি অর্থনৈতিক ব্যাপার আরেকটি হচ্ছে কাজটা দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেয়া। কারণ আমরা তো কাজটা বানাই মানুষদেরকে দেখানোর জন্য। তো ঐ প্রচারের জায়গাটাও থাকতে হবে।

কাজের ভিউ নাকি প্রশংসা কোনটার প্রাধান্য আপনার কাছে বেশি?
কাজল আরেফিন অমি:
একটা কাজ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মানুষ বিভিন্নভাবে প্রশংসা করলো। আমি একটা কাজ করলাম সে কাজ নিয়ে দশ হাজার মানুষ প্রশংসা করলো। এই দশ হাজার মানুষ কাজটা দেখেই তো প্রশংসা করেছে। ঠিক তারাও তো আমার ভিউয়ার্স। যে প্রশংসা করেছে সে প্রশংসা থেকে আরো বিশ হাজার মানুষ দেখবে। তারা তো আমার ভিউয়ার্স। কিন্তু ভিউয়ার্স নিয়ে তো নেগেটিভভাবে দেখার কিছু নেই। হ্যাঁ এটা সত্য ধরেন যে আমার কাজটা এক কোটি মানুষ দেখেছি। তো আমার কাজটা সেরা কাজ হয়েছে এটা ভুল। 

ভিউ মানে হচ্ছে একটা সিনেমা দেখতে হলে দুইশো মানুষ গিয়েছে। তার মানে যদি আপনি ধরে নেন আমার সিনেমা সুপারহিট বা আমার সিনেমা বাংলাদেশের সেরা সিনেমা তাহলে সেটা ভুল হবে। এই দুইশো মানুষ বের হয়ে এটাও তো বলতে পারে সিনেমা ভালো হয়নি। তাহলে পরবর্তীতে সেই সিনেমার ভিউ কমবে। মানুষ দেখলে সেটা ভিউ হিসেবে কাউন্ট করা হয়। এটাই।

প্রশংসা তো সব সময় মানুষ চাইবে আমার কাজটা মানুষ প্রশংসা করুক। আর ভিউ হচ্ছে মানুষ কাজটা দেখুক। এটা নেগেটিভ হিসেবে দেখার কিছু নেই আবার খুব বেশি পজিটিভও দেখার কিছু নেই। আমার অনেক কাজ আছে কোটির উপর ভিউ। তার মানে এই নয় যে, আমি বাংলাদেশের সেরা নির্মাতা। এটা উচিতও না। হয়তোবা মানুষ আমার কাজ পছন্দ করেন বলেই কোটি ভিউ হয়।

তারমানে এটা নয় যে আমি বাংলাদেশের সবচেয়ে মেধাবী নির্মাতা। তার জন্য আমাকে আরো অনেক সময় পাড় করতে হবে। আমার কাজ নিয়ে আরো বড় বড় মানুষেরা কথা বলতে হবে ও আসলেই মেধাবী। তখন আমি বলতে পারবো হ্যাঁ আমি একটু হলেও মেধাবী। মেধাবী মানুষজন বলছেন আমার কাজটা ভালো হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস