আলোচনা কেন হবে না?: মাহি

ঢাকা, রোববার   ২৫ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১০ ১৪২৮,   ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

আলোচনা কেন হবে না?: মাহি

রুম্মান রয় ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৫৭ ১৪ জুলাই ২০২১  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ঢালিউডের দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। ক্যারিয়ারে বেশি কিছু হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। তাই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে তাকে নিয়ে আলোচনা বিস্তর।

এদিকে মাহিয়া মাহি সম্প্রতি শিহাব শাহীনের পরিচালনায় ‘মরীচিকা’ ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন। সোমবার দেশীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পায় এটি। মুক্তির পরেই ওয়েব সিরিজটি নিয়ে মত্ত নেটদুনিয়ায়।

তারকাবহুল এই ওয়েব সিরিজে অভিনয়ে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তার সমসাময়িক ব্যস্ততা নিয়ে কথা বলেছেন ডেইলি বাংলাদেশ-এর সঙ্গে। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রুম্মান রয়। 

আপনার অভিনীত প্রথম ওয়েব সিরিজ মরীচিকা মুক্তি পেলো, কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
মাহিয়া মাহি:
আসলে মরীচিকা তো চরকি’তে মুক্তি পেয়েছে রাত ৮:৩০ মিনিটে। আমি সেসময়ে দেখিনি। আর এখনো ফেসবুকে ঢুকতে পারিনি। তাই দর্শকদের প্রতিক্রিয়া কি সেটাও জানি না। আমি আসলে টেনশনে ফেসবুকে ঢুকছি না। আর বিকেলের পর থেকে আমরা সবাই মিলে বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারভিউ দিচ্ছি। আমি আসলে পাবলিক রিয়াকশন জানিনা। আমার ডিরেক্টর সহকর্মীরা সবাই আমাকে জানাচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন গ্রুপে মরীচিকা নিয়ে খুব আলোচনা হচ্ছে এবং সবাই খুব অ্যাপ্রিসিয়েট করছে।

এতোটা সাড়া পাবেন প্রত্যাশা ছিলো?
মাহিয়া মাহি:
আমার প্রত্যাশা ছিলো। তবে সেটা নিজের জন্য নয় বরং নির্মাতা শিহাব শাহীনের জন্য। তিনি হচ্ছেন একজন প্রথম সারির নির্মাতা। তার নির্মাণ নিয়ে যদি আলোচনা না হয় তাহলে আমরা কাকে নিয়ে আলোচনা করবো? তার প্রতিটি নির্মাণই বেশ আলোচিত। সবকিছু মিলিয়ে তিনি একজন দুর্দান্ত ডিরেক্টর। তার উপর এখানে আছেন আফরান নিশো, সিয়াম আহমেদ, জোভান। আলোচনা কেন হবে না?

মরীচিকা করতে গিয়ে এখানে অনেকের সঙ্গেই আপনার প্রথমবার কাজ করা। অভিজ্ঞতা কেমন হলো?
মাহিয়া মাহি:
এখানে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। এই মরীচিকা টিম মরীচিকার গল্পটা আমাকে অসংখ্য শিক্ষা দিয়েছে। এখানে আমার ক্যারেক্টারটা এ রকম ছিলো; যাই হয়ে যাক না কেন ধৈর্য ধরে রাখতে হবে। সেটি একবার হারিয়ে ফেললে লাইফ থেকে সব হারাতে হবে। এখানে আমাকে গ্রেইসফুল থাকতে হবে। মরীচিকা করতে গিয়ে নির্মাতা থেকে শুরু করে আফরান নিশো, সিয়াম আহমেদ, জোভান, প্রত্যেকের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ভীষণ ভালো। তারা প্রত্যেকেই অনেক আন্তরিক। আমি আগে এতো আন্তরিক ছিলাম না। কাজ করতে গিয়ে আমরা সবাই একসঙ্গে মেকআপ রুমে বসে গল্প করতে করতে রিহার্সাল করেছি। আমরা সবাই তখন এটাই ভাবতাম যে, গল্পের চরিত্রটা কিভাবে প্রেজেন্ট করলে ভালো হবে।

এই জিনিসগুলো এখানে অনেক কিছু শেখার আছে। সো আমি এই জিনিসগুলো মরীচিকা থেকে শিখেছি। চরকি’র প্রথম কনটেন্টের জন্য আমাকে নির্বাচন করছে এটা আমার জন্য বিশাল ব্যাপার।

এখন থেকে কি নিয়মিত ওয়েব সিরিজ বা ওয়েব ফিল্ম করবেন?
মাহিয়া মাহি:
আমি আসলে এখন মরীচিকার উপর ডিপেন্ডেবল হয়ে পড়ছি। এটার উপর নির্ভর করবে। মরীচিকার সাড়া উপর নির্ভর করছে আমার নেক্সট ওয়েব সিরিজ ওয়েব ফিল্ম করাটা। এটাও নির্ভর করছে ওয়েব দুনিয়ায় আমার ক্যারিয়ারটা। আমি এতোদিন সিনেমা করছি তাই হল মালিকরা জানেন সিনেমায় আমার চাহিদা কেমন। এখন মরীচিকা’র অডিয়েন্সরা বলতে পারবে আমি ওয়েব দুনিয়ায় কতোটুকু সাকসেসফুল হতে পারবো। মাত্র তো একদিন হলো আরো কিছু দিন দেখার পর জানা যাবে কেমন সাড়া পেলাম।

আপনার হাতে থাকা সিনেমাগুলোর কি অবস্থা?
মাহিয়া মাহি:
হাতে বেশ কিছু সিনেমা রয়েছে। কিছু সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে, কিছু সিনেমার কাজ চলছে। লকডাউনের জন্য আপাতত শুটিংয়ে অংশ নেইনি। আমার হাতে যে সিনেমাগুলো রয়েছে সেগুলো হলো- মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালনায় আশীর্বাদ, যাও পাখি বলো তারে, আনন্দ অশ্রু। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত আর্তনাদ। রায়হান রাফির স্বপ্নবাজি, শামীম আহমেদ রনির লাইভ, বুবুজান, নরসুন্দরী। শাহীন সুমনের গ্যাংস্টার।

সাইবার বুলিং নিয়ে আপনার মন্তব্য কি?
মাহিয়া মাহি:
আমি তো খুবই বিরক্ত। আসলে এটা নিয়ে কিছু বলার নেই। কারণ আমি তিন-চার বছর ধরে কমেন্ট সেকশনে যাই না। কোনো কমেন্ট পড়ি না। কমেন্ট পড়লে আমি ফ্রাস্ট্রেশনে চলে যাই। তখন সুইসাইড করতে মন চায়। তখন আমার মনে হয় এরকম কমেন্ট করলো আমাকে নিয়ে! এখন এগুলো দেখে দেখে আমি অভ্যস্থ হয়ে গিয়েছি। এমন কি আমার সোশ্যাল আইডি’তে কমেন্ট বক্স লিমিটেড রাখছি।

শুধু আমার কাছের মানুষরাই করতে পারবে। আমি আমার ফ্যামিলি নিয়ে আছি। এজন্য আমি আমার পরিবার নিয়ে খুব বিব্রতবোধ করি। আমার পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এরা যখন কমেন্টগুলো পড়ে তারা তো বুঝতে পারেন না। তাদের তো কোনো আইডিয়া নেই মানুষ কতো জঘন্য নোংরা কথা বলতে পারে। অনেক শিল্পীদেরকেও করে। সেখানে অনেক জঘন্য জঘন্য ভাষায় বলা হচ্ছে। এটা খুবই অস্বস্তিকর। এটা আমরা বুঝি তাদের মনমানসিকতা কতো জঘন্য নোংরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস