মহানগর-২ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি: আশফাক নিপুণ

ঢাকা, রোববার   ২৫ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১০ ১৪২৮,   ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

মহানগর-২ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি: আশফাক নিপুণ

ইসমাইল উদ্দীন সাকিব ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৫৬ ১৪ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৯:০৮ ১৪ জুলাই ২০২১

আশফাক নিপুণ

আশফাক নিপুণ

আশফাক নিপুণ। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ও প্রশংসিত নির্মাতা। সাম্প্রতিক সময়ে ‘কষ্টনীড়’, ‘ইতি মা’, ‘ভিক্টিম’ এর মত দর্শকনন্দিত কাজের মাধ্যমে সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নিজের নির্মিত প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘মহানগর’ দিয়েও বাজিমাত করেছেন। 

‘মহানগর’ নির্মাণের বিভিন্ন দিক ও এর পরবর্তী সিরিজের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন ডেইলি-বাংলাদেশের সঙ্গে। তার সাক্ষাতকার নিয়েছেন ইসমাইল উদ্দীন সাকিব।

মহানগর-২ কখন আসছে? এ নিয়ে পরিকল্পনা কি?
আশফাক নিপুণ:
আমার প্রথম ওয়েব সিরিজ বলে নির্মাণের সময় শুধুমাত্র মহানগর নিয়েই বেশি মনোযোগী ছিলাম মহানগর-২ নিয়ে পরিকল্পনা ছিলোনা। কারণ আমি এমনভাবে বানাতে চেয়েছিলাম যাতে দর্শক এক বসাতেই দেখে ফেলতে পারেন।

তবে গল্পের ধারাবাহিকতায় এক সময় মনে হলো একেবারে শেষ করে না দিয়ে দর্শকদের মধ্যে কিছুটা অতৃপ্তি রয়ে গেলে ভালো হয়। তবে দর্শকদের কাছ থেকে খুব ভালো সাড়া পেয়েছি, তাদের কাছ থেকেই দাবি উঠেছে মহানগর-২ এর। ‘হইচই’ কর্তৃপক্ষও সিরিজটি নিয়ে খুশি। একারণেই এখন পরবর্তী অংশ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি।

পুলিশের আচরণের ধরনাটা কিভাবে জানতে পারলেন?
আশফাক নিপুণ:
গল্পের প্রয়োজনেই নানান জায়গায় পুলিশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করতে হয়েছে। রাতের থানা কেমন, পুলিশদের শারীরিক অঙ্গভঙ্গি কেমন, তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ কিভাবে করে, সমাজের শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী আসামী বা অন্যান্যদের কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এগুলো কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেই তা সকলের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

ভারতীয় রিভিউয়াররা বলছে ওদের দেশেও এত ভাল কাজ হয় নি। পরিচালক, শিল্পী, স্থান সব আমাদের হওয়া সত্যেও কেন আমাদের অন্য দেশের ওটিটির উপর নির্ভর করতে হল?
আশফাক নিপুণ:
ভিনদেশী ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে আমি সাধুবাদ জানাই। ওখানে মুক্তি দেয়ায় দেশের বাইরেও ভারতের বিশাল জনগোষ্ঠীর একটা অংশ সিরিজটি দেখেছে। মহানগর নির্মাণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছুই বাংলাদেশে করলেও ‘হইচই’ কোন দাবী ছাড়াই যে প্রযোজনা করছে এটিও আমাদের জন্য গর্বের। 

এই যে দেশ ও দেশের বাইরে মহানগরের প্রশংসা হচ্ছে, কথা হচ্ছে; দেশীয় ওটিটিতে মুক্তি দিলে হয়তো এমনটা হতো না। দেশীয় প্ল্যাটফর্মগুলো গল্প দেখে সাহস নিয়ে এগিয়ে আসছে না, বাজেট বাড়াচ্ছে না। তাছাড়া দেশীয় প্ল্যাটফর্মগুলো দেশের বাইরে খুব একটা পরিচিতও নয়, ভালো স্ট্রিমিং হয়না।

অল্প সময়েই দেশে ওয়েব সিরিজ খুব ভাল সাড়া ফেলেছে। এর ভবিষ্যৎ কেমন দেখেন?
আশফাক নিপুণ:
অনেক ঝামেলা পেরিয়ে একটি সিনেমার জন্য পরিচালককে প্রায় দুই থেকে তিন বছর সময় দিতে হয়। তারপরও দর্শক হয় খুবই কম।

অন্যদিকে ওটিটি সিরিজ নির্মাণ করলে তা বিশ্বব্যাপী সহজে দেখা যায়। এছাড়া নির্মাতারা পরিকল্পনাগুলো পুরোপুরি নিজের মতো করে প্রয়োগ করতে পারেন বলে ওটিটি সিরিজ নির্মাতাদের জন্য অনেক বেশি স্বস্তির। আবার ভিন্ন স্বাদের কন্টেন্ট নিজের সময়মতো যখন খুশি দেখতে পারায় দর্শকদের কাছেও ওয়েব সিরিজ আকর্ষণীয়। আমার ও বেশিরভাগ নির্মাতাদের কাজের উদ্দেশ্যই হলো দর্শক যাতে কাজটা দেখে, দেখে আনন্দ পায়।

দেশের নির্মাতাদের সৃজনশীলতার কদর দেশের বাইরে হলেও দেশে কম হচ্ছে কেন?
আশফাক নিপুণ:
দেশের পাশাপাশি ভারতেও সকলেই মহানগর এর প্রশংসা করছে। ‘হইচই’ এর সত্ত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্ম (এসভিএফ) এর মালিক মহেন্দ্র সোনি টুইট করেছেন- মহানগর আমাদের জন্য বেঞ্চমার্ক শো হচ্ছে।

ভারতে সবার আগে প্রাধান্য পায় গল্প, এরপর নির্মাতা ও অভিনেতারা। এদেশের গুণী নির্মাতাদের কাজগুলো ভারতের প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাচ্ছে। অন্যদিকে আমরা এখনো তারকা নির্ভর। দেশীয় প্ল্যাটফর্মগুলো গল্প দেখে সাহস নিয়ে এগিয়ে আসছে না, বাজেট বাড়াচ্ছে না।

ভালো কন্টেন্টের মাধ্যমে দেশীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হতে পারবে কি?
আশফাক নিপুণ:
অবশ্যই। তবে বর্তমানে যেভাবে দেশীয় প্ল্যাটফর্মগুলো পরিচালিত হচ্ছে, সেরকম চলতে থাকলে এটা অর্জন করা কঠিন হবে এখানে পরিচালককে দোষারোপ করার একটি সংস্কৃতি চালু রয়েছে। কিন্তু ভালো নির্মাণের পেছনে পরিচালকের পাশাপাশি প্রযোজক, ক্রিয়েটিভ পরিচালক বা ওটিটির ক্ষেত্রে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সকলেরই দায় রয়েছে। দায়িত্ব নিয়ে সবাই কাজ করলেই দেশীয় প্ল্যাটফর্মগুলো উন্নতি করতে পারবে।

সামনে কি নিয়ে কাজ করবেন? ঈদে কি কিছু মুক্তি পাবে?
আশফাক নিপুণ:
মহানগর এর পেছনে সময় দেয়ায় আমি ঈদের জন্য আলাদা কোন কাজ করিনি। তাছাড়া গত পাঁচ মাস প্রচুর শ্রম দিতে হয়েছে। বিশেষত মহানগরের পোস্ট-প্রোডাকশন এর কাজ চলাকালীন দীর্ঘসময় না ঘুমিয়েই কাজ করেছি। এরপর কাজ করতে চাইলেও করোনার সংক্রমণ অত্যধিক বেড়ে যায়, সঙ্গে লকডাউনও শুরু হয়। এখন কিছুদিন নিজেকে বিশ্রাম দিয়ে এরপর কাজ শুরু করবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস