সন্তুষ্টি প্রাপ্তি এগুলো নিয়ে ভাবি না: এবিএম সুমন

ঢাকা, শুক্রবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ২ ১৪২৮,   ০৮ সফর ১৪৪৩

সন্তুষ্টি প্রাপ্তি এগুলো নিয়ে ভাবি না: এবিএম সুমন

রুম্মান রয় ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৩৮ ১০ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৮:১৯ ১৬ আগস্ট ২০২১

এবিএম সুমন

এবিএম সুমন

ঢাকার সিনেমার সুদর্শন নায়ক এবিএম সুমন। চলচ্চিত্র তার আগমন ঘটে ২০১৫ সালে এস আই খান পরিচালিত ‘অচেনা হৃদয়’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। তারপর একে একে অভিনয় করছেন সায়েম জাফর পরিচালিত ‘রুদ্র দ্য গ্যাংস্টার’, তানিম রহমান অংশুর ‘আদি’।

তিনি মূলত লাইমলাইটে আসেন ২০১৭ সালে মুক্তি প্রাপ্ত দীপংকর দীপনের ‘ঢাকা অ্যাটাক’ দিয়ে। সিনেমার পাশাপাশি ইন্দুবালা, কুয়াশা ও ধোঁকা নামে ওয়েব সিরিজেও অভিনয় করছেন তিনি। বর্তমানে তার হাতে বিউটি সার্কাস, গিরগিটি, হৃদিতা শিরোনামের বেশ কয়েকটি ছবি রয়েছে।

বর্তমানে দেশের প্রথম সাইবার থ্রিলার সিনেমা ‘অন্তর্জালে’ চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। সম্প্রতি সময়ে সিনেমার বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন ডেইলি বাংলাদেশ-এর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রুম্মান রয়।

এখনতো লকডাউন চলছে বাসায় আছেন নিশ্চয়ই?
এবিএম সুমন:
জ্বি, বাসায় আছি। কোথাও বের হচ্ছি না।

এবিএম সুমন

সম্প্রতি নির্মাতা দীপংকর দীপনের নতুন ছবি অন্তর্জালে সিআইডি অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করবেন।তা নতুন এই চরিত্র নিয়ে আপনার প্রস্তুতি কেমন?
এবিএম সুমন:
 প্রস্তুতি বলতে এখন তো সারাদেশেই লকডাউন চলছে। তাই এখন আপাতত সেভাবে প্রস্তুতি নিতে পারছিনা। তবে আমি এই চরিত্রটি নিয়ে খুব এক্সাইটেড। অন্তর্জাল ছবিতে আমি একজন সিআইডি অফিসারের ভূমিকায় আছি। এর আগে আমি যখন ঢাকা অ্যাটাক ছবিতে পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম; এবার অন্তর্জালে আমাকে পুলিশের চরিত্রে হলেও ভিন্ন ভাবে দর্শকরা দেখতে পাবেন। অনেক চিল ডাউট একটা ক্যারেক্টার।

‘অন্তর্জাল’ তো একটি মাল্টিকাস্টিং ছবি। এখানে আপনার চরিত্রের ব্যাপ্তী ও গুরুত্ব কেমন থাকছে?
এবিএম সুমন:
আমার চরিত্রটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। ইনফ্যাক্ট এখানে প্রতিটি চরিত্রই গুরুত্বপূর্ণ। সিনেমায় পুরো টিমটাই কাজ করবে একসঙ্গে। কিন্তু একেক জন একেক ডিপার্টমেন্ট থেকে। যেমন আমি সিআইডি, বিদ্যা সিনহা মিম আইটি সাইবার ক্রাইম দেখবে, সিয়াম ইঞ্জিনিয়ার, সুনেরাহও ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আছে। সবকিছু মিলিয়ে একটা ন্যাশনাল সিকিউরিটি ই্যসু দাঁড়ায়। তো সবাই মিলে সব করে। এখানে আসলে যার যা কাজ সে তো সেটাই করবে। যখন একটা দেশে থ্রেট আসে অলটুগেদার কাজটা করে। এখানে প্রত্যকটি চরিত্রের সমান গুরুত্ব আছে।

নির্মিতা দীপংকর দীপনের সঙ্গে এর আগেও আপনি কাজ করেছেন। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
এবিএম সুমন:
দীপন দাদার সঙ্গে কাজ করা আমার জন্য সব সময় আশীর্বাদের। দাদা আমার কাছে একটা ইন্সটিটিউট। তার কাছ থেকে আমি সব সময় অনেক কিছু শিখি। তিনি যেভাবে চিত্রনাট্য সাজান ওভাবেই উনি দেখতে চান। এখানে অন্য কোনো সুযোগ নাই। সো ঐ জায়গা থেকে কমফোর্ট জোনে থাকি। যে ডিরেক্টর আসলে এতোটা স্ট্রং মেন্টালির তার প্রজেক্ট যে স্মার্ট হবে এটা বলাই যায়। 

এবিএম সুমন

আপনার হাতে থাকা অন্যান্য সিনেমাগুলো কি খবর?
এবিএম সুমন: দীপংকর দীপন দাদার ‘ঢাকা২০৪০’-এ আমি একটি ক্যামিও রোল প্লে করেছি। ঐ ছবির কি অবস্থা তা বলতে পারবো না। খুব একটা জানি না। আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট মাসুদ রানা ছবির জন্য আমি মানসিক ও শারীরিক ভাবে প্রস্তুত ছিলাম। প্রস্তুতিটা যখনই নেই তখনই করোনা এসে সব বানচাল করে দেয়। এবারের করোনাটা আমাদের দক্ষিণ এশিয়ায় এমনভাবে আক্রান্ত করেছে সারা ওয়ার্ল্ডে দক্ষিণ এশিয়াকে রেড জোনে রাখা হয়েছে। সো এই কারণে আমরা ভিসা পাচ্ছি না। তাই কোথাও যেতেও পারছিনা। তবে সামনে যেতে পারবো বলে আশা করছি।

এরইমধ্যে সরকারি অনুদানের হৃদিতা ছবির কাজ করলাম। আসলে এর আগে এই ধরনের ক্যারেক্টারে করার কোনো এক্সপেরিয়েন্স নেই। এই গল্পটা এতো পুরোনো যে এখানে অন্য রকম একটি কাজ হয়েছে। চ্যালেঞ্জিংয়ের জায়গা থেকে কেমন করেছি দর্শকরাই ভালো বলতে পারবেন। আমরা আমাদের মতো করে চেষ্টা করছি একটা ভালো কাজ করার। বাংলাদেশে তো কাজে অনেক প্রতিবন্ধকতা। আসলে ঐ জায়গা আমরা চাইলেও অনেক কিছু করতে পারি না। এছাড়াও সৌরভ কুন্ড পরিচালিত গিরগিটি সিনেমায় কাজ করছি।মুক্তির অপেক্ষা আছে মাহমুদ দিদার পরিচালিত বিউটি সার্কাস ছবিটি।

এই সময়ে সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে অনেক কিন্তু সিনেমা হল তো খুলছে না।এটা নিয়ে বলবেন আপনি?
এবিএম সুমন: সিনেমা যতই করি কিন্তু হলে যদি মুক্তি দিতে না পারি তাহলে তো হবে না। ওটিটি সিনেমা আর প্রেক্ষাগৃহের সিনেমা দুটি দুই জিনিস। সিনেমা হল যদি না খুলে তাহলে আমরা এই সিনেমাগুলো কোথায় রিলিজ দিবো? এগুলো তো ওটিটি'র জন্য বানাচ্ছি না। এই সিনেমাগুলো ওটিটি'তে মুক্তি পেলে মনে হয় না এতো অ্যাপ্রিসিয়েট হবে। এগুলো তো ওটিটি’র সিনেমা না। সিনেমা দেখার জন্য আপনাকে প্ল্যান করতে হবে। যেদিন সিনেমা দেখবেন তার আগে আপনাকে প্ল্যান করতে হবে ওমুক দিন সিনেমা দেখতে যাবো। তিন ঘন্টা থাকতে হবে। স্ক্রিন যখন আপনার হাতের মুঠোয় চলে আসবে তখন কিন্তু ঐ বিষয়টা থাকে না। ভালোবাসা আকর্ষণ এপ্রোচ করে না। ছোট বক্সের মধ্যে সিনেমা দেখা ওটা তো সিনেমা দেখা বলে না।

আপনি তো এর আগে ওয়েব সিরিজে কাজ করেছেন। এখন তো সারা পৃথিবীতে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের চাহিদা। তা এই মাধ্যমে কাজে আগ্রহ কতোটা?
এবিএম সুমন:
আমি যখন কাজ করেছি তখন ঐ সময়টা ওটিটি ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে আসেনি। ওগুলো ছিলো কনটেন্ট। এখন তো এই মাধ্যমে ভালো ভালো কাজ হচ্ছে। যদি তেমন কাজের অফার আসে আর মিলে যায় তবে অবশ্যই আমি কাজ করবো।

চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে আপনার ছয় বছর।চলচ্চিত্রে আপনার অবস্থান নিয়ে আপনি কতোটুকু সন্তুষ্ট?
এবিএম সুমন: 
এভাবে আসলে কখনো চিন্তা করি নাই। আসলে আমি সন্তুষ্টি প্রাপ্তি এগুলো নিয়ে ভাবি না। আমি কেন সন্তুষ্টি নিয়ে কোনো আর্টিস্টের লাইফে আসে না। তাই এই সব জায়গা মাথায় আটকে না। পাওয়ার কিছু থাকে না, দেওয়ার থাকে। আমার জায়গা থেকে যতোটুকু পেরেছি দিয়েছি সুযোগ থাকলে আরো দিতে পারতাম। হয়তো সে সুযোগটা আমার হয়ে উঠেনি। বেশি কাজ করার আগ্রহ আমার কখনোই নেই। যে প্রসেসে আমি কাজ করি এটাতে সময় লাগে। আমি আসলে যে কাজটা করার জন্য ডিরেক্টরের কাছ থেকে যে সময়টা পেয়েছি আমি চেষ্টা করছি সেভাবে নিজেকে প্রস্তুত করার। আমি সেই জায়গা থেকে চেষ্টা করছি ভালো পারফর্ম করার। তবে বেশি কাজ করার আগ্রহ আমার নাই। আমি যেই কাজটাই করিনা কেন; সেটাতে সময় দিয়ে ভালো মতো করার চেষ্টা করি।

এবিএম সুমন

তাহলে কি আপনি কাজ করতে গিয়ে নোংরা রাজনীতির শিকার হয়েছেন?
এবিএম সুমন:
 আমি আসলে ওটা গেইস করতে পারি কিন্তু বলতে পারবো না। পলিটিক্স সারা দুনিয়ায় আছে। পলিটিক্স দিয়ে অনেকে বলয় ক্রিয়েট করেন। অনেক ডিরেক্টর আছেন যারা তাদের পছন্দের আর্টিস্ট নিয়ে কাজ করতে কমফোর্ট ফিল করেন। তাদের নিজস্ব একটা বলয় ক্রিয়েট করেন। আমি আসলে ওটা ওভাবে দেখিনি। অনেক সময় আছে যে ঐ ক্যারেক্টারে আমি ভালো করতে পারতাম মনে হয় কিন্তু প্রডিউসার ডিরেক্টর মনে ঐ পার্টিকুলার আর্টিস্ট নিয়ে করতে চান বা করেছেন। সারা দুনিয়ায় পলিটিক্স আছে। আমার মধ্যে ঐ জিনিস নাই যে বলয় ক্রিয়েট করতে পারবো। আমি জানলে আমিও করতাম।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস