হার মানবো না, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবো: পরীমনি

ঢাকা, শনিবার   ২৪ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ৯ ১৪২৮,   ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

হার মানবো না, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবো: পরীমনি

রুম্মান রয় ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩৬ ২০ জুন ২০২১  

পরীমনি

পরীমনি

ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পেয়েছিলেন তিনি। সহজেই বোঝা যায় তিনি মেধাবী। সেই মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন তার ক্যারিয়ারেও। বলছি শামসুন্নাহার স্মৃতির কথা। বাংলা চলচ্চিত্র জগতে যিনি পরীমনি নামে পরিচিত।

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা তিনি। ২০১৫ সাল থেকে তিনি সিনেমায় কাজ করছেন। এরই মধ্যে নিজের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তার সামিয়ানা ছড়িয়ে ফেলেছেন দেশজুড়ে। সিনেমার পর্দায় পরীমনি কতটা জনপ্রিয়, তা দর্শকরাই ভালো জানেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরী জনপ্রিয়তার শীর্ষে, তা স্পষ্ট। তার ফেসবুক পেজের দিকে চোখ রাখলেই বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায়।

এদিকে কয়েকদিন আগেই এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন এই নায়িকা। গণমাধ্যমজুড়ে ছিলেন পরীমনি। সেসময় কাটানো তার দিনগুলো নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন ডেইলি বাংলাদেশ-এর। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রুম্মান রয়। 

সেদিন রাতে আসলে কী ঘটেছিলো?
পরীমনি:
সেদিন আমরা ঘরোয়া কাপড়ে রোগী দেখতে বেড় হয়েছিলাম। আমাকে সেদিন রাতে প্ল্যান করে বোট ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় আমার হাতের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ফেলে দেয়। আমি তুলে নিয়ে ৯৯৯ কল সেন্টারে ফোন দিয়েছিলাম। নাসির ক্লাবের ভিতরের লাইটগুলো বন্ধ করতে বলেছিল। কিন্তু ক্লাবের ওয়েটাররা বন্ধ করেননি। তাদের সাহসকে স্যালুট জানাই। নাসির অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে বলে তোকে কুঁচি কুঁচি করে ৩০০ টুকরো করে ডোবায় ফেলে দিবো। কি ভয়ংকর ছিলো!

সেই ঘটনার ট্রমা থেকে কি বের হতে পেরেছেন?
পরীমনি:
এখনো ঘোরের মধ্যে আছি। সেই রাতের কথাগুলো কান বাজছে। কোনো সাউন্ড বা নয়েজ হলে আঁতকে উঠি। ধীরে ধীরে ট্রমা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছি। নিজেকে ব্যস্ত রাখার জন্য ঘরের টুকিটাকি কাজ করছি। পছন্দের কোনো রেসিপি তৈরি করার চেষ্টা করছি। আমার গান শুনতে ভালো লাগে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে গান শুনতে শুনতে হঠাৎ বন্ধ করে দিলাম। এখন সেটা ভালো লাগছে না। খুব আয়োজন করে সিনেমা দেখতে বসছি হঠাৎ করেই সিনেমা দেখতে ইচ্ছে করে না। কিন্তু কোনোভাবেই মন দিতে পারছিনা।

ভুলতে চেষ্টা করছি। যতক্ষণ কাছের মানুষজন পাশে থাকছেন ততক্ষণ নরমাল হওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু যতোই মনে না করতে চাই, ততই বেশি মনে পড়ে। যদি এমন কোনো ডিভাইস পাওয়া যেতো মাথা থেকে পুরনো বিষয়গুলো মুছে ফেলার, ভালোই হতো।

ঘটনার পরে ডিবি কার্যালয়ে কি কথা হয়েছিলো?
পরীমনি:
ঘটনার পরে আমি মনে করি এর সুষ্ঠ তদন্ত হওয়া উচিৎ এবং আমি ডিবি কার্যালয়ে যাই। সেখানে হারুণ স্যারের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছি। তিনি সুষ্ঠু বিচার পাবো বলে আমাকে আশ্বস্ত করেছে এবং মানসিক সাপোর্ট দিয়েছেন। ওনার সঙ্গে কথা বলে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছি। আমি স্বস্তি পেয়েছি।

এখন আপনার চাওয়া কি?
পরীমনি:
আসামীরা যেনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়। কোনোভাবেই যেনো এধরণের লোকেরা আর কোনো মেয়েকে এভাবে নির্যাতন অপমান করার সাহস না পায়। আমি হার মানবো না, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবো।

আসামীদের পক্ষ থেকে কেউ কি আপনার সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা করেছে? 
পরীমনি:
ঘটনার দুদিন পর অমি একটা সরি মেসেজ পাঠিয়েছিলো। এটা দেখে আমার খুব রাগ হয়েছিলো। এমন একটা অন্যায় করে সরি! ভুলের ক্ষমা হয়, অন্যায়ের হয় শাস্তি। এটা ভুল না, এটা অন্যায় করেছে। এই অন্যায় সরি দিয়ে শেষ হবে না।

সহকর্মীদের কাছ থেকে কতোটা সাপোর্ট পেয়েছেন
পরীমনি:
আমি যাদের কাছ থেকে সাপোর্ট আশা করেছিলাম তাদেরকে পাশে পাইনি। একটা সময় আমি অনেকের খারাপ সময়ে পজিটিভ কথা বলে সাহস জুগিয়েছি। কিন্তু আমার সময়ে কাউকে পাইনি। অন্য সহকর্মীরা যেভাবে এগিয়ে এসেছেন তা দেখে আমি সত্যিই আপ্লূত। এখন আর আমি নিঃসঙ্গ নই। যারা যারা পাশে এসেছেন তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আর বিশেষ করে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অনেক বেশি কৃতজ্ঞ। গত কয়েকদিন ধরে তাদের কাছ থেকে যে সহযোগিতা পেয়েছি, তা আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এখন শারীরিক এবং মানসিকভাবে কেমন আছেন?
পরীমনি:
শরীরে জ্বর থাকলেও এখন মোটামুটি ভালো। মাঝে কলকাতায় গিয়েছিলাম চিকিৎসার জন্য। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ম করে সকাল ৯ টা থেকে ৪ টা ওষুধ খেতে হতো। বিগত দিনগুলোতে সব এলোমেলো হয়ে গেছে। আমার ভার্টিগো সমস্যা বেড়ে গেছে। খাবার খেলেও হজম করতে পারছিনা। আমি শারীরিকভাবে আনফিট। মাঝে মাঝে আমার শ্রবণশক্তি হারিয়ে যায়। কিছুটা শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে। শটের ফাঁকে ফাঁকে অক্সিজেন নেই। লকডাউনের শুরু থেকেই আমি ভার্টিগো সমস্যায় ভুগছি। প্রায় বাসার মধ্যে হুটহাট করে পড়ে যেতাম। চিকিৎসার জন্য আবারও বাইরে যাওয়ার কথা ছিলো। ভিসা জটিলতায় পড়ে যাওয়া হলো না।

কাজে ফিরছেন কবে?
পরীমনি:
আমি চেষ্টা করছি কাজে ফেরার। আজকে শুটিং বললেই রেডি হয়ে যাবো। কিন্তু আমি তো শারীরিকভাবে ফিট না। নিজেকে তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিচ্ছি। দ্রুতই কাজে ফিরবো। এই মাস জুড়ে আমার শিডিউল দেওয়া ছিলো। এরমধ্যে নাম চূড়ান্ত না হওয়া একটা ওয়েব সিরিজ, প্রীতিলতা ছবির শুটিং। সব শিডিউল এলোমেলো হয়ে গেলো। তবে নির্মাতারা আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস