আমার মধ্যে কোনো তাড়াহুড়ো নেই: জাহারা মিতু

ঢাকা, শনিবার   ৩১ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৭ ১৪২৮,   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

আমার মধ্যে কোনো তাড়াহুড়ো নেই: জাহারা মিতু

রুম্মান রয় ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৯ ১৮ জুন ২০২১   আপডেট: ১৫:০৬ ১৯ জুন ২০২১

জাহারা মিতু; ফাইল ছবি

জাহারা মিতু; ফাইল ছবি

শুরুটা সুন্দরী প্রতিযোগিতা ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ থেকে। এরপর শুরু করেন মডেলিং ও ক্রীড়া উপস্থাপনা। চলচ্চিত্রে তিনি শাকিব খানের বিপরীতে ‘আগুন’ সিনেমায় অভিনয় করে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রথম ছবি মুক্তির আগেই ওপার বাংলায় দেবের বিপরীতে অভিনয় করেছেন ‘কমান্ডো’ সিনেমায়। এবার তিনি চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরীর বিপরীতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

বলছিলাম বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ জাহারা মিতুর কথা। বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে সম্প্রতি ডেইলি বাংলাদেশ-এর মুখোমুখি হয়েছেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রুম্মান রয়।

একসঙ্গে নতুন তিন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এরমধ্যে একটি ছবি যন্ত্রণা'র কথা জানা গেলেও বাকি দুটোর ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি। বাকি দুটো ছবির ব্যাপারে একটু বলুন?

জাহারা মিতুঃ  তিনটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি ঠিক। কিন্তু আপাতত একটি ছবির কথা প্রকাশ করলাম। আমার ক্ষেত্রে হয় কি, ছবিতে সাইন করার অনেক পরে সেটা জানাই। যেমন আমার প্রথম ছবি 'আগুন' সাইন করার ১ মাস পর সবাইকে জানিয়েছি। আমার ২য় ছবি 'কমান্ডো' সাইন করার প্রায় ২ মাস পর সবাই জানতে পেরেছে। আমি চাই প্রোডাকশন হাউস থেকে নিউজটা প্রকাশ হোক। কারণ প্রথমে এটা তাদের সন্তান। তারপর আমরা বাকিরা যুক্ত হই। এভাবেই বাকি ছবিগুলোর প্রোডাকশন হাউস থেকে পাবলিশ করবে তখনই সবাই সবটা জানতে পারবে। আমার বাকি দুটোর ছবির পরিচালক ও প্রোডাকশন হাউস আলাদা আলাদা। এরমধ্যে একটি ছবিতে কলকাতার শিল্পীদের কাজ করার কথা রয়েছে। একে তো করোনা আবার এখন তো বিদেশি শিল্পীদের অভিনয়ের ব্যাপারে নতুন নিয়মকানুন হয়েছে। আসলে আগে ভিন্নভাবে কিছু প্ল্যান ছিলো। এখন দেখা যাক কি হয়। তাই এতো তাড়াতাড়ি ঐ ছবিগুলো নিয়ে কথা বলা ঠিক হবে না।

'যন্ত্রণা' ছবিতে আপনার শুটিং কবে থেকে শুরু হচ্ছে?

জাহারা মিতুঃ চলতি মাসের ২২ তারিখ থেকে আমার শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আমরা আউটডোরে পার্বত্য অঞ্চল কাপ্তাইয়ে শুটিং করবো সেভাবেই আমার ডেট নেয়া হয়েছে। যেহেতু পার্বত্য অঞ্চলে শুটিং করা হবে সেহেতু প্রশাসন থেকে যদি পারমিশন মিলে যায় তাহলে ২২ জুন থেকে শুটিং করতে পারবো।

এখনো আমাদের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। এই অবস্থায় শুটিংয়ে অংশ নেয়া আপনি কতোটা নিরাপদ মনে করছেন?

জাহারা মিতুঃ দেখুন আমরা যখন আউটডোরে যাবো আমি চাইবো ডেফিনিটলি আমাদের সবার করোনা টেস্ট করানো হোক। তবে যাই হোক আমি আমারটা করাবো। দেখুন এখন এমন হয়ে গেছে আমার সামান্য জ্বর হলেও আমি টেস্ট করাই। আমার ফ্যামিলির কেউ ইফেক্টেড হোক এটা আমি চাই না। কাপ্তাইয়ে শুটিং লোকেশন নেয়া এজন্যই সেখানে খুব একটা জনসমাগম হবে না। সেখানে আমরা শুধু ইউনিটের লোকজন থাকবো এবং তাড়াতাড়ি শুটিং শেষ করে আসতে পারবো। আমরা সেটা মিটিংয়ে ঠিক করে রেখেছি আমরা কম মানুষ নিয়ে আউটডোরে যাবো। কম সহকারী নিয়ে যাবো। আর অবশ্যই সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করবো। আমার নিজেরও একটা পার্সোনাল সেফটির জায়গা থাকে। আমি আমার পরিবারের দিকটা দেখবো, আরেকজন তার পরিবারের দিকটা দেখবে। নিজস্ব একটা দায়িত্ববোধ তো থাকেই। ততোটুক তো মেইনটেইন করা হবে।

সিনেমায় নাম লিখিয়েছেন দুই বছর হয়ে গিয়েছে। এরইমধ্যে দুটো ছবিতে কাজও করে ফেলছেন অথচ এখনো আপনার একটি ছবিও আলোর মুখ দেখেনি। তা এটা নিয়ে কোনো কষ্ট বা হতাশা কাজ করে?

জাহারা মিতুঃ আমি হতাশ হওয়ার মতো মেয়ে না। আমি কখনোই হতাশ হইনা। আমি বাস্তববাদী একটা মেয়ে। এগুলো আমাকে কখনোই টাচ করে না। যারা আমাকে চিনে-জানে আমি আসলে কেমন। যখন আমার বাবার মৃত্যু হয়েছিলো তখন আমার চোখ দিয়ে একফোঁটা পানিও পড়েনি। কারণ আমি ছিলাম পরিবারের বড়। আমি যদি ভেঙে পড়ি তাহলে আমার পরিবারকে কে দেখবে? আমি খুব শক্ত মনের। এমনকি আমি হাসপাতাল থেকে একা গিয়েছি আমার বাবার মরদেহ আনার জন্য। পরিবারের বড় হিসেবে আমি দ্বায়িত্ব পালন করেছি নিজেকে শক্ত রেখে। আসলে আমার মধ্যে কখনোই হতাশা কাজ করে না। কখনো, কোনো কিছু নিয়ে। আমি মনে করি এই মুহূর্তে এটাই ভাগ্যে ছিলো তাই এটা হয়েছে। আসলে আমি ভাগ্যে বিশ্বাসী। ভাগ্যে যা আছে তাই হবে। ইভেন আমি কখনো চলচ্চিত্রে আসবো সেটাও চিন্তা করি নি। আমি আমার পড়াশোনা ক্যারিয়ার নিয়ে এতো বেশি ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম সে সময়ে ঢালিউডের অনেক তথ্য খবরই জানতাম না। কিন্তু একটা সময় চলচ্চিত্রের অনেক খুটিনাটি খবর দেখতাম জানতাম আমার কাছে ভালো লাগতো। সেই ভালো লাগা যে কখন নেশায় পরিণত হয়েছে বুঝতে পারিনি। আমি পড়াশোনা ডিজাইনার ক্যারিয়ার নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিলাম। আমি ফিল্মে কখনোই আসতে চাইনি। যখন সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিলাম একটা ট্যাগ পেলাম এটা নেশা হতে লাগলো। এরপর একটা দুইটা করে উপস্থাপনায় আসা। উপস্থাপনা থেকে চলচ্চিত্রে আসা। ভাগ্যই আমাকে চলচ্চিত্রে নিয়ে এসেছে। এখন চলচ্চিত্রের রেজাল্টের জন্য হা-হুতাশ করতে পারিনা। এটা ভাগ্যের উপর। ইনশাআল্লাহ ভালো কিছুই হবে। আমার নিজের উপর নিজের কনফিডেন্স আছে। আমাকে একজন শিল্পী হিসেবে যতোটুকু সুযোগ দেয়া হবে একজন নতুন আর্টিস্ট হিসেবে বেশিকিছু এক্সপেক্ট করতে পারি না। তবে আমি এইটুকু বলতে পারি যখন আমার ফিল্মগুলো আসবে দর্শকরা দেখে তারা বলবে আরো আগে আসা দরকার ছিলো। ওর ভালো কিছু দেয়ার আছে।

সিনেমায় কাজ করার জন্য কোন বিষয়ে আপনি গুরুত্ব দিচ্ছেন?

জাহারা মিতুঃ আমি প্রথম ছবির পর অপেক্ষা ১৩ মাস এরপর দ্বিতীয় ছবির পর ১৪ মাস। আমি যে দুটো ছবি করেছি এ দুটো ছবি করার পর অবশ্য আমি না হয়ে অন্য কোনো নায়িকা হলে অনেক ছবিতে কাজ করতো। শাকিব খানের নায়িকা হলে তো অনেক ছবির অফার আসে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি তো সেটা করিনি। আমি চেয়েছি আস্তে এগুতে। যেমন এখন বাপ্পী চৌধুরীর সঙ্গে নতুন এই ছবিটা করছি। আসলে আমি কিন্তু স্ক্রিপ্টে আমার অভিনয়ের জায়গা আছে এটা দেখে এবং সিনেমার গানগুলো শুনেছি সবগুলো গানই চমৎকার আর তাদের সঙ্গে কথা বলে যখন বুঝলাম এভাবে মেকিং হলে অবশ্যই ভালো কিছু হবে। আমার কাছে তখন সবকিছু ভালো লেগে যায়। তখন ঐ বিশ্বাসটা থেকে আমার এই ছবিতে কাজ করা হচ্ছে। যখন দেখা যাবে এমন কোনো ভালো প্রজেক্ট যেখানে আমার অভিনয় করার জায়গা আছে সেখানেও কাজ করবো। তারজন্য কোনো তাড়াহুড়ো করবো না। যদি মানুষের ফিডব্যাক পাই, যদি বলে আপনাকে ভালো লেগেছে, আপনার এই কাজটা ভালো লেগেছে তখন কাজের পরিধি বাড়াবো। এটা নেশা। এটা পেশা না। পেশা হিসেবে নিলে আমি কখনোই ফিল্মে আসতাম না। আমার যে ফ্যাশন ডিজাইনার ক্যারিয়ার ছিলো ওটা অনেক বেশি স্ট্রং ছিলো। ঐ জায়গাটা গড়া ছিলো আর এখানে আমাকে স্ট্রাগল করতে হচ্ছে। সেই হিসেবে বলবো আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছি।

তাহলে কি আপনি অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিচ্ছেন না?

জাহারা মিতুঃ পেশা হিসেবে নেয়াটা কি! নেশাটা আমার কাছে পেশা হয়ে গিয়েছে। কেননা আমি অভিনয়ের পাশাপাশি টুকটাক ফ্রিল্যান্সার কাজ করছি। ডিজাইন নিয়ে কাজ করছি। যেটা আমার নিজের ও আমার পরিবারের জন্য দরকার। আমার বাবা নেই। তাই এখন আমার পরিবারের যে ঘাটতি আছে যাবতীয় চাহিদা সেটা আমাকে মেটানোর জন্য কাজ করতে হচ্ছে। আমার যদি কখনো এইরকম সিচুয়েশন তৈরি হয় ব্যাক টু ব্যাক ভালো কাজ পাচ্ছি। সেখান থেকে দেখা যাচ্ছে আমার সংসারটা মোটামুটি টিকে গেছে। তখন আমি এটাকে পুরোপুরি পেশা হিসেবে ধরতে পারি। কিন্তু এই মুহূর্তে তো এটাকে আমি পেশা হিসেবে ধরতে পারিনা। আমাকেও তো দেখতে হবে দিনশেষে দর্শকরা আমাকে গ্রহণ করতে পারছে কিনা। যখন আমি দেখতে পাবো দর্শক আমাকে নিতে পারছেন না তখন কিন্তু আমার আর কাজ করতে মন চাইবে না। আমাকে সসম্মানে বেরিয়ে আসা দরকার।

অনেক সময় আপনাকে বলতে শোনা যায় আপনি অনেকগুলো ছবি ফিরিয়ে দিয়েছেন। এটা কেন?

জাহারা মিতুঃ ফিরিয়ে দিয়েছি তার কারণ আমার মধ্যে কোনো তাড়াহুড়ো নেই। যে এই কাজগুলো করতে হবে। কারণ চলচ্চিত্রে আমার শুরুটা হয়েছে সুপারস্টার শাকিব খানের সঙ্গে। শাকিব খানের নিজস্ব একটা নাম, নিজস্ব একটা জায়গা রয়েছে। যেখানে তার সঙ্গে আমার নামটা জুড়ে যায় তখন সেখানে যেই সেই কাজ করলে ডিরেক্ট ইনডিরেক্ট তাকে অসম্মান করা হয়। শাকিব খান এরপর কলকাতার দেবের পর এখন বাপ্পী চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করছি। আমার মাথায় সবসময় এটা থাকে ক্লাস মেইনটেইন করতে হবে। আপনি ক্লাস মেইনটেইন না করলে তাহলে দেখা যাবে একবার নিচে নেমে গেলে উপরে উঠা অনেক কষ্টের হবে। তারচেয়ে ছোট ছোট করে এগিয়ে যাই সেটাই ভালো।

অনেক তারকা শিল্পীরা ওটিটি প্লাটফর্মে কাজ করছেন। তা এই প্ল্যাটফর্মে আপনার কি কাজ করার আগ্রহ আছে?

জাহারা মিতুঃ অবশ্যই আগ্রহ আছে। আমার শুরুটা কিন্তু হয়েছে ছোটপর্দা থেকে। সব পর্দায় আমার কাছে সমান। এখনো কিন্তু বড়পর্দায় আমার অভিষেক হয়নি। ছোটপর্দা থেকে যখন বড়পর্দায় এসেছি তখন আমি চেয়েছি মানুষ আমাকে একটু ভিন্নভাবে দেখুক। আমি যেহেতু এখন বড়পর্দায় নাম লিখিয়েছি এটার সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। আমি আসলে দেখতে চাই ফিল্মে আমাকে কিভাবে দেখে। এই মুহূর্তে বড়পর্দায় আমার ধ্যানজ্ঞান। তাই এখন ওটিটি প্লাটফর্মে কাজ করার ইচ্ছে নেই। ভবিষ্যৎয়ে কাজ করবো।

সাইবার বুলিং বেড়েছে এটা নিয়ে আপনার মতামত কি?

জাহারা মিতুঃ দেখুন আমার এখানে যখন কেউ খারাপ মন্তব্য করে আমার চোখে পড়লে আমি তাকে ব্লক করে দেই। যে মানুষটা আমার ভালো দেখতে পারে না খারাপ দেখতে পারে না তার কোনো ধরনের রাইট নেই মন্তব্য করার। আমি নিজে এটা মনে করি। আমি জানি আমি কোনো খারাপ ছবি বা খারাপ কিছু পোস্ট করিনি যে তারা আমাকে খারাপ বলতে পারে। যাকে আমি চিনি না জানিনা আমাকে মন্দ বলবে আমি তাকে চিনতেও চাইনা। এদেরকে ব্লক মেরে দিলে আর লেখার সুযোগ পাবে না। এমন সব জায়গা থেকে ব্লক খেলে তার লেখা বন্ধ হয়ে যাবে। এখন তো বাচ্চাদের হাতে হাতে মোবাইল তারাও ফেসবুক ইউজ করে। তাদের মূল্যবোধই তৈরি হয়নি কোনো। দেখবেন সবাই কিন্তু এটা করে না খুব কম মানুষই এই কাজটা করে। জীবনকে ইতিবাচক ভাবে দেখতে হলে নেতিবাচক এইসব মানুষ থেকে নিজেকে দূরে সড়িয়ে নেয়াই তো ভালো।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ/টিএএস