খুলনাবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা, শনিবার   ১৯ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৫ ১৪২৮,   ০৭ জ্বিলকদ ১৪৪২

খুলনাবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

, ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১৭ ২৪ মে ২০২১   আপডেট: ২৩:১০ ২৫ মে ২০২১

উপাচার্য প্রফেসর ডা. মাহাবুবুর রহমান    -ডেইলি বাংলাদেশ

উপাচার্য প্রফেসর ডা. মাহাবুবুর রহমান -ডেইলি বাংলাদেশ

‘ভিসি হওয়ার পর এটাই মিডিয়াতে দেয়া আমার প্রথম ইন্টারভিউ। প্রথমে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা যিনি আমাকে এত বড় একটি দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি কতটুকু কী পারবো জানি না। তবে আমার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবো দেশের মানুষের জন্য ভালো কিছু করতে এবং প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রতিদান দিতে।’

ডেইলি বাংলাদেশের কাছে এমন আশাই ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় খুলনা এর নিয়োগ পাওয়া প্রথম উপাচার্য প্রফেসর ডা. মাহাবুবুর রহমান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এস আই রাসেল।

স্যার, এত বড় একটা দায়িত্ব পেয়ে আপনার অনুভূতি কী?

প্রথমে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। এরপর আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। আমি খুবই গর্ববোধ করছি প্রধানমন্ত্রী তার নামের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মত এত বড় একটা দায়িত্বের জন্য আমার উপর আস্থা রেখেছেন। আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবো তার আস্থার প্রতিদান দিতে। 

দক্ষিণাঞ্চলের সেবাসমূহ সম্পর্কে আপনার মতামত কী?

দীর্ঘদিন থেকেই দেশের দক্ষিণাঞ্চল অনেকটা পিছিয়ে। যদিও এই সরকার আসার পর অনেকটাই এগিয়েছে, উন্নতিও হয়েছে। তবে তা যথেষ্ট না। একটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। একটি প্রকৌশল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়েছে। নতুন করে একটা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। তবে মেডিকেল সেক্টরটা কিছুটা হলেও অবহেলিত ছিল। যদিও অনেক পরে একটা মেডিকেল কলেজে হয়েছে। এরপরও বলবো মেডিকেল কলেজটা স্বয়ংসম্পূর্ণ না। অনেক ডিপার্টমেন্ট কিন্তু এখনো নেই। যেমন ক্যান্সার চিকিৎসা তেমন ভাবে হয় না। রক্ত রোগে চিকিৎসা অতটা উন্নত না। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অনুধাবন করে এ অঞ্চলে একটি উন্নতমানের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেন। যে বিশ্ববিদ্যালয়টি উন্নতমানের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করবে এবং নতুন নতুন সেবা যুক্ত করবে।  

শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মোটিভ কী?

তিনটি অবেজেকিটিভ নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের চিন্তা করা হয়। আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ও মেডিকেল পোস্ট গ্র্যাজুয়েটের শিক্ষার মান বৃদ্ধি। স্বাস্থ্যসেবার প্রসার ঘটানো এবং উন্নত সেবা নিশ্চিত করা মানে আমরা যে সেবা দেই সেটাকে আন্তর্জাতিক মানের তৈরি করা।

কবে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অফিশিয়াল কাজ শুরু হয়?

তিনটি অবজেক্টিভ নিয়ে ২০২০ সালের জুলাই মাসে কেবিনেট মিটিংয়ে খুলনাতে একটা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে এমন প্রপোজাল নেয়া হয়। এরপর ২০২০ সালের আগস্টে খুলনার জেলা প্রশাসক মন্ত্রণালয়ে প্রপোজালটা পাঠান। প্রপোজালটা একই বছর সেপ্টেম্বর মাসে কেবিনেট মিটিংয়ে পাশ হয়। তবে বিল আকারে পাশ হয় ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে। নাম করণ করা হয় শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা।  

খুলনা কী এখনো অবহেলিত থাকবে মনে করেন?

আপনারা জানেন, ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আছে, চট্টগ্রাম বিভাগে আছে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহীতে আছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু খুলনাতে ছিল না। এ বিষয়ে খুলনা কিছুটা হলেও অবহেলিতই ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদে, তার ইচ্ছা ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে এটা বাস্তবায়িত হয়েছে। যা খুলনাবাসী জন্য একটা বিরাট খুশির সংবাদ। 

বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নে আপনার ভিশন কী?

বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের জন্য আমার নিজস্ব কিছু ভিশন অবশ্যই আছে। আমি প্রথমত চাই এটা বিশ্বমানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় হবে। যেখানে চিকিৎসা শিক্ষার পাশাপাশি উন্নতমানের চিকিৎসাসেবাও নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা, কারণ খুলনাতে বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার অতটা প্রসার কিন্তু ঘটেনি। যেমন- কার্ডেওলজি, ক্যানসার, অর্থপ্রেডিক্স, প্যাথেলোজি এই ধরনের বিশেষায়িত সেবা, কিন্তু অতটা প্রসার না।

তিনি বলেন, আমি চাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যে হাসপাতাল থাকবে সেখানে ঢাকার মত চিকিৎসাগুলোর সেবা নিশ্চিত করতে। এখানে বিশ্বমানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চাই। একটা কমপ্লেক্স থাকবে; যেখানে প্রশাসন ভবন থাকবে। একাডেমি থাকবে, যেখানে পড়াশুনা-গবেষণা হবে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে। এটাই আমার মূল ভিশন।

এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হলে কী ঢাকার ওপর চাপ কমবে?

বিশ্ববিদ্যালয়টি এমনভাবে করা হবে যেন কোনোভাবেই চিকিৎসার জন্য দক্ষিণাঞ্চলের মানুষকে ঢাকা না যেতে হয়। সব ধরনের চিকিৎসাই শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাওয়া যাবে। এ অঞ্চলের মেডিকেলের শিক্ষার্থী যারা আছেন তারা এখান থেকে শিক্ষা নিতে পারবেন। চাইলে বাইরে থেকেও আসতে পারবে। বিদেশ থেকেও ছাত্র-ছাত্রী পড়াশুনার জন্য আসবে; সেই মানেরই বিশ্ববিদ্যালয় করতে চাই। 

গবেষণার বিষয়ে বিশেষ কোনো চিন্তাভাবনা আছে কী?

গবেষণায় বাংলাদেশ অনেকটাই পিছিয়ে। বিশ্বমানের গবেষণা এখনো আমরা করতে পারিনি দুই-একটা ছাড়া। তাই এই বিষয়টার ওপর জোর দিতে চাই। যাতে এখানে শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের গবেষণা করতে পারে। আর শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করার বিষয়েও কাজ করবো।

সারাদেশের মানুষ খুলনায় চিকিৎসা নিতে যাবে; এমন কোনো ব্যবস্থা বা পরিকল্পনা রয়েছে কী?

অবশ্যই, আমি চাই সারাদেশের মানুষ চিকিৎসা নিতে শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আসুক। বিশেষ করে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা যেগুলো আছে সেগুলোর জন্য মানুষ যাতে খুলনায় আসে। 

এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে চিকিৎসাসেবা নিতে বিদেশ যাওয়ার হার কমবে মনে করেন?

আমরা যদি সেই মানের স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারি, সব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে মানুষ কষ্ট করে কেন বিদেশ যাবে। আর আমরা কম টাকায় শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারবো। ঘরে থেকে কেউ বিশ্বমানের সেবা পেলে বিদেশ যাবে না। সেই ব্যাপারটাই আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।

পড়াশুনার বিষয়টি কেমন হবে?

এখানে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট করানো হবে। এমফিল, এমডি, এমএইচ, পিএইচডি- এর ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স থাকবে। খুলনা বেল্টের মানে খুলনা বিভাগের যত মেডিকেল কলেজ, নার্সিং ইন্সটিটিউট, টেকনোলজি ইন্সটিটিউট আছে সেগুলো অ্যাফিলিয়েটেড থাকবে। 

অ্যাফিলিয়েটেড প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে কীভাবে কাজ করবেন?

বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাফিলিয়েটেড প্রতিষ্ঠানগুলোর পড়াশুনা মান অনুযায়ী হচ্ছে কি-না সেদিকে লক্ষ্য রাখাও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা অন্যতম কাজ। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মনিটরিংতো সব সময় থাকবেই। এই মনিটরিং যখন নিশ্চিত হবে তখন অবশ্যই ভালো পড়াশুনার মান ও চিকিৎসার মান উন্নত হবে। এর জন্য কমিটি থাকবে। বিভিন্ন বিভাগের জন্য আলাদা আলাদা কমিটি থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর নামে প্রথম কোনো মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হওয়া আপনার জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং আর তা কীভাবে দেখছেন?

এটা আমার জন্য অনেক বড় একটা দায়িত্ব এবং চ্যালেঞ্জও।  আমরা যদি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা না করি তাহলে দেশে এগোবে কীভাবে? কাউকে না কাউকেতো দায়িত্ব নিতে হবে। যেই চ্যালেঞ্জ আমি নিয়েছি এবং সবার সহযোগিতায় তা বাস্তবায়ন হবে। শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় খুলনার মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার। আমার সর্বোচ্চ দিয়ে এই উপহার আগলে রাখবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ/আরএস